স্রষ্টা ও সৃষ্টি

স্রষ্টা বলতে কি আসলেই কেউ আছেন?

  • স্রষ্টা বলতে কি আসলেই কেউ আছেন?
  • আমাদের এই জীবনের অর্থ কী?
  • এ বিশ্ব চরাচর মহাজাগতিক একটি দুর্ঘটনার ফলাফল মাত্র!
  • আস্তিকতা কেন সংখ্যাগরিষ্ঠ?
  • স্রষ্টার অস্তিত্বে বিশ্বাসই ধার্মিকতার মাপকাঠি নয়।
  • যে কোনাে একটি ধর্ম মানলেই কি চলে?
  • সব ধর্মই গ্রহণযােগ্য তত্ত্বের প্রবক্তারাও একটি ধর্মই অনুসরণ করে।
  • স্রষ্টা কি বিশ্বজগত তৈরী করে একে ভুলে যাননি?
  • ধর্ম-কর্ম কি বৃদ্ধ বয়সের বিনােদন?
  • মানুষকে বিবেক-বুদ্ধি দেওয়া হয়েছে কী কারণে?

সকল প্রশংসা একমাত্র তাঁর জন্য যিনি তা পাওয়ার উপযুক্ত। সালাত ও সালাম বর্ষিত হােক তাঁদের উপর যারা তা পাওয়ার যােগ্য। মানষ এবং বিশ্বজগতের জটিল ও সুনিপুণ সৃষ্টিশৈলীর দিকে তাকালে সন্দেহাতীতভাবে বােঝা যায় যে, অবশ্যই একজন মহান সার্বভৌম সত্তা এসব কিছু সৃষ্টি করেছেন। এই অনুপম বিন্যাস ও নির্মাণশৈলী একজন সুনিপুণ নির্মাতার অস্তিত্বকেই প্রমাণ করে। সাগরের বেলাভূমিতে কারও পায়ের ছাপ দেখে আমরা সাথে সাথে বলে দিতে পারি যে, কিছুক্ষণ আগেই কেউ একজন এই পথ দিয়ে যাওয়ার সময় পদচিহ্ন রেখে গিয়েছে। সমুদ্রের ঢেউ তীরে আছড়ে পড়েছে আর অমনি কাকতালীয়ভাবে মানুষের পদচিহ্নের ছাপ পড়ে গিয়েছে—এমন কোনাে অলীক ধারণা কখনােই আমাদের মাথায় আসে না। অনুরূপভাবে সৃষ্টিজগতের সব নিদর্শন দেখার পরও এসবের কোনাে স্রষ্টা নেই—এমন দাবি করা একেবারেই অন্যায় এবং অযৌক্তিক।

সংখ্যায় অতি নগণ্য হলেও সব যুগেই কিছু মানুষ স্রষ্টার অস্তিত্বকে অস্বীকার করেছে। তাদের মতে, পদার্থসমূহ শাশ্বতকাল থেকেই বিদ্যমান, আর মনুষ্যজাতি হলাে কেবলই এই উপাদানগুলাের আকস্মিক সমন্বয়ের একটি সৃষ্টি। তাই কোনাে সত্য ধর্ম আছে কি না কিংবা জীবনের কোনাে উদ্দেশ্য আছে কি না?’—এসব প্রশ্ন তাদের কাছে একেবারেই অবান্তর। কারণ, তারা এমন কোনাে প্রভুতেই বিশ্বাস করে না যিনি ধর্ম নাযিল করতে পারেন। তাদের মতে, আমাদের এই জীবনেরও কোনাে লক্ষ্য-উদ্দেশ্য নেই। কারণ, সবকিছুই মহাজাগতিক একটি দুর্ঘটনার ফলাফল মাত্র!

অন্যদিকে সৃষ্টির শুরু থেকে মানবজাতির প্রায় সবাই বিশ্বাস করে এসেছে এবং এখনাে বিশ্বাস করে যে, একজন মহান সার্বভৌম সত্তা কোনাে একটি উদ্দেশ্যে এই বিশ্বজগৎ সৃষ্টি করেছেন। তাই বুদ্ধিমানদের উচিত সেই সত্তা সম্পর্কে, তাঁর এ সৃষ্টির উদ্দেশ্য সম্পর্কে এবং তাঁর মনােনীত ধর্ম সম্পর্কে ভালােভাবে জানা। | পুঁজিবাদী ও কমিউনিস্ট দেশগুলােতে সম্প্রতি নাস্তিক্যবাদী চিন্তাধারা ছড়িয়ে পড়ার পরও পরিসংখ্যান ঘেটে দেখা যায় যে, সেখানকার অধিকাংশ মানুষ স্রষ্টায় বিশ্বাসী। স্রষ্টার অস্তিত্বে বিশ্বাসের উপর ইউরােপের প্রায় চৌদ্দটি দেশে জরিপে চালিয়ে Reader’s Digest সম্প্রতি এ বিষয়ক একটি ফলাফল প্রকাশ করেছে। এতে বলা হয়েছে, প্রতি দশ জনের সাত জনই স্রষ্টায় বিশ্বাস করে। তাদের জরিপ অনুযায়ী, বর্তমানে পােল্যান্ডের শতকরা ৯৭ ভাগ মানুষ স্রষ্টায় বিশ্বাসী; যদিও তা পূর্বে একটি কমিউনিস্ট দেশ ছিল। বিস্ময়ের ব্যাপার হলাে কমিউনিজমের জন্মভূমি রাশিয়াতে ৮৭ ভাগ মানুষই স্রষ্টার অস্তিত্বে বিশ্বাস করে। জ্যোতির্বিদ্যা, ভূবিদ্যা এবং অন্যান্য প্রাকৃতিক জ্ঞান-বিজ্ঞান শাখার বিজ্ঞানীদের উপর সমীক্ষা চালিয়েও দেখা গেছে যে, তাদের অধিকাংশই স্রষ্টার অস্তিত্বে বিশ্বাস স্থাপন করে।

অধিকাংশ মানুষ স্রষ্টার অস্তিত্বে বিশ্বাসী হলেও ধর্মের উপর তাদের বিশ্বাস খুবই কম—বিশেষ করে পশ্চিমাদের মধ্যে। কেউ কেউ মনে করেন, এত ধর্মের মধ্যে একজন মানুষ কীভাবে সঠিক ধর্ম বাছাই করবে? কেননা প্রতিটি ধর্মই সত্য ধর্ম হওয়ার দাবি করছে! আর সবগুলাে ধর্ম যেহেতু একসাথে সঠিক হতে পারে না, তাই তারা সবচেয়ে সহজ সমাধান হিসেবে সবগুলাে ধর্মকেই প্রত্যাখ্যান করেছে। এ রকম চিন্তাধারার ফলেই ধর্মনিরপেক্ষ পশ্চিমা দেশগুলাে ধর্মকে নিছক ব্যক্তিগত বিশ্বাস হিসেবে আখ্যা দেয় এবং সব ধর্মকে সমানভাবে গ্রহণযােগ্য বলে ঘােষণা করে। এ কারণে রাষ্ট্রীয়ভাবে কোনাে ধর্মকে অন্য ধর্মের উপর শ্রেষ্ঠত্ব দেওয়া হয়নি।

আন্তঃধর্মীয় মতবিনিময় ইদানিং বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। এসব সভা-সেমিনারে বলা হয় যে, কে কোন ধর্মের অনুসরণ করছে সেটা কোনাে মুখ্য বিষয় নয়, যতক্ষণ সে তার ধর্মের ব্যাপারে আন্তরিক। কোনাে একটি ধর্মকে একমাত্র সত্য ধর্ম হিসেবে দাবি করাকে সেকেলে, অবিবেচনাপ্রসূত এবং চরমপন্থা হিসেবে সাব্যস্ত করা হয়।

এসব পণ্ডিতেরা কোনাে ধর্মকে একমাত্র সত্যধর্ম সাব্যস্ত করতে কুণ্ঠিত হলেও তাদের নিজেদের অনুসৃত ধর্মকে শ্রেষ্ঠ বলতে ঠিকই গর্ববােধ করে থাকেন। আবার একটি নির্দিষ্ট ধর্ম বেছে নিয়ে তা অনুসরণ করা থেকে প্রমাণিত হয় যে, কেবল একটি ব্যতীত সবগুলাে ধর্মই মিথ্যা অথবা সবগুলােই সত্য। যদি সবগুলােই সত্য হয় তবে তাদের আদর্শ বিশ্বাস তাে একই রকম হওয়া বাঞ্ছনীয়। বাস্তব কথা হলাে, সবগুলাে ধর্ম সত্য হওয়া একেবারেই অসম্ভব, কারণ প্রতিটি ধর্মে রয়েছে পৃথক পৃথক মতাদর্শ। তাই অনিবার্য সত্য হলাে, সর্বশক্তিমান স্রষ্টা যে ধর্ম নাযিল করেছেন সেটাই একমাত্র সত্য ধর্ম। | কিছু লােক দাবি করে যে, পৃথিবী ও এর অধিবাসীরা স্রষ্টার কাছে সমগ্র বিশ্বজগতের তুলনায় এতই নগণ্য যে, এগুলাের প্রতি তাঁর কোনাে খেয়ালই নেই। তাদের মতে, স্রষ্টা পথিবী সৃষ্টি করে এটিকে এর মতাে করে ছেড়ে দিয়েছেন। একইভাবে তারা মনে কমে ঈশ্বর মানুষকে সৃষ্টি করেছেন বটে, কিন্তু মানুষ কীভাবে জীবনযাপন করবে সে বিষয়ে তিনি কোনাে দিকনির্দেশনা দেননি। এই দাবি একেবারেই অযৌক্তিক। কারণ, মহান সষ্টা মহাপ্রজ্ঞাময় এক সত্তা। এটা তাঁর শাশ্বত বৈশিষ্ট্যের বিপরীত; তিনি সৃষ্টি করবেন অথচ ইহকাল ও পরকালে সাফল্য লাভের জন্য আমাদের কোনাে নির্দেশনা দিবেন না—তা হতে পারে না। স্রষ্টা মানুষ সৃষ্টি করে যদি তাদের জন্য কোনাে জীবনবিধান না-দেন। তখন স্বাভাবিকভাবেই মানবজাতি দ্বিধা ও বিশৃঙ্খলায় নিপতিত হবে। গােটা পৃথিবীর অবস্থা তখন হয়ে যাবে বিশৃঙ্খলাপূর্ণ, অরাজক। পৃথিবী জুড়ে বর্তমানে যে-নৈরাজ্যকর পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে তার একমাত্র কারণ—স্রষ্টার দেওয়া জীবনধারা সম্পর্কে মানুষের অসচেতনতা অথবা সেগুলাে মেনে না চলা। | যদি একটি কারখানা নির্মাণ করে সেখানে লােক নিয়ােগ দেওয়া হয় কিন্তু তাদের দায়-দায়িত্ব বুঝিয়ে না দেওয়া হয়, নিয়ম-শৃঙ্খলা বাতলে না দেওয়া হয় তখন এটাই স্বাভাবিক যে, তারা ঠিকমতাে কাজ করবে না। তাদের কী করতে হবে তারা যদি তা না-ই জানে তবে কখনােই তারা কাঙ্ক্ষিত কাজ করতে সক্ষম হবে না। কোনাে হাসপাতাল, বিদ্যালয় অথবা যেকোনাে প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযােজ্য। একইভাবে যেকোনাে প্রতিষ্ঠানেরই কিছু সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা ও ব্যবস্থাপনা রয়েছে।

সর্বশক্তিমান আল্লাহ এই মহাবিশ্ব ও এর ভেতর যা কিছু আছে সব কিছুর স্রষ্টা। তিনিই মানবজাতিকে সৃষ্টি করেছেন এবং একটি জীবনবিধান দিয়ে দিয়েছেন। ইহকালীন ও পরকালীন জীবনের সফলতার জন্য মানুষের উচিত স্রষ্টার দেওয়া জীবনবিধান মেনে চলা। বস্তুত ‘স্রষ্টা কোনাে ধর্ম নাযিল করেননি দাবি করা ‘স্রষ্টা বলতে কেউ নে’ দাবিরই নামান্তর। সঠিক অর্থে স্রষ্টায় বিশ্বাস বলতে নিছক তাঁর অস্তিত্বে বিশ্বাসকে বােঝায় না; বরং তিনি মানবজাতির জন্য শাশ্বত সত্য এক ধর্ম নাযিল করেছেন এবং তা মানা সবার জন্য অপরিহার্য’–এই বিশ্বাসও এর সাথে ওতপ্রােতভাবে জড়িত।

মহান স্রষ্টা আল্লাহ প্রথম মানব-মানবী আদম ও হাওয়া -কে সৃষ্টি করে তাদেরকেও কীভাবে দুনিয়ায় চলতে হবে সে সম্পর্কে দিকনির্দেশনা দিয়েছেন। মূলত সব মানুষের জন্য সুমহান আল্লাহ যে ধর্ম নাযিল করেছিলেন সেটাই হলাে একমাত্র শাশ্বত ও সত্য ধর্ম। তিনি একেক সময় একেক ধর্ম নাযিল করেননি; সেটা বিভ্রান্তিকর।

এখন প্রশ্ন: ‘পৃথিবীর এই নানা রকম ধর্মের মধ্যে কোনটি আল্লাহর মনােনীত সঠিক ধর্ম?’ উত্তরটি খুঁজে বের করতে হলে আপনাকে অবশ্যই উদার মনের অধিকারী হতে সব এবং অন্ধভাবে পূর্বপুরুষের ধর্ম অনুসরণের মানসিকতা থেকে বেরিয়ে আসতে সব। আপনি আন্তরিক হলে সে সত্য ধর্মের সন্ধান লাভ করা মােটেই অসম্ভব নয়; কারণ সষ্টার মনােনীত সত্য ধর্মকে শনাক্ত করার জন্য তিনি প্রতিটি মানুষকে প্রয়ােজনীয় বুদ্ধিমত্তা দান করেছেন।

কোনাে ব্যক্তি ব্যবসার উদ্যোগ নিলে কোন ধরনের ব্যবসায় সফল হওয়ার সম্ভাবনা বেশি প্রথমে সে সম্পর্কে ভালােমতাে খোঁজখবর নেয়। শুধু খোঁজখবর নিয়েই ক্ষান্ত হয় না; বরং ব্যবসাকে সমৃদ্ধ করার জন্য নানা রকম সৃজনশীল ও অভিনব পদক্ষেপ গ্রহণ করে। খুবই দুঃখজনক ব্যাপার হলাে, মানুষ সামান্য ব্যবসাকে অনেক গুরুত্বের সাথে নেয়; অথচ ধর্মের ক্ষেত্রে তারা মারাত্মক অমনােযােগী! আবার কিছু লােক কেবল বৃদ্ধ বয়সে উপনীত হওয়ার পরই ধর্মকর্মের প্রতি ঝোঁকে।

অনেকে ধর্মের সমালােচনা করে; যুদ্ধ-বিগ্রহ, মানুষের ভােগান্তি এবং সন্ত্রাসমূলক কার্যকলাপের জন্য তারা ধর্মকে দায়ী করে। অথচ প্রথম ও দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ, কোরিয়ার যুদ্ধ, ভিয়েতনাম যুদ্ধ এবং বর্তমান সময়ের ইরাক যুদ্ধকে ধর্মীয় কারণে সংঘটিত যুদ্ধের সাথে তুলনা করা হলে নিশ্চিতভাবে প্রমাণিত হবে যে, ধর্মের কারণে সংঘটিত যুদ্ধে নিহতের সংখ্যা অন্যান্য যুদ্ধের তুলনায় খুবই নগণ্য। তাই এই দাবিকে সত্য ধর্ম খডে নেওয়া থেকে বিরত থাকার কোনাে বৈধ কারণ হিসেবে বিবেচনা করা যায় না।

যে-মানুষটি স্ৰষ্টায় বিশ্বাস করে তার কাছে এটা স্পষ্ট যে, স্রষ্টা অবশ্যই সৃষ্টির জীবন ধারণের জন্য একটি সুনির্দিষ্ট পদ্ধতি নির্ধারণ করে দিয়েছেন। মৌলিক সৃষ্টিগত দিক থেকে সব মানুষই যেহেতু একই প্রকৃতির, তাই তাদের একেক দলের জন্য একেক রকম পদ্ধতি নির্ধারণের কোনাে যৌক্তিকতা নেই। খ্রিষ্টপূর্ব ১৭৫০ অব্দে হাম্মুরাবিদের আইন-ব্যবস্থাকে যে ধরনের সমস্যার মুখােমুখি হতে হয়েছে, বর্তমান এই আধুনিক সমাজের সমস্যার ধরনপ্রকৃতিও একই রকম। হাম্মুরাবির সহস্র বছর পূর্বে সবচেয়ে প্রাচীন মিশরীয় চিত্রলিপিতে একই বিষয় বিবৃত হয়েছে। রসেটা স্টোন নামে খ্যাত প্রাচীন মিশরীয় শিলালিপিতে ব্যবসাবাণিজ্য সংক্রান্ত যে ধরনের জটিলতা বিবৃত হয়েছে বর্তমান এই আধুনিক যুগেও মানুষ প্রতিনিয়ত সেই একই ধরনের সমস্যার মুখােমুখি হচ্ছে।

বিগত শত, সহস্র এমনকি লক্ষ বছরের ব্যবধানেও মানুষের মধ্যে মৌলিক কোনাে পরিবর্তন আসেনি। তবে কেন স্রষ্টা এক দল মানুষের জন্য এক রকম জীবনবিধান আর অন্যদের জন্য আরেক রকম জীবন বিধান দেবেন? তাই প্রথম মানুষ থেকে শুরু করে পৃথিবীর শেষ সময় পর্যন্ত সব মানুষের জন্য স্রষ্টার পক্ষ থেকে একটি জীবনবিধান দেওয়াটাই যুক্তিসঙ্গত। যদি স্রষ্টা তাঁর সৃষ্টির জন্য কোনাে জীবনবিধান দিয়ে থাকেন, তবে অবশ্যই তা স্থান-কাল-পাত্র ভেদে সর্বাবস্থায় প্রযােজ্য হবে।

প্রতিটি মানুষকেই মহান স্রষ্টা সঠিক ধর্মকে শনাক্ত করার ক্ষমতা দিয়েছেন। কারও বাপ-দাদা একটি ধর্মের অনুসরণ করেছে বলেই সেটাকে সঠিক ধর্ম মনে করা অনুচিত। জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য স্রষ্টা মানুষকে দিয়েছেন বুদ্ধিমত্তা নামক এক মহান নিয়ামত। কিন্তু মানুষ জাগতিক বিষয়ে বুদ্ধিমত্তার সর্বোচ্চ ব্যবহার করলেও ধর্মীয় বিষয়ে তারা যেন অনেকটা নির্বোধের মতাে আচরণ করে। অনেক সময়ই তারা বংশপরম্পরায় পাওয়া অনেক হাস্যকর ধর্মীয় আচার-প্রথা পালন করে থাকে। স্রষ্টার ইচ্ছায়ই মানুষ বিভিন্ন ধর্মাবলম্বী মানুষের ঘরে জন্মগ্রহণ করে। তাই বয়ঃপ্রাপ্ত হওয়ার পূর্বে সে কোন ধর্ম পালন করেছে তার ভিত্তিতে তাকে কোনাে শাস্তি দেওয়া হবে না।

প্রত্যেক মানুষের উচিত তার চারপাশের অবস্থা নিয়ে চিন্তা করা এবং সঠিক ধর্মের সন্ধান লাভে সর্বোচ্চ বুদ্ধিমত্তা প্রয়ােগ করা। এই কাজের জন্য ব্যক্তির কাছে কতগুলাে মানদণ্ড থাকতে হবে, যেগুলাের ভিত্তিতে সে ভােলা মন নিয়ে নিরপেক্ষভাবে সঠিক ধর্মটিকে খুঁজে বের করতে পারবে। কেননা প্রতিটি ধর্মই দাবি করছে যে, সেটা স্রষ্টার মনােনীত সত্য ধর্ম। প্রতিটি ধর্মকে সত্য ধর্ম দাবি করার পেছনে যে যুক্তিগুলাে দেওয়া হয় সেগুলাে যাচাই বাছাই করার মাধ্যমে সত্য অন্বেষণের এ চেষ্টা শুরু করা যেতে পরে।

জীবনের এমন গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের উত্তর খুঁজে বের করার কাজটিকে অবহেলা করা কোনাে বুদ্ধিমানের কাজ হতে পারে না। প্রাপ্ত তথ্য ও তত্ত্ব-উপাত্তের উপর নিজের বুদ্ধিমত্তার সর্বোচ্চ ও আন্তরিক প্রয়ােগ করে স্রষ্টার মনােনীত এ সত্য ধর্মের সন্ধান আপনাকেই খুঁজে বের করতে হবে। কারণ, আপনার সঠিক সিদ্ধান্তের সুফল যেমন আপনি পাবেন, তেমনি আপনার ভুল সিদ্ধান্তের পরিণতিও আপনাকে ভােগ করতে হবে।

হ্যাঁ, আপনাকেই, একমাত্র আপনাকেই…।

– ড. আবু আমিনাহ বিলাল ফিলিপস

এ সম্পর্কিত আরও পোস্ট

১টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন

Back to top button