হারাম-হালাল

শারঈ ওযর ব্যতীত স্ত্রী কর্তৃক স্বামীর শয্যা গ্রহণ অস্বীকার করা হারাম

আবু হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেছেন,

إِذَا دَعَا الرَّجُلُ امْرَأَتَهُ إِلَى فِرَاشِهِ فَأَبَتْ، فَبَاتَ غَضْبَانَ عَلَيْهَا، لَعَنَتْهَا الْمَلاَئِكَةُ حَتَّى تُصْبِحَ-

‘যখন কোন স্বামী তার স্ত্রীকে স্বীয় শয্যা গ্রহণ বা দৈহিক মিলনের জন্য আহবান জানায়, কিন্তু স্ত্রী তা অস্বীকার করায় স্বামী তার উপর ক্রুদ্ধ হয়ে রাত কাটায়, তখন ফেরেশতাগণ সকাল পর্যন্ত ঐ স্ত্রীর উপর অভিশাপ দিতে থাকে’।[1]

অনেক মহিলাকেই দেখা যায় স্বামী-স্ত্রীতে একটু খুনসুটি হলেই স্বামীকে শাস্তি দেয়ার মানসে তার সঙ্গে দৈহিক মেলামেশা বন্ধ করে বসে। এতে অনেক রকম ক্ষতি দেখা দেয়। পারিবারিক অশান্তির সৃষ্টি হয়। স্বামী দৈহিক তৃপ্তির জন্য অবৈধ পথও বেছে নেয়। অন্য স্ত্রী গ্রহণের চিন্তাও তাকে পেয়ে বসে। এভাবে বিষয়টি হিতে বিপরীত হয়ে দাঁড়াতে পারে। সুতরাং স্ত্রীর কর্তব্য হবে স্বামী ডাকামাত্রই তার ডাকে সাড়া দেওয়া। রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেছেন, إِذَا دَعَا الرَّجُلُ امْرَأَتَهُ إِلىَ فِرَاشِهِ فَلْتُجِبْ وَإِنْ كَانَتْ عَلَى ظَهْرِ قَتَبٍ ‘যখন কোন পুরুষ তার স্ত্রীকে তার সঙ্গে দৈহিক মিলনের জন্য ডাকবে, তখনই যেন সে তার ডাকে সাড়া দেয়। এমনকি সে জ্বলন্ত উনুনের পাশে থাকলেও’।[2]

স্বামীরও কর্তব্য হবে, স্ত্রী রোগাক্রান্ত, গর্ভবতী কিংবা অন্য কোন অসুবিধায় পতিত হলে তার অবস্থা বিবেচনা করা। এতে করে তাদের মধ্যে সৌহার্দ বজায় থাকবে এবং মনোমালিন্য সৃষ্টি হবে না।

– মুহাম্মাদ ছালেহ আল-মুনাজ্জিদ

 


[1]. বুখারী, মুসলিম; মিশকাত হা/৩২৪৬।

[2]. যাওয়াইদুল বায্যার ২/১৮১ পৃঃ; ছহীহুল জামে‘ হা/৫৪৭।

আরও দেখুন:  প্রতিবেশীর সাথে খারাপ আচরণ করা হারাম

এ সম্পর্কিত আরও পোস্ট

মন্তব্য করুন

Back to top button