ইসলামের পরিচয়

ইসলামের বিধান চিরকল্যাণকর

ভূমিকা :
ইসলাম মানব জাতির জন্য সর্বোত্তম জীবন ব্যবস্থা। এর বিধানসমূহ কেবল তত্ত্বগত বুলি নয় বরং তা বিশ্ব মানবতার বাস্তবমুখী ও কল্যাণকামী এক চিরন্তন সংবিধান। ইসলামের বিধান সমূহ যেমন ব্যক্তির জন্য কল্যাণকর, তেমনি সামষ্টিক পর্যায়েও এ বিধানসমূহ অনন্য এক কল্যাণকর ব্যবস্থা। ইসলাম সর্বকালের সকল মানুষের জন্য সর্বোত্তম জীবন ব্যবস্থা। কারণ এর বিধান সবচেয়ে বাস্তবমুখী ও জনকল্যাণকর, যা বিশেষ কোন জাতি-গোষ্ঠীর জন্য নির্ধারিত নয়। তাই বলা যায়, ইসলামী বিধান কার্যকর হলে তার ফলাফল অবশ্যই ইতিবাচক হবে এবং অপরাধের হার আশাতীতভাবে হরাস পাবে। বিশ্বের যে কোন দেশে ইসলামের বিধান কার্যকর হলে সমাজে শান্তি-শৃঙ্খলা ফিরে আসবে এবং সমাজে বসবাসকারী সকল ধর্মের মানুষ মানসিক যন্ত্রণা থেকে মুক্তি পেয়ে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলবে। কারণ আল্লাহর বিধান সত্য  ও ন্যায়ে পরিপূর্ণ। মহান আল্লাহ বলেন, وَتَمَّتْ كَلِمَتُ رَبِّكَ صِدْقًا وَعَدْلًا لَا مُبَدِّلَ لِكَلِمَاتِهِ وَهُوَ السَّمِيعُ الْعَلِيمُ ‘তোমার রবের কথা সত্য ও ন্যায়ে পরিপূর্ণ। এ কথার পরিবর্তনকারী কেউ নেই। তিনি সর্বশ্রোতা ও সর্বজ্ঞ’ (আন‘আম ৬/১১৫)। মানুষ আশরাফুল মাখলূকাত। কিন্তু সৃষ্টির সেরা জীব হলেও তার জ্ঞান সসীম ও সীমাবদ্ধ। আর এই সীমাবদ্ধ জ্ঞান দিয়ে মানুষ কস্মিনকালেও কোন বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছতে পারে না। পারে না সত্য-মিথ্যা, ন্যায়-অন্যায়, হালাল-হারাম প্রভৃতি বিষয়ে নির্ভুল রূপরেখা পেশ করতে। তাই সমাজ পরিচালনার জন্য মানুষ মনগড়া বিভিন্ন আইন তৈরী করে আবার নিজেই সেই আইন ভঙ্গ করে, সংশোধন আনে এবং পরিবর্তন করে। এখানেই মানুষের বড় দুর্বলতা। মানুষ যে কত অসহায় তা বলার অপেক্ষা রাখে না। অপরদিকে মানুষের রচিত বিধান বা দন্ডবিধি কতটা যে বর্বর, নির্মম ও ধ্বংসাত্মক তা আজ বিশ্ববাসীর কাছে দিবালোকের ন্যায় স্পষ্ট হয়ে ফুটে উঠেছে। ফলশ্রুতিতে মানুষ আজ এ বিধানের বিরুদ্ধে কথা বলা শুরু করেছে। কারণ এ বিধানে কল্যাণের চেয়ে অকল্যাণই বেশী পরিদৃষ্ট হয়। বর্তমান বিশ্বে বিভিন্ন দেশে সামাজিক অশান্তি ও বিশৃঙ্খলার  প্রধানতম কারণ হচ্ছে মানুষের রচিত বিধান বা দন্ডবিধি। এ বিধান অপরাধ নির্মূল করে না। অপরাধী সংশোধনও হয় না বরং অপরাধীদের হিংস্র ও ক্ষিপ্র করে তোলে। এ বিধানে ব্যভিচারী, চোর ও মধ্যপায়ীদের প্রকৃত শাস্তি হয় না। হয়না হত্যাকারী, সন্ত্রাসী ও ধর্ষকের প্রকৃত শাস্তি। উপরন্তু এ বিধান চোরকে পাকা চোর, সন্ত্রাসীকে বড় সন্ত্রাসী হিসাবে গড়ে তোলে। তাই সঙ্গতকারণে মানুষ আজ ইসলামের দিকে ধাবিত হচ্ছে। কারণ ইসলামের বিধান চিরকল্যাণকর। নিমেণ ইসলামের বিধানের কয়েকটি দিক তুলে ধরা হল।
কিছাছের বিধান :
قصاص এর শাব্দিক অর্থ সমপরিমাণ বা অনুরূপ। অন্যের প্রতি যতটুকু যুলুম করা হয়েছে তার সমপরিমাণ প্রতিশোধ গ্রহণ করা তার পক্ষে জায়েয। এর চাইতে বেশী কিছু করা জায়েয নয়। কিছাছের বিধান সম্পর্কে মহান আল্লাহ বলেন, يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا كُتِبَ عَلَيْكُمُ الْقِصَاصُ فِي الْقَتْلَى الْحُرُّ بِالْحُرِّ وَالْعَبْدُ بِالْعَبْدِ وَالْأُنْثَى بِالْأُنْثَى فَمَنْ عُفِيَ لَهُ مِنْ أَخِيهِ شَيْءٌ فَاتِّبَاعٌ بِالْمَعْرُوفِ وَأَدَاءٌ إِلَيْهِ بِإِحْسَانٍ ذَلِكَ تَخْفِيفٌ مِنْ رَبِّكُمْ وَرَحْمَةٌ فَمَنِ اعْتَدَى بَعْدَ ذَلِكَ فَلَهُ عَذَابٌ أَلِيمٌ ‘হে ঈমানদারগণ! তোমাদের প্রতি নিহতদের ব্যাপারে কিছাছ গ্রহণ করা ফরয করা হয়েছে। স্বাধীন ব্যক্তির ক্ষেত্রে স্বাধীন ব্যক্তি, দাসের ক্ষেত্রে দাস এবং নারীর ক্ষেত্রে নারীর কিছাছ গ্রহণ করবে। অতঃপর তার ভাইয়ের তরফ থেকে যদি কাউকে কিছুটা মাফ করে দেয়া হয়, তাহ’লে যথাযথ বিধির অনুসরণ করবে এবং ভালভাবে তাকে প্রদান করতে হবে। এটা তোমাদের পালনকর্তার তরফ থেকে সহজ এবং বিশেষ অনুগ্রহ। এরপরও যে ব্যক্তি বাড়াবাড়ি করে তার জন্য রয়েছে বেদনাদয়ক শাস্তি’ (বাক্বারাহ ২/১৭৮)। কিছাছের বিধান মানুষের কল্যাণে বিধিবদ্ধ করা হয়েছে। এ বিধানের মধ্যে অসংখ্য মানুষের সুস্থ জীবন লুক্কায়িত রয়েছে। সমাজ বা রাষ্ট্রে অন্যায় ও নৃশংসভাবে মানুষ হত্যা হরাস করতে হলে এ বিধানের কোন বিকল্প নেই। এ সম্পর্কে আল্লাহ বলেন, وَلَكُمْ فِي الْقِصَاصِ حَيَاةٌ يَا أُولِي الْأَلْبَابِ لَعَلَّكُمْ تَتَّقُونَ ‘হে বুদ্ধিমানগণ! কিছাছের মধ্যে তোমাদের জন্য জীবন রয়েছে। যাতে তোমরা সাবধান হতে পার’ (বাক্বারাহ ২/১৭৯)
এ বিধান বাস্তবায়ন হলে সমাজে হত্যার পরিমাণ কমে যাবে। অন্যরা সতর্ক হবে। শান্তি-শৃঙ্খলা ফিরে আসবে। আর তা কার্যকর করার দায়িত্ব সরকারের। কোন সাম্রদায়িক গোষ্ঠী কিংবা কোন চরমপন্থী মহলের দায়িত্ব নয়। রাষ্ট্রীয়ভাবে কার্যকর হওয়া দেশ সমূহ এর সুফল ভোগ করছে। কিছাছের বিধান ইতিপূর্বে তাওরাতের অনুসারীদের উপর প্রযোজ্য ছিল। কিন্তু ইহুদীরা এ বিধানকে নিজ স্বার্থে পরিবর্তন করেছিল। যেমন মহান আল্লাহ বলেন,
وَكَتَبْنَا عَلَيْهِمْ فِيهَا أَنَّ النَّفْسَ بِالنَّفْسِ وَالْعَيْنَ بِالْعَيْنِ وَالْأَنْفَ بِالْأَنْفِ وَالْأُذُنَ بِالْأُذُنِ وَالسِّنَّ بِالسِّنِّ وَالْجُرُوحَ قِصَاصٌ فَمَنْ تَصَدَّقَ بِهِ فَهُوَ كَفَّارَةٌ لَهُ وَمَنْ لَمْ يَحْكُمْ بِمَا أَنْزَلَ اللَّهُ فَأُولَئِكَ هُمُ الظَّالِمُونَ
‘আমি এই গ্রন্থে তাদের প্রতি লিখে দিয়েছি যে, প্রাণের বিনিময়ে প্রাণ, চক্ষুর বিনিময়ে চক্ষু, নাকের বিনিময়ে নাক, কানের বিনিময়ে কান, দাঁতের বিনিময়ে দাঁত এবং যখম সমূহের বিনিময়ে সমান যখম। অতঃপর যে ক্ষমা করবে তার পাপ মোচন হবে। যে ব্যক্তি আল্লাহ যা অবতীর্ণ করেছেন তদনুযায়ী ফায়ছালা করে না, মূলতঃ তারাই যালেম’ (মায়েদা ৫/৪৫)। তাই বলা যায় যে, কিছাছের বিধান একটি সার্বজনীন বিধান। যা রাষ্ট্রীয়ভাবে সকল দেশে বাস্তবায়ন করা অত্যন্ত যরূরী।
চোরের শাস্তির বিধান : 
চুরি করা একটি নিকৃষ্ট পেশা। যা সমাজ ও সভ্যতা বিবর্জিত কাজ। এ ঘৃণ্য ও নিকৃষ্ট কর্মের সাথে যদি কেউ সম্পৃক্ত হয় তাহলে ইসলাম তার ব্যাপারে সুন্দর ফায়ছালা প্রদান করেছে। যেমন আল্লাহ বলেন, وَالسَّارِقُ وَالسَّارِقَةُ فَاقْطَعُوا أَيْدِيَهُمَا جَزَاءً بِمَا كَسَبَا نَكَالًا مِنَ اللَّهِ وَاللَّهُ عَزِيزٌ حَكِيمٌ ‘পুরুষ চোর আর নারী চোর তাদের যে কেউ চুরি করলে তোমরা তাদের উভয়ের হাত কেটে দিবে। এটা তাদের কৃতকর্মের ফল। যা আল্লাহ কর্তৃক নির্ধারিত আদর্শদন্ড। আর তিনি পরাক্রমশালী ও প্রজ্ঞাময়’ (মায়েদা ৫/৩৮)। ধনী হোক আর গরীব হোক, উঁচু বংশ হোক আর নিচু বংশ হোক নারী-পুরুষ যে কেউ চুরি করলে অতঃপর তা যদি প্রকাশ পায় তাহলে অবশ্যই তার ডান হাত গিট থেকে কর্তন করতে হবে। নবুওয়াতের যুগে এক সম্ভ্রান্ত বংশের মহিলা চুরি করলে শাস্তি বাস্তবায়নে টালবাহনা করলে রাসূল (ছাঃ) ধমকের স্বরে বলেন, আমার মেয়ে ফাতেমাও যদি চুরি করত আমি মুহাম্মাদ (ছাঃ) তবুও তার হাত কেটে দিতাম’ (ছহীহ বুখারী হা/৩৪৭৫ ও ৪৩০৪; মুসলিম হা/৪৫০৫; মিশকাত হা/৩৬১০)। কারণ এটি আল্লাহর বিধান। এখানে শিথিলতার কোন সুযোগ নেই। চোরের শাস্তির এই শরিয়তী বিধান যদি সরকার বাস্তবায়ন করে তাহলে চোরেরা সাবধান হবে এবং চুরির পরিমাণ হরাস পাবে।
অন্যদিকে কেউ কেউ সামান্য কিছু জিনিস চুরি করাকে তেমন অপরাধ বলে মনে করেন না। অথচ এ প্রসঙ্গে রাসূল (ছাঃ) বলেছেন, لَعَنَ اللَّهُ السَّارِقَ يَسْرِقُ الْبَيْضَةَ فَتُقْطَعُ يَدُهُ وَيَسْرِقُ الْحَبْلَ فَتُقْطَعُ يَدُهُ. সেই চোরের উপর আল্লাহর লা‘নত বা অভিশাপ দিয়েছেন যে একটি ডিম চুরি করার ফলে তার হাত কাটা হয়। এমনিভাবে এক গাছি রশি চুরি করার ফলে তার হাত কাটা যায়’ (ছহীহুল বুখারী হা/৬৭৮৩, ‘দন্ডবিধি’ অধ্যায়-৯০, অনুচ্ছেদ-৮)
সন্ত্রাসের শাস্তির বিধান :
ইসলাম শান্তির ধর্ম। এ ধর্মে সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের কোন স্থান নেই। মানুষকে নিরাপত্তা দান করা একজন মুসলমানের প্রধান কাজ। যার যবান ও হাত অন্যের জন্য নিরাপদ কেবল সেই মুসলিম। একজন মুসলিম অন্যের নিরাপত্তার জন্য কাজ করে, প্রয়োজনে নিজের জীবন পর্যন্ত বিলিয়ে দেয়। আল্লাহ বলেন, مَنْ قَتَلَ نَفْسًا بِغَيْرِ نَفْسٍ أَوْ فَسَادٍ فِي الْأَرْضِ فَكَأَنَّمَا قَتَلَ النَّاسَ جَمِيعًا وَمَنْ أَحْيَاهَا فَكَأَنَّمَا أَحْيَا النَّاسَ جَمِيعًا ‘যে কেউ প্রাণের বিনিময়ে প্রাণ অথবা পৃথিবীতে অকর্ম সৃষ্টি করা ছাড়া কাউকে হত্যা করে, সে যেন সমস্ত মানবমন্ডলীকে হত্যা করল। আর যে কারো জীবন রক্ষা করল সে যেন সবার জীবন রক্ষা করল’ (মায়েদা ৫/৩২)। অগত্যা কেউ যদি সন্ত্রাসী কর্মকান্ডে জড়িয়ে পড়ে শরীয়তে তার কঠোর শাস্তির বিধান বর্ণিত হয়েছে। আল্লাহ বলেন, إِنَّمَا جَزَاءُ الَّذِينَ يُحَارِبُونَ اللَّهَ وَرَسُولَهُ وَيَسْعَوْنَ فِي الْأَرْضِ فَسَادًا أَنْ يُقَتَّلُوا أَوْ يُصَلَّبُوا أَوْ تُقَطَّعَ أَيْدِيهِمْ وَأَرْجُلُهُمْ مِنْ خِلَافٍ أَوْ يُنْفَوْا مِنَ الْأَرْضِ ذَلِكَ لَهُمْ خِزْيٌ فِي الدُّنْيَا وَلَهُمْ فِي الْآخِرَةِ عَذَابٌ عَظِيمٌ ‘যারা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের সাথে সংগ্রাম করে এবং পৃথিবীতে হাঙ্গামা সৃষ্টি করতে সচেষ্ট হয় তাদের শাস্তি হচ্ছে এই যে, তাদেরকে হত্যা করা হবে অথবা শুলে চড়ানো হবে অথবা তাদের হস্তপদ সমূহ বিপরীত দিকে হতে কেটে দেয়া হবে অথবা দেশ থেকে বহিষ্কার করা হবে। আর এটি হল তাদের জন্য পার্থিব লাঞ্ছনা আর পরকালে তাদের জন্য রয়েছে কঠোর শাস্তি’ (মায়েদা ৫/৩৩)
ব্যভিচারের শাস্তির বিধান :
ইসলামে ব্যভিচারের শাস্তি সর্বাধিক কঠোর। এতদপ্রসঙ্গে ইসলামী আইনে এই অপরাধ প্রমাণের জন্য শর্তাবলীও অত্যন্ত কড়া আরোপ করা হয়েছে। যাতে সামান্য ত্রুটি থাকলে অথবা সন্দেহ দেখা দিলে ব্যভিচারের চরম শাস্তি হদ মাফ হয়ে অপরাধ অনুযায়ী শুধু দন্ডমূলক শাস্তি অবশিষ্ট থেকে যায়। অন্যান্য ব্যাপারাদিতে দুই জন পুরুষ অথবা একজন পুরুষ ও দুই জন নারীর সাক্ষ্য অপরাধ প্রমাণের জন্য যথেষ্ট হয়ে যায়। কিন্তু ব্যভিচারের হদ জারী করার জন্য চার জন পুরুষ সাক্ষীর চাক্ষুস ও দ্ব্যর্থহীন সাক্ষ্য যরূরী। যেমন আল্লাহ বলেন,  وَاللَّاتِي يَأْتِينَ الْفَاحِشَةَ مِنْ نِسَائِكُمْ فَاسْتَشْهِدُوا عَلَيْهِنَّ أَرْبَعَةً مِنْكُمْ فَإِنْ شَهِدُوا فَأَمْسِكُوهُنَّ فِي الْبُيُوتِ حَتَّى يَتَوَفَّاهُنَّ الْمَوْتُ أَوْ يَجْعَلَ اللَّهُ لَهُنَّ سَبِيلًا ‘আর তোমাদের নারীদের মধ্যে যারা ব্যভিচারিণী তাদের বিরুদ্ধে তোমাদের মধ্য থেকে চার জন পুরুষকে সাক্ষী হিসাবে তলব কর। অতঃপর তারা যদি সাক্ষ্য প্রদান করে তবে সংশ্লিষ্টদেরকে গৃহে আবদ্ধ রাখ, যে পর্যন্ত মৃত্যু তাদেরকে তুলে না নেয় অথবা আল্লাহ তাদের জন্য অন্য কোন পথ নির্দেশ না করেন’ (নিসা ৪/১৫)
উল্লেখ্য যে, এই সাক্ষ্যে দ্বিতীয় সাবধানতা ও কঠোরতা এই যে, যদি সাক্ষ্যের যরূরী কোন শর্ত অনুপস্থিত থাকার কারণে সাক্ষ্য প্রত্যাখ্যাত হয়, তবে সাক্ষ্যদাতাদের নিস্তার নেই। ব্যভিচারের মিথ্যা অপবাদ আরোপের অভিযোগে অভিযুক্ত করে তাদের উপর হদ্দে কাযার জারি করা হবে অর্থাৎ আশিটি বেত্রাঘাত করা হবে। তাই সামান্য সন্দেহ থাকলে কোন ব্যক্তি এই সাক্ষ্যদানে অগ্রসর হবে না। যদি সুস্পষ্ট ব্যভিচারের প্রমাণ থাকে এবং সাক্ষ্যপ্রমাণ দ্বারা দুই জন পুরুষ-নারীর অবৈধ অবস্থায় পরিলক্ষিত হওয়া প্রমাণিত হয়, তাহলে বিচারক আল্লাহর বিধান তথা ব্যভিচারের শাস্তির বিধান কার্যকর করবেন। কারণ এটা আল্লাহর নির্দেশ। আল্লাহ বলেন, الزَّانِيَةُ وَالزَّانِي فَاجْلِدُوا كُلَّ وَاحِدٍ مِنْهُمَا مِائَةَ جَلْدَةٍ وَلَا تَأْخُذْكُمْ بِهِمَا رَأْفَةٌ فِي دِينِ اللَّهِ إِنْ كُنْتُمْ تُؤْمِنُونَ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الْآخِرِ وَلْيَشْهَدْ عَذَابَهُمَا طَائِفَةٌ مِنَ الْمُؤْمِنِينَ ‘ব্যভিচারিণী নারী ব্যভিচারী পুরুষ তাদের প্রত্যেককে একশ করে বেত্রাঘাত কর। আল্লাহর বিধান কার্যকরকরণে তাদের প্রতি দয়া যেন তোমাদেরকে প্রভাবান্বিত না করে, যদি তোমরা আল্লাহ ও পরকালে বিশ্বাসী হয়ে থাক। মুমিনদের একটি দল যেন তাদের শাস্তি প্রত্যেক্ষ করে’ (নূর ২৪/২)। একশ বেত্রাঘাতের উল্লেখিত শাস্তি শুধু অবিবাহিত পুরুষ ও নারীর জন্য নির্দিষ্ট। কিন্তু বিবাহিতদের শাস্তি প্রস্তারাঘাতে হত্যা করা। ব্যভিচারের শাস্তি প্রয়োগ করার সময় মুসলমানদের একটি দল উপস্থিত থাকা বাঞ্ছনীয়। ইসলামের সব শাস্তি বিশেষতঃ হুদূদ প্রকাশ্য স্থানে প্রয়োগ করার পদ্ধতি প্রচলিত আছে, যাতে দর্শকরা শিক্ষা লাভ করে। এ কারণেই ব্যভিচারের শাস্তি শুধু প্রকাশ্য স্থানে প্রয়োগ করে ইসলাম ক্ষান্ত হয়নি, বরং মুসলমানদের একটি দলকে তাতে উপস্থিত থাকার ও অংশগ্রহণ করার আদেশ দেয়া হয়েছে। রাষ্ট্রীয়ভাবে ব্যভিচারের শাস্তির বিধান জনগণের সামনে প্রকাশ্য ময়দানে কার্যকর হলে সমাজ থেকে যেনা-ব্যভিচার, অনাচার ও অবৈধ মেলামেশা সহজেই হরাস পাবে। মানুষ সাবধান হবে। ব্যক্তি ও সমাজ সুন্দর হবে। নারীদের পথচলা নিশ্চিন্ত হবে।
সুদ হারাম হওয়ার বিধান :
আল্লাহ সুদকে হারাম করেছেন এবং ব্যবসাকে হালাল করেছেন। সুদ একটি অত্যাচারী প্রথা। এর মাধ্যমে ব্যক্তি, পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্র ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়। এ প্রথার কারণে সম্পদ কতিপয় মানুষের হাতে পুঞ্জীভূত হয়। শ্রেণী বৈষম্য ব্যাপক আকার ধারণ করে। পবিত্র কুরআনুল কারীমে আল্লাহ তা‘আলা একমাত্র সুদখোরদের বিরুদ্ধে যুদ্ধের ঘোষণা করেন। আল্লাহ বলেন, يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ وَذَرُوا مَا بَقِيَ مِنَ الرِّبَا إِنْ كُنْتُمْ مُؤْمِنِينَ فَإِنْ لَمْ تَفْعَلُوا فَأْذَنُوا بِحَرْبٍ مِنَ اللَّهِ وَرَسُولِهِ  ‘হে ঈমানদারগণ! তোমরা আল্লাহকে ভয় কর আর সুদের যা কিছু অবশিষ্ট আছে তা সব পরিত্যাগ কর যদি তোমরা ঈমানদার হয়ে থাক। আর যদি তোমরা তা না কর তাহলে তোমরা আল্লাহ ও তার রাসূলের পক্ষ হতে যুদ্ধের ঘোষণা শোন’ (বাক্বারাহ ২/২৭৮-২৭৯)
অত্যাচারী যালিম সুদখোর ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে রাসূল (ছাঃ) বদদো‘আ করেছেন। জাবের (রাঃ) বলেন, لَعَنَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم آكِلَ الرِّبَا وَمُوكِلَهُ وَكَاتِبَهُ وَشَاهِدَيْهِ وَقَالَ هُمْ سَوَاءٌ. ‘রাসূল (ছাঃ) সুদ গ্রহীতা, সুদ দাতা, সুদের লেখক আর সুদের দুজন সাক্ষীকে অভিশাপ দিয়েছেন। তিনি বলেছেন যে, তারা সকলে সমান অপরাধী’ (মুসলিম হা/৪১৭৭; মিশকাত হা/২৮০৭)। সুদের কঠিন ভয়াবহতা সম্পর্কে রাসূল (ছাঃ) বলেছেন, اَلرِّبَا ثَلَاثَةٌ وَسَبْعُونَ بَابًا أَيْسَرُهَا مِثْلُ أَنْ يَنْكِحَ اَلرَّجُلُ أُمَّهُ، وَإِنَّ أَرْبَى اَلرِّبَا عِرْضُ اَلرَّجُلِ اَلْمُسْلِمِ ‘সুদের ৭৩টি দরজা বা স্তর রয়েছে। তার মধ্যে সবচেয়ে সহজ স্তরটি হ’ল আপন মায়ের সাথে ভ্যবিচার করার সমতুল্য। আর সবচেয়ে কঠিন স্তরটি হ’ল কোন মুসলিম ব্যক্তিকে অপমান-অপদস্থ করা’  (মুস্তাদরাক হাকিম হা/২২৫৯; বুলূগুল মারাম হা/৮৩১; ছহীহুল জামে‘ হা/৩৫৩৯। হাদীছ ছহীহ)। অন্যত্র রাসূল (ছাঃ) বলেন, دِرْهَمُ رِباً يَأْكُلُهُ الرَّجُلُ وَهُوَ يَعْلَمُ أَشَدُّ مِنْ سِتَّةٍ وَثَلاَثِينَ زَنْيَةً ‘কেউ যদি জেনে শুনে এক টাকা সুদ খায় তাহলে ৩৬ বার যেনা করলে যে পাপ হবে তার চাইতে মারাত্মক পাপ হবে’ (মুসনাদে আহমাদ হা/২২০০৭; দারাকুত্বনী হা/২৮৮০; মিশকাত হা/২৮২৫; ছহীহুল জামে‘ হা/৩৩৭৫। সনদ ছহীহ)। আর সুদের সবচেয়ে ছোট ক্ষতি হল মালের বরকত উঠে যায়। যদিও বাহ্যিকভাবে সুদের মাল যতই বেশী দেখা যাক না কেন। এ প্রসঙ্গে রাসূল (ছাঃ) বলেন, الرِّبَا وَإِنْ كَثُرَ فَإِنَّ عَاقِبَتَهُ تَصِيرُ إِلَى قُلٍّ  ‘বাহ্যিকভাবে সুদ পরিমাণে যতই বেশী দেখা যাক না কেন প্রকৃতপক্ষে তা কম হয়ে যায়’ (মুসনাদে আহমাদ হা/৩৭৫৪; হাকেম হা/২২৬২; মিশকাত হা/২৮২৭ ছহীহুল জামে‘ হা/৩৫৪২। হাদীছ ছহীহ)। অতএব বলা যায় যে, সুদ ধনী-গরিব নির্বিশেষে সবার জন্য হারাম। সকলকেই তা পরিহার করতে হবে। তাহলেই বৈষম্যহীন শোষণমুক্ত সমাজ ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা লাভ করবে।
পর্দার বিধান :  
নেগেটিভ ও পজেটিভ একত্রিত হলে মহা বিপর্যয় সৃষ্টি হয়। বিদ্যুতের এই বিপর্যয় থেকে রক্ষা করার জন্য সেখানে আবরণের বা পর্দার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। বিদ্যুতের নিয়মের বাইরে কোন নিয়ম পালন করলে যেমন ধ্বংস অনিবার্য, তেমনি নারী জাতিকে পর্দার বাইরে আনলে সমাজ সভ্যতার ধ্বংস অনিবার্য। সৃষ্টির শুরু থেকে নারীকে আকর্ষণীয় করে সৃষ্টি করা হয়েছে। নারীর প্রতি পুরুষের রয়েছে প্রবল আকর্ষণ। যেমন আল্লাহ তা‘আলা বলেন, زُيِّنَ لِلنَّاسِ حُبُّ الشَّهَوَاتِ مِنَ النِّسَاءِ ‘নারীদের প্রতি আসক্তি মানুষের নিকট সুশোভিত করা হয়েছে’ (আলে-ইমরান ৩/১৪)। নারীকে বলা হয়েছে ৩৬ গুণ ক্ষমতা সম্পন্ন ম্যাগনেট বা চম্বুক। আর নরকে দেয়া হয়েছে মাত্র ১ গুণ ক্ষমতা সম্পন্ন লৌহ। চম্বুক ও লৌহ পাশাপাশি অবস্থান করলে একে অপরকে আকর্ষণ করবে। এ আকর্ষণ দূর করতে বিধান দেয়া হয়েছে পর্দার। আল্লাহ বলেন, يَا أَيُّهَا النَّبِيُّ قُلْ لِأَزْوَاجِكَ وَبَنَاتِكَ وَنِسَاءِ الْمُؤْمِنِينَ يُدْنِينَ عَلَيْهِنَّ مِنْ جَلَابِيبِهِنَّ ذَلِكَ أَدْنَى أَنْ يُعْرَفْنَ فَلَا يُؤْذَيْنَ وَكَانَ اللَّهُ غَفُورًا رَحِيمًا ‘হে নবী (ছাঃ)! আপনি আপনার পত্মীদেরকে, আপনার কন্যাদেরকে ও মুমিন নারীদেরকে বলে দিন যে, তারা যেন ওড়না নিজেদের বুকের উপর টেনে দেয়, এটি অধিকতর উপযোগী পদ্ধতি; এতে তাদের পরিচয় পাওয়া যাবে। ফলে তারা নির্যাতিত হবে না। আর আল্লাহ তা‘আলা অতিশয় ক্ষমাশীল ও পরম দয়ালু’ (আহযাব ৩৩/৫৯)। হিজাব বা পর্দার বিধান এজন্য দেয়া হয়েছে যে, তারা যেন সম্ভ্রান্ত মহিলা হিসাবে পরিচিত হয়। তাছাড়া পর্দার বিধান বাস্তবায়ন হলে নারী জাতি নির্যাতন, ইভটিজিং, বিদ্রুপ ও কটূক্তি থেকে মুক্তি পাবে। হিজাব বা পর্দার বিধান নারীকে অবমূল্যায়ন করে না বরং নারীকে যথার্থ মূল্যায়নের মাধ্যমে নারীর মর্যাদা ঊর্ধ্বে তুলে ধরে এবং তার সম্ভ্রমকে সুরক্ষা করে। কারণ এটি আল্লাহর বিধান, যা নারী জাতিকে সম্মানিত করেছে।
পক্ষান্তরে সেক্যুলার ও পপুলাররা দাবী করে যে, তারা নারীকে উচ্চ মর্যাদা দিয়েছে। অথচ বাস্তবতা হল, তারা নারীদের উচ্চ মর্যাদা থেকে নামিয়ে উপপত্নী, রক্ষিতা, ও মক্ষীরাণী বানিয়ে ছেড়েছে। তারা নারীদেরকে বিলাসী পুরুষদের ভোগের উপকরণ ও যৌন ব্যবসায়ীদের সস্তা পণ্যে পরিণত করেছে। যা শিল্প সংস্কৃতির রঙিন চশমা দিয়ে আড়াল করা হয়েছে। ফলশ্রুতিতে সেক্যুলার ও পপুলার এই সমাজে অসংখ্য নারী প্রতি সেকেন্ডে ধর্ষণ হচ্ছে। ১৯৯০ সালের এফ. বি. আই. (F.B.I)-এর রিপোর্ট অনুযায়ী কেবল আমেরিকাতে গড়ে দৈনিক ১০৫৬টি ধর্ষণজনিত অপরাধ সংঘটিত হয়। যা ইসলামী সমাজে কল্পনা করা যায় না। উল্লেখ্য যে, নারীর পাশাপাশি আল্লাহ তা‘আলা পুরুষদেরকে পর্দার নির্দেশ দিয়েছেন। আল্লাহ তা‘আলা বলেন, قُلْ لِلْمُؤْمِنِينَ يَغُضُّوا مِنْ أَبْصَارِهِمْ وَيَحْفَظُوا فُرُوجَهُمْ ذَلِكَ أَزْكَى لَهُمْ إِنَّ اللَّهَ خَبِيرٌ بِمَا يَصْنَعُونَ ‘(হে নবী) আপনি মুমিন পুরুষদেরকে বলে দিন, তারা যেন তাদের দৃষ্টি সংযত রাখে এবং তাদের যৌনাঙ্গের হেফাযত করে। এটা তাদের জন্য উত্তম। অবশ্যই তারা যা করে সে সম্পর্কে আল্লাহ সম্যক অবগত’ (নূর ২৪/৩০)
নারীর প্রতি পুরুষদের দৃষ্টি পড়লে অসঙ্গত ও খারাপ চিন্তা তার ভিতরে এসে যেতে পারে। সে জন্য আল্লাহ পুরুষকে দৃষ্টি অবনত রাখার কথা বলেছেন। তাই পর্দার বিধান নারী-পুরুষ উভয়ের জন্য কল্যাণকর-এটা বলার অপেক্ষা রাখে না।
নেশা জাতীয় দ্রব্য নিষিদ্ধতার বিধান :
নেশা শুধু ব্যক্তিকেই ধ্বংস করে না বরং এর ফলে পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্র ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়। ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজকে কুলষিত করার অন্যতম হাতিয়ার হচ্ছে এই নেশা। এটি ইবলীসের অন্যতম অস্ত্র। মহান আল্লাহ যিনি অনন্ত জ্ঞানের মালিক তিনি আমাদেরকে এই লোভনীয় ফাঁদ থেকে সতর্ক করে দিয়েছেন। ইসলামের যাবতীয় বিধি-নিষেধ মানব কল্যাণের লক্ষ্যেই প্রদত্ত হয়েছে। যাতে করে মানুষের স্বাভাবিক গতি ঠিক থাকে। সমাজ সুন্দর হয়।
নেশা জাতীয় দ্রব্য বা মদ পান হ’ল মানুষের ফিতরাতের বিপরীতমুখী কাজ। যা মানুষকে পশুর স্তরে নামিয়ে দেয়। নেশা অসংখ্য মানুষের অকাল মৃত্যুর কারণ হিসাবে চিহ্নিত হয়ে আসছে। ঐশী রহমানের মত অসংখ্য ঘাতকের জন্ম এই নেশার কারণে হয়েছে। শুধু তাই নয় ব্যভিচার, ধর্ষণ, এইডস, ক্যান্সার সহ ইত্যাদি মারাত্মক রোগের প্রাদুর্ভাব নেশা জাতীয় দ্রব্য যারা পান করে তাদের মাঝে বেশী দেখা যায়। আমেরিকার ন্যাশনাল ক্রাইম ভিকাটিমাইজেশন সার্ভে ব্যুরো অব জাস্টিস (U S. Department of Justice)-এর জরিপ অনুসারে কেবল ১৯৯৬ সালে গড়ে প্রতিদিন ২৭১৩ টি ধর্ষণের ঘটনা রেকর্ড করা হয়। পরিসংখ্যানে দেখা যায় যে, অধিকাংশ ধর্ষক এ ঘটনার সময় মাতাল ছিল। এমনকি মা, বোন, কন্যা সন্তানও এদের হাত থেকে রেহায় পায়নি। মারাত্মক প্রাণঘাতী রোগ এইডস বিস্তারের প্রধান কারণ হ’ল এই মদপান। পৃথিবীতে লক্ষ লক্ষ মানুষ শুধু মদ পানের কারণে অকালে ঝরে যায়। সুতরাং বলা যায় নেশ জাতীয় দ্রব্য পান একটি মারাত্মক প্রাণঘাতি ব্যাধি ও জঘন্যতম অপরাধ। এ জন্য ইসলাম নেশা জাতীয় সকল প্রকার দ্রব্য হারাম ঘোষণা করেছে। আল্লাহ বলেন, يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا إِنَّمَا الْخَمْرُ وَالْمَيْسِرُ وَالْأَنْصَابُ وَالْأَزْلَامُ رِجْسٌ مِنْ عَمَلِ الشَّيْطَانِ فَاجْتَنِبُوهُ لَعَلَّكُمْ تُفْلِحُونَ ‘হে ঈমানদারগণ! মদ, জুয়া, পূজার বেদী এবং ভাগ্য নির্দেশক তীর এসবই নোংরা ও অপবিত্র। এগুলো শয়তানের কাজ ছাড়া আর কিছু নয়। সুতরাং তোমরা তা থেকে বেঁচে থাক। যাতে তোমরা সফলকাম হতে পার’ (মায়েদা ৫/৯০)। রাসূল (ছাঃ) বলেছেন, كُلُّ مُسْكِرٍ خَمْرٌ وَكُلُّ مُسْكِرٍ حَرَامٌ ‘সকল প্রকার নেশাজাত দ্রব্যই মদ। আর সব ধরনের মদই হারাম’ (ছহীহ মুসলিম হা/৫৩৩৭, ‘পানাহার অধ্যায়-৩৭, অনুচ্ছেদ-৭)।  তিনি আরও বলেন, مَا أَسْكَرَ كَثِيرُهُ فَقَلِيلُهُ حَرَامٌ ‘যে বস্ত্তর বেশী পরিমাণ নেশা সৃষ্টি করে,তার কম পরিমাণও হারাম’ (আবুদাঊদ হা/৩৬৮১; ইবনু মাজাহ হা/৩৩৯২; তিরমিযী হা/১৮৬৫; নাসাঈ হা/৫৬০৭; মিশকাত হা/৩৬৪৫; আহমাদ হা/৬৫৫৮)। অতএব মদ, সিগারেট, তামাক, জর্দা, গুল ইত্যাদি নেশা জাতীয় দ্রব্য ব্যবহার করা ইসলামী শরী‘আতে স্পষ্টরূপে হারাম।
পরিশেষে বলা যায় যে, ইসলামের বিধান চিরকল্যাণকর। মানুষের সার্বিক কল্যাণে আল্লাহ তা‘আলা এই অভ্রান্ত ও অপরিবর্তনীয় বিধান দান করেছেন। অতএব অনুপম এই কালজয়ী অভ্রান্ত বিধান বাস্তবায়নে ব্যক্তি, পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রসহ প্রত্যেক মুসলিম নর-নারীকে এগিয়ে আসতে হবে। আল্লাহ তা‘আলা আমাদের সবাইকে তাওফীক দান করুন এবং আমাদের প্রতি সহায় হৌন। আমিন!

আরও দেখুন:  ইসলামী শিক্ষা

-অধ্যাপক মুহাম্মাদ জালালুদ্দীন

এ সম্পর্কিত আরও পোস্ট

মন্তব্য করুন

Back to top button