হারাম-হালাল

চুরি করা হারাম

আল্লাহ তা‘আলা এরশাদ করেন,

وَالسَّارِقُ وَالسَّارِقَةُ فَاقْطَعُوا أَيْدِيَهُمَا جَزَاءً بِمَا كَسَبَا نَكَالاً مِنَ اللهِ وَاللهُ عَزِيزٌ حَكِيمٌ–

‘পুরুষ ও নারী চোর চুরি করলে তোমরা তাদের উভয়ের হাত কেটে দাও। এটা তাদের কৃতকর্মের ফল এবং আল্লাহ কর্তৃক নির্ধারিত আদর্শদন্ড। আল্লাহ পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়’ (মায়েদা ৩৮)।

চুরির মধ্যে মহাচুরি হ’ল, হজ্জ ও ওমরার উদ্দেশ্যে বায়তুল্লাহ শরীফে আগমনকারীদের দ্রব্যাদি চুরি করা। পৃথিবীর সর্বোত্তম স্থানে চুরি করা আল্লাহর বিধানের প্রতি চরমভাবে বৃদ্ধাঙ্গুলী প্রদর্শন। এতে আল্লাহর বিধানকে থোড়াই কেয়ার করা হয়। এজন্য মহানবী (ছাঃ) সূর্য গ্রহণের ছালাতের ঘটনায় বলেছিলেন,

لَقَدْ جِىءَ بِالنَّارِ وَذَلِكُمْ حِينَ رَأَيْتُمُونِى تَأَخَّرْتُ مَخَافَةَ أَنْ يُصِيبَنِى مِنْ لَفْحِهَا وَحَتَّى رَأَيْتُ فِيْهَا صَاحِبَ الْمِحْجَنِ يَجُرُّ قُصْبَهُ فِى النَّارِ، كَانَ يَسْرِقُ الْحَاجَّ بِمِحْجَنِهِ فَإِنْ فُطِنَ لَهُ قَالَ إِنَّمَا تَعَلَّقَ بِمِحْجَنِى، وَإِنْ غُفِلَ عَنْهُ ذَهَبَ بِهِ–

‘(আমার সামনে) জাহান্নামকে হাযির করা হয়। এটা সেই সময়ে হয়েছিল যখন তোমরা আমাকে পিছু হটতে দেখছিলে, আমি উহার লেলিহান শিখায় আক্রান্ত হওয়ার ভয়ে পিছিয়ে আসছিলাম। এমনি সময় আমি উহার মধ্যে একজন বাঁকা মাথা বিশিষ্ট লাঠিওয়ালাকে দেখতে পেলাম, যে আগুনের মধ্যে তার পেট ধরে টানছে। সে বাঁকা মাথাবিশিষ্ট লাঠি দিয়ে হাজীদের জিনিসপত্র চুরি করত। ধরা পড়লে বলত, আমার লাঠির সাথে চলে এসেছিল বলে এমন হয়েছে। আর না ধরা পড়লে তা নিয়ে কেটে পড়ত’।[1]

সরকারী সম্পদ চুরি করাও বড় আকারের চুরির অন্তর্ভুক্ত। কিছু লোক এ জাতীয় চুরিতে অভ্যস্ত। তারা বলে থাকে, অন্যরা চুরি করে তাই আমরাও করি। অথচ তারা জানেনা, এতে সকল মুসলমান বা জনগণের সম্পদ চুরি করা হচ্ছে। আর যারা আল্লাহকে ভয় করে না তাদের কাজ কোন দলীল হতে পারে না; তাদের অনুকরণও করা যাবে না।

কেউ কেউ কাফিরদের সম্পদ এ যুক্তিতে চুরি করে যে, লোকটা কাফির, তার সম্পদ মুসলমানের জন্য মুবাহ। অথচ তাদের ধারণা ভ্রান্তিপূর্ণ। কেননা যে সকল কাফির মুসলমানদের সাথে যুদ্ধে লিপ্ত কেবল তাদের সম্পদ মুসলমানদের জন্য বৈধ। কাফিরদের সকল ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান এর অন্তর্ভুক্ত নয়।

অন্য লোকের পকেট থেকে কিছু তুলে নেওয়া বা পকেটমারাও চুরি। অনেকেই কারো সঙ্গে দেখা করতে তার বাড়ীতে যায় এবং চুরি করে আসে। অনেকে মেহমানদের ব্যাগ হাতড়িয়ে টাকা-পয়সা নিয়ে নেয়। আবার অনেক চোর বিপণীবিতানগুলোতে প্রবেশ করে পকেট কিংবা থলিতে দু’একটা দ্রব্য তুলে নেয়। অনেক মহিলা আছে, যারা তাদের পরিধেয়ের মধ্যে অনেক কিছুই লুকিয়ে নিয়ে যায়। কেউ কেউ সামান্য কিংবা সস্তা কোন কিছু চুরি করাকে অপরাধ মনে করেন না। অথচ রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেছেন,

لَعَنَ اللهُ السَّارِقَ، يَسْرِقُ الْبَيْضَةَ فَتُقْطَعُ يَدُهُ، وَيَسْرِقُ الْحَبْلَ فَتُقْطَعُ يَدُهُ–

‘সে চোরের উপর আল্লাহর লা‘নত, যে একটি ডিম চুরি করার ফলে তার হাত কাটা হয় এবং যে এক গাছি রশি চুরি করার ফলে তার হাত কাটা যায়’।[2]

যে যাই চুরি করুক না কেন আল্লাহর নিকটে তওবা করার সাথে সাথে তাকে ঐ চুরির দ্রব্য মালিকের নিকটে ফিরিয়ে দেওয়া ওয়াজিব। চাই প্রকাশ্যে হৌক কিংবা গোপনে হৌক, সরাসরি হৌক কিংবা কারো মাধ্যমে হৌক। কিন্তু অনেক চেষ্টার পরও যদি মালিক কিংবা তার ওয়ারিছদের খুঁজে না পাওয়া যায় তাহলে চুরির মাল মালিকের নামে দান করে দিতে হবে।

– মুহাম্মাদ ছালেহ আল-মুনাজ্জিদ

 


[1]. মুসলিম, মিশকাত হা/২৯৪২।

[2]. বুখারী, মুসলিম; মিশকাত হা/৩৫৯২।


Discover more from ইসলামিক অনলাইন মিডিয়া

Subscribe to get the latest posts sent to your email.

মন্তব্য করুন

আরও দেখুন
Close
Back to top button