হারাম-হালাল

পুংমৈথুন বা সমকামিতা হারাম

অতীতে হযরত লূত (আঃ)-এর জাতি পুংমৈথুনে অভ্যস্ত ছিল। তাদের প্রসঙ্গে আল্লাহ তা‘আলা বলেন,

وَلُوطًا إِذْ قَالَ لِقَوْمِهِ إِنَّكُمْ لَتَأْتُونَ الْفَاحِشَةَ مَا سَبَقَكُمْ بِهَا مِنْ أَحَدٍ مِنَ الْعَالَمِينَ- أَئِنَّكُمْ لَتَأْتُونَ الرِّجَالَ وَتَقْطَعُونَ السَّبِيلَ وَتَأْتُونَ فِيْ نَادِيكُمُ الْمُنْكَرَ

‘লূতের কথা স্মরণ করুন! যখন তিনি তাঁর কওমকে বললেন, তোমরা নিশ্চয়ই এমন অশ্লীল কাজ করছ যা তোমাদের পূর্বে বিশ্বে আর কেউ করেনি, তোমরাই তো পুরুষে উপগত হচ্ছ, তোমরাই তো রাহাজানি করছ, তোমরাই তো ভরা মজলিসে অন্যায় কাজ করছ’ (আনকাবূত ২৮-২৯)

যেহেতু এই অপরাধ ছিল জঘন্য, অত্যন্ত মারাত্মক ও কদর্যপূর্ণ তাই আল্লাহ তা‘আলা লূত (আঃ)-এর জাতিকে একবারেই চার প্রকার শাস্তি দিয়েছিলেন। এ জাতীয় এতগুলি শাস্তি একবারে অন্য কোন জাতিকে ভোগ করতে হয়নি। ঐ শাস্তিগুলি ছিল- তাদের চক্ষু উৎপাটন, উঁচু জনপদকে নীচু করে দেয়া, অবিরাম কঙ্কর পাত ও হঠাৎ নিনাদের ধ্বনি আগমন।

পুংমৈথুনের শাস্তি হিসাবে ইসলামী শরী‘আতের পন্ডিতগণের অগ্রাধিকার প্রাপ্ত মত হ’ল, স্বেচ্ছায় মৈথুনকারী ও মৈথুনকৃত ব্যক্তি উভয়কেই তরবারীর আঘাতে শিরচ্ছেদ করতে হবে। ইবনু আববাস (রাঃ) মারফূ সূত্রে রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) থেকে বর্ণনা করেছেন যে,

مَنْ وَجَدْتُمُوهُ يَعْمَلُ عَمَلَ قَوْمِ لُوطٍ فَاقْتُلُوا الْفَاعِلَ وَالْمَفْعُولَ بِهِ

‘তোমরা লূতের সম্প্রদায়ের ন্যায় পুংমৈথুনের কাজ কাউকে করতে দেখলে মৈথুনকারী ও মৈথুনকৃত উভয়কেই হত্যা করবে’।[1]

মৈথুন বা সমকামিতার প্রাকৃতিক কুফলও কম নয়। এসব নির্লজ্জ বেহায়াপনার কারণেই আমাদের কালে এমন কিছু রোগ-ব্যাধি মহামারী আকারে দেখা দিয়েছে যা পূর্বকালে ছিল না। বর্তমান পৃথিবীর মহাত্রাস ঘাতক ব্যাধি এইডস যার জ্বলন্ত উদাহরণ। এইডসই প্রমাণ করে যে, সমকামিতা রোধে ইসলামের কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ যথার্থ হয়েছে।

– মুহাম্মাদ ছালেহ আল-মুনাজ্জিদ



[1]. তিরমিযী, ইবনু মাজাহ; মিশকাত হা/৩৫৭৫।

আরও দেখুন:  শারঈ কারণ ব্যতীত স্ত্রী কর্তৃক স্বামীর নিকট তালাক প্রার্থনা করা হারাম

এ সম্পর্কিত আরও পোস্ট

মন্তব্য করুন

Back to top button