ঈদ/কুরবানী বিষয়ক

কুরবানীর পশুর ছবি ফেসবুকে প্রচার কি দোষের?

To Desired Deals

সোশ্যাল মিডিয়ায় কুরবানির পশুর ছবি শেয়ার করা আজকাল নিত্য-নৈমত্তিক ব্যাপার হয়ে দাড়িয়েছে। বিশেষ করে তরুণরা এটা করে বেশ মজা পান, আনন্দ পান। এ বিষয়টি নিয়ে আমাদের সমাজে সাধারণ মানুষের মাঝে মিশ্র প্রতিক্রিয়া আছে। অনেকে মনে করেন এবাদতের বিষয় এভাবে প্রচার করে বেড়ানো ঠিক নয়, আবার অনেকে মনে করেন সুস্থ বিনোদনের পথগুলো দিন দিন রুদ্ধ হয়ে আসছে, সংকুচিত হয়ে আসছে। সেখানে ঈদ-উল-আযহা একটি আনন্দের উপলক্ষ এবং তার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হলো কুরবানি। অতএব সেটাকে ঘিরে আনন্দ করা, উৎসব করা, বিশেষ করে তরুণরা সেটাকে নিয়ে সুস্থ বিনোদন করা -এটাকে নিষেধ করা উচিৎ না বরং এতটুকু সুযোগ দেওয়া উচিৎ।

পুরো বিষয়টিকে সামনে রাখলে আমরা যেটি বলতে পারি তা হচ্ছে, সৎ উদ্দেশ্যে যেমন- কেনা-বেচার জন্য বা অন্য কোন মহৎ লক্ষ্যে বিশেষ কোন প্রয়োজনে যদি কেউ সোশ্যাল মিডিয়াতে পশুর ছবি আপলোড দেন, সেটা তো অবশ্যই জায়েজ আছে, বলাই বাহুল্য। কিন্তু যদি আমরা কুরবানির পশুর ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় আপলোড দেই অন্যকে জানান দেওয়ার জন্য যে, আমি কুরবানি দিচ্ছি, অথবা আমার পশুর আকার অনেক বড় সেটি আমি প্রদর্শন করছি কিংবা আমি এই ছবি আপলোড করার মাধ্যমে লাইক/কমেন্ট কামাবো, মানুষ বাহবা দেবে সেটি আমি এনজয় করব… -এ সমস্ত ইচ্ছা থেকে যদি আমরা করি তাহলে সেটি বোধহয় আমাদের  করা উচিৎ নয়। কারন, কুরবানি একটি আনন্দের বিষয়, সন্দেহাতীত ভাবে এটা নিয়ে আমরা আনন্দ করব, খুশি হব, খুশি প্রকাশ করব; কিন্তু প্রদর্শনের ইচ্ছা যেটি, লৌকিকতা যেটি, মানুষের কাছে বাহবা আশা করা -এটি কিন্তু আমাদের ইবাদতের ছওয়াব নষ্ট করে দিতে পারে। এজন্য এ বিষয়ে আমাদের সাবধান হওয়া উচিৎ।

আমরা আনন্দ করতে পারি – তার একটা সীমানা থাকা উচিৎ, সীমাবদ্ধতা থাকা উচিৎ। অনেকে দেখা যায় গরু কেনার সময় সেলফি তোলেন, কিনে আনার পরে সেলফি তোলেন, জবেহর সময় সেলফি তোলেন, খাওয়ার সময় সেলফি তোলেন… -এভাবে একের পর এক ধাপে ধাপে সেলফি তোলা একজন ইমানদারের গুরুত্বপূর্ণ এবাদতের সময় আল্লাহর প্রতি মনোনিবেশ, ছওয়াব আশা করার বিষয়গুলো এখানে গৌণ হয়ে যায়, ম্লান হয়ে যায়।

লৌকিকতা, প্রদর্শন ইচ্ছা এবং ফেসবুকে লাইক/কমেন্ট/বাহবা কুড়ানো এটির কারনে মূল যে শিক্ষা বা তাৎপর্য সেটি আমাদের থেকে হারিয়ে যায়। এজন্য আমাদের দেশের ওলামায়ে-কেরাম যেমন এটাকে নিরুৎসাহিত করেন, তেমনিভাবে এরাবিয়ান স্কলাররাও এটাকে নিরুৎসাহিত করেন। জামিয়াতুল আযহারের মুফতি ড. সাইদ আমের, শেখ মোহাম্মদ জাকি এবং সৌদি আরবের শেখ মোহাম্মদ বিন সালেহ আল উসাইমিন সহ বিশ্ববিখ্যাত স্কলারগণ এ বিষয়টিকে নিরুৎসাহিত করেছেন; কেউ কেউ এটাকে নাজায়েজ এবং গুনাহের কাজ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

অতএব, ইবাদতের যে মূল স্পিরিট আছে, তাৎপর্য আছে, অন্তর্নিহিত যে রহস্য আছে – সে বিষয়গুলোকে আমার অনুধাবন করা উচিৎ এবং এ ব্যাপারে আনন্দ করতে গিয়ে আমাদের সীমা লঙ্ঘন করা উচিৎ নয়। আল্লাহ তাআলা আমাদেরকে বোঝার তৌফিক দান করুন।

– শায়খ আহমাদুল্লাহ

মন্তব্য করুন

Back to top button