যারা ফেসবুকে তর্ক জুড়ে শায়খ হয়ে মর্দে মুমিন বনে গালাগালি করি, তাদের জন্য স্মরণিকা

Shopnochari Abdullah
হ্যাঁ, যত বেশি স্কলারদেরকে ধুইতে পারবেন, যত তাদের গায়ে কালি লাগাইতে পারবেন, ততই বেশি নেকি। ঈমানকে জিন্দা করতে হইলে প্রতিটা অপছন্দ হওয়া স্কলারের নামে একশ লাইন করে লিখতে হবে। নইলে জান্নাত হবেনা। প্রিয় নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর অকলঙ্ক চরিত্রতে কুৎসা রটনার চেষ্টায় এক জঘন্য নীচ মানুষরূপী পশু ছবি বানিয়েছে। কিন্তু দেখে মনে হচ্ছে তার উত্তম জবাব হচ্ছে, ফেসবুকে জিহাদ করা আর বাস্তব পৃথিবীতে যারা প্রতিবাদ করেছে — ফেসবুকে তাদেরকে ভুল প্রমাণিত করা। আর এই করেই হবেনা, উভয় চিন্তাধারার বিচিত্র লোকদেরকে অবশ্যই এক হালি করে স্কলারদের ধুইতে হবে। নিজে বাস্তব জীবনে একটা কুকুর বিড়ালকে ধরে রুটি খাওয়াতে না পারলেও স্কলার যারা কুরআন আর হাদিসের শিক্ষা দেন/দিয়েছেন সহস্র মানুষকে, যারা জীবনে অজস্র ত্যাগ স্বীকার করেছেন — তাদের নামে কুৎসা ও নিন্দা করে নিজে বড় হইতে হবে।
প্রিয় ভাই ও বোন, আমি কোন এক দুইজনকে উদ্দেশ্য করে লিখতে বসি নাই। আমার অন্তরে কি আছে, সেটাও আল্লাহ ছাড়া কেউ জানেনা। তবে এইটা জানি, প্রতিটা কাউলা কাউলির হিসাব আল্লাহর কাছে অত্যন্ত কঠিনভাবে দিতে হবে। জ্ঞান থাকলে মাঠে গিয়ে কাজ করুন, মানুষকে বোঝান। নোংরামি আর কলহের জন্য ফেসবুক বেছে নিয়ে লাভ নাই। প্রতিবাদ ফেসবুকে করে কিছুই হবেনা। আবেগ দিয়ে দ্বীন প্রতিষ্ঠা হয়না। স্কলারদের নামে আজেবাজে কথা বলে কেউ জান্নাত পাবেন না। দুনিয়াতে কোটি কোটি সিচুয়েশনে পড়ে থাকা মানুষ আছে। দিনে তিন বেলা আরামে খেয়ে পরে, আব্বা আম্মা বউ ভাই বোনের সাথে আলাপ করে ফেবুতে বসে অনেক কথাই বলা যায়। আরেকবার বলতেসি, প্রতিবাদের ব্যাপারে কোনই সন্দেহ নাই। কিন্তু সেইটার পরে নিজেকে সুপিরিয়র মনে করে যা যা বলা হচ্ছে, আমাদের প্রচন্ড হিসেবি হওয়া দরকার।
“…আমি যাকে ইচ্ছা, মর্যাদায় উন্নীত করি এবং প্রত্যেক জ্ঞানীর উপরে আছে অধিকতর এক জ্ঞানীজন।” [সূরা ইউসুফ – ৭৬]
আল্লাহর দোহাই লাগে, কথাবার্তা খেয়াল করে বলুন। আল্লাহ আমাদের যেন জ্ঞান অর্জন করার, এবং সেই জ্ঞান অর্জনের আগে মুখ এবং হাত বন্ধ রাখার তৌফিক দেন। আমাদের ইগো যেন আমাদের অন্ধ করে না দেয়। আমরা যেন ক্ষুদ্র জ্ঞানের আড়ম্বরে ধরাকে সরা জ্ঞান না করি। ঔদ্ধত্য যেন আমাদের জাহান্নামের পথকে উন্মুক্ত করে না দেয়। যারা আমাদের অগ্রজ এবং জ্ঞানেও অগ্রগামী, তাদের যথাযথ সম্মান দেয়ার জ্ঞান আল্লাহ যেন আমাদেরকে দান করেন।
◙ “মুমিনগণ, কেউ যেন অপর কাউকে উপহাস না করে। কেননা, সে উপহাসকারী অপেক্ষা উত্তম হতে পারে…” [সূরা হুজুরাত -১১]
◙ “… উপদেশ তারাই গ্রহণ করে, যারা জ্ঞানবান।… ” [সূরা বাকারাহ ২৬৯]
◙ “নম্র কথা বলে দেয়া এবং ক্ষমা প্রদর্শন করা ঐ দান খয়রাত অপেক্ষা উত্তম,যার পরে কষ্ট দেয়া হয়।আল্লাহ তা’আলা সম্পদশালী,সহিঞ্চু।” [সুরা বাকারা-২৬৩]
◙ “তোমরা সহজ নীতি ও আচরণ অবলম্বন করো, কঠোর নীতি অবলম্বন করো না। সুসংবাদ শুনাতে থাকো এবং পরস্পর ঘৃণা ও বিদ্বেষ ছড়িও না।” [বুখারী ও মুসলিম]
◙ “রহমান-এর বান্দা তারাই, যারা পৃথিবীতে নম্রভাবে চলাফেরা করে এবং তাদের সাথে যখন মুর্খরা কথা বলতে থাকে, তখন তারা বলে, সালাম।” [সূরা ফুরকানঃ ৬৩]
◙ “সৎকাজের আদেশ অসৎকাজ থেকে নিষেধ অথবা আল্লাহর স্মরণ সংবলিত কথা ছাড়া সমস্ত কথাই আদম সন্তানের জন্য ক্ষতিকর”। – [তিরমিযী, ইবনে মাজাহ]
◙ “আল্লাহ তায়ালা কোমল চিত্ত। সবকিছুতে তিনি কোমলতাকে পছন্দ করেন।” –[বুখারী ও মুসলিম]
◙ “নিস্প্রয়োজন কথা ও কাজ বর্জন মানুষের দীনদারীকে সৌন্দর্যমন্ডিত করে।” — [তিরমিযী]
◙ ”আমি কি তোমাদের দোজখীদের বিষয়ে জানাব না? তারা হলো: প্রত্যেক অহংকারী, সীমালংঘনকারী, অবিনয়ী ও উদ্ধত লোক” — [বুখারী, মুসলিম]
◙ “যাকে বিনয় ও নম্রতা দান করা হয়েছে, তাকে যাবতীয় কল্যাণ দান করা হয়েছে। আর যাকে বিনয় ও নম্রতা থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে, তাকে যাবতীয় কল্যাণ থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে।” [তিরমিযী]
◙ ” অতঃপর কেউ অণু পরিমাণ সৎকর্ম করলে তা দেখতে পাবে এবং কেউ অণু পরিমাণ অসৎকর্ম করলে তাও দেখতে পাবে।” [সূরা যিলযাল ৭-৮]
◙
“সাবধান, তোমরা কারো সম্পর্কে মনগড়া ধারণা পোষণ করো না। মনগড়া ধারণা হচ্ছে সবচেয়ে বড় মিথ্যাচার। তোমরা আন্দাজ অনুমান করো না, দোষ অনুসন্ধান করো না, পার্থিব সম্পদ অর্জনে প্রতিযোগিতা করো না।
পরস্পরে হিংসা-বিদ্বেষ পোষণ করো না। কেউ কাউকে ঈর্ষা করো না, কেউ কাউকে অবজ্ঞা করো না। আল্লাহর নির্দেশ মোতাবেক তোমরা সবাই আল্লাহর বান্দা হিসেবে ভাই ভাই হয়ে যাও। মুসলমান মুসলমানের ভাই। সে তাকে যুলুম করবে না, অপমানিত ও লাঞ্ছিত করবে না, তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করবে না।
আল্লাহর ভয় এখানে, আল্লাহর ভয়ে এখানে, আল্লাহর ভয়ে এখানে — এই বলে তিনি নিজের বুকের দিকে ইংগিত করলেন। একজন মুসলমান আরেক মুসলমান ভাইকে ঘৃণা করবে তাচ্ছিল্য করবে ও হেয় মনে করবে এর চেয়ে খারাপ কাজ আর কিছু হতে পারে না।
প্রত্যেক মুসলমানের কাছে অপর মুসলমানের জান-মাল ও সম্ভ্রম পরম সম্মানের।”
[মালেক, বুখারী, মুসলিম, আবু দাউদ, তিরমিযী] ◙ আত তারগীব ওয়াত তারহীব – ১৪৯৭ ◙
কোন মুসলমানকে কাফির অ্যাখ্যায়িত করার বিরুদ্ধে হুঁশিয়ারী
এই ব্যাপারটা এত বেশি সিরিয়াস! আল্লাহ আমাদেরকে অভিশপ্ত হওয়া থেকে রক্ষা করুন, উত্তম চরিত্রকে ধারণ করার তাওফিক দান করুন।
◙ হযরত আবু যর (রা) থেকে বর্ণিত। রাসূল (সা) বলেছেনঃ
“কোন ব্যক্তি অপর কোন ব্যক্তিকে কাফির আখ্যায়িত করলে ঐ দু'জনের যেকোন একজন কাফির হবে। যাকে কাফির অ্যাখ্যায়িত করেছে, সে যদি যথার্থই কাফির হয়ে থাকে, তাহলে তো কোন কথা নেই। নচেৎ যে কাফির বলেছে, সে-ই কাফির হবে।” [বুখারী ও মুসলিম]
# আত তারগীব ওয়াত তারহীব – ১৪৫৯
► হযরত আবু সাঈদ (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন রাসূল (সা) বলেছেনঃ
“যদি কোন ব্যক্তি অন্য ব্যক্তিকে কাফির বলে তাহলে দু'জনের একজনের ওপরেই এ অভিশাপ পড়বে, যদি ঐ ব্যক্তি কাফির না হয়, তাহলে যিনি কাফির বললেন সেই কাফির হয়ে যাবে”। [ইবনে হিব্বান]
# আত তারগীব ওয়াত তারহীব – ১৪৬০
Discover more from ইসলামিক অনলাইন মিডিয়া
Subscribe to get the latest posts sent to your email.






