অর্থনীতি/যাকাত/ছাদাক্বা বিষয়ক

কোনটি দিয়ে ফিতরা আদায় করা উত্তম – টাকা নাকি খাদ্যদ্রব্য?

ফিতরা আদায় একটি ইবাদাত। আর ইবাদাতের ক্ষেত্রে অন্যতম মূলনীতি হচ্ছে তার মধ্যে কম ও বেশী করা জায়েয নয়। হুবহু রাসূল (ছাঃ) যেভাবে করেছেন সেভাবে করতে হবে। অন্যথায় তা বিদাত হবে।

জমহুর মুহাদ্দিছীনে কেরাম ও ওলামায়ে কেরামের ফৎওয়া হচ্ছে, মানুষ নিজের অঞ্চলের প্রধান খাদ্য দ্রব্য দিয়ে ফিতরা আদায় করবে। আর এটাই ইমাম আহমাদ, ইমাম শাফেয়ী ও ইমাম মালেক (রহঃ) এবং এই তিন মাযহাবের ওলামায়ে কেরামগণের ফতওয়া। একমাত্র ইমাম আবু হানীফা (রহঃ) ও হানাফী মাযহাবের ওলামায়ে কেরামের পক্ষ থেকে টাকা দিয়ে ফিতরা আদায়ের বিষয়টি পাওয়া যায়। প্রথমত আমি হানাফী মাযহাবের বিষয়টি ক্লিয়ার করে নেই। আমি হানাফী মাযহাবের কোন কিতাবে এমন ‘নাস’ বা টেক্সট পাইনি যেখানে বলা আছে টাকা দিয়ে দেওয়াই বেশী উত্তম ইমাম আবু জাফর (রহঃ) ছাড়া। তারা খাদ্য দ্রব্য দিয়ে ফিতরা আদায় সুন্নাত এটা স্বীকার করার পর জাস্ট টাকা দিয়ে ফিতরা আদায় জায়েয বলেছেন। আমাদের মনে রাখতে হবে জায়েয এবং উত্তম কখনোই এক নয়।
আমি সবচেয়ে কষ্ট পেয়েছি কিছু ভাইয়ের লেখা পড়ে যারা বলেছেন বর্তমান সময়ে টাকা দিয়ে ফিতরা আদায় বেশী উপযুক্ত ও উত্তম। লা হাওলা ওয়ালা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ।

টাকা দিয়ে ফিতরা আদায়ের পক্ষে প্রদত্ত দলীল সমূহের জবাব: ১মত টাকা দিয়ে ফিৎরা আদায়ের বিষয়ে রাসূল (ছাঃ) থেকে আমার জানা মতে একটি জাল হাদীছও নাই। ২য়ত খোলাফায়ে রাশেদীনের পক্ষ থেকেও টাকা দিয়ে ফিতরা আদায়ের বিষয়ে কোন আছার পাওয়া যায়না। ৩য়ত ছাহাবায়ে কেরামের পক্ষ থেকে একটি আছার পেশ করা হয়ে থাকে তা নিম্নে পেশ করা হল-
– 10371 ﺣَﺪَّﺛَﻨَﺎ ﺃَﺑُﻮ ﺃُﺳَﺎﻣَﺔَ، ﻋَﻦْ ﺯُﻫَﻴْﺮٍ، ﻗَﺎﻝَ : ﺳَﻤِﻌْﺖُ ﺃَﺑَﺎ ﺇِﺳْﺤَﺎﻕَ، ﻳَﻘُﻮﻝُ : ‏« ﺃَﺩْﺭَﻛْﺘُﻬُﻢْ ﻭَﻫُﻢْ ﻳُﻌْﻄُﻮﻥَ ﻓِﻲ ﺻَﺪَﻗَﺔِ ﺭَﻣَﻀَﺎﻥَ ﺍﻟﺪَّﺭَﺍﻫِﻢَ ﺑِﻘِﻴﻤَﺔِ ﺍﻟﻄَّﻌَﺎﻡِ ‏»

অর্থ : হযরত যুহাইর (রহ.) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আবূ ইসহাক (রহ.) থেকে শুনেছি যে, তিনি বলেছেন, আমি তাদেরকে এই অবস্থায় পেয়েছি যে, তারা রমজানে সাদাকায়ে ফিতর খাবারের বিনিময়ে টাকা দ্বারা আদায় করতেন। ইবনে আবি শায়বা-২/৩৯৮, হাদীস-১০৩৭১।

তাহক্বীক্বঃ

ক. এই বর্ণনার রাবী যুহায়র বিন হারব আবু ইসহাক্ব থেকে তার স্মৃতি শক্তি খারাপ হওয়ার পরে শুনেছিলেন। (মুখত্বলিতীন,আলায়ী রাবী নং-৩৫)

খ. আবু ইসহাক্ব আস-সাবেয়ী (রহঃ) ইনি বড় তাবেয়ী নন। আব্দুল্লাহ বিন ওমর (রাঃ) ও আনাস (রাঃ) সহ অনেক বড় ছাহাবী থেকে হাদীছ শুনেন নি। তার উস্তাদগণের অধিকাংশ তাবেয়ী। সুতরাং অত্র বর্ণনায় তাদেরকে পেয়েছি দ্বারা ছাহাবী উদ্দেশ্য বলা মুশকিল।

আরও দেখুন:  গার্মেন্টস, গাড়ী, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ইত্যাদির জন্য ভবিষ্যৎ বিপদের ‘ঝুঁকি তহবিল’ হিসাবে ইসলামী বীমা করা যাবে কি?

গ. অত্র বর্ণানায় তাদেরকে দ্বারা ছাহাবী উদ্দেশ্য হওয়ার চেয়ে তাবেয়ী উদ্দেশ্য হওয়া বেশী যুক্তিযুক্ত কয়েকটি কারণেঃ ১. আবু ইসহাক্ব অধিকাংশ ছাহাবীকে পাননি। ২. যদি অধিকাংশ ছাহাবী টাকা দিয়ে ফিতরা আদায় করতেন তাহলে আরো অনেক তাবেয়ী বিষয়টি বর্ণনা করতেন। ৩. তাবেয়ীগণের পক্ষ থেকে টাকা দিয়ে ফিৎরা আদায় করার বিষয়টি পাওয়া যায় যেমন হাসান বাসরী (রাঃ) । যদিও হাসান বাসরী (রাঃ)-এর বর্ণনার সানাদও সমস্যা মুক্ত নয়। সুতরাং সব দিক বিবেচনায় অত্র রিওয়ায়েতে তাবেয়ী উদ্দেশ্য হওয়াই বেশী যুক্তিযুক্ত।

উল্লেখ্য যে ছহীহ বুখারীর একটি তালীক্বকে কিছু ভাই দলীল হিসেবে পেশ করেছেন। কিন্তু দুঃখের সাথে বলছি সেই বর্ণনার শব্দ এবং তার পূর্বের পরের সকল আলামাত নিশ্চিত ভাবে প্রমাণ করে সেটি সাদাকাতুল ফিতর বিষয়ে নয় বরং ওশর বা সাধারণ যাকাতের বিষয়ে।

বুদ্ধিবৃত্তিক দলীলের জবাব ও কেন খাদ্য দ্রব্য দিয়ে ফিৎরা আদায় করব:

১. যারা টাকা দিয়ে ফিতরার কথা বলছেন তাদের সবচেয় বড় ভুল হচ্ছে, তারা ফিতরাকে শুধু মাত্র ফকীর-মিসকীনগণের উপকার হিসেবে দেখছেন। কখনোই এটাকে নিজের সিয়ামের ভুল ত্রুটির কাফফারা হিসেবে দেখছেন না। তাদের উদ্দেশ্যে প্রথমে আগে রাসূলের হাদীছ-
ﺯَﻛَﺎﺓَ ﺍﻟْﻔِﻄْﺮِ ﻃُﻬْﺮَﺓً ﻟِﻠﺼَّﺎﺋِﻢِ ﻣِﻦْ ﺍﻟﻠَّﻐْﻮِ ﻭَﺍﻟﺮَّﻓَﺚِ ﻭَﻃُﻌْﻤَﺔً ﻟِﻠْﻤَﺴَﺎﻛِﻴﻦِ ﻣَﻦْ ﺃَﺩَّﺍﻫَﺎ ﻗَﺒْﻞَ ﺍﻟﺼَّﻼﺓِ ﻓَﻬِﻲَ ﺯَﻛَﺎﺓٌ ﻣَﻘْﺒُﻮﻟَﺔٌ ﻭَﻣَﻦْ ﺃَﺩَّﺍﻫَﺎ ﺑَﻌْﺪَ ﺍﻟﺼَّﻼﺓِ
ﻓَﻬِﻲَ ﺻَﺪَﻗَﺔٌ ﻣِﻦْ ﺍﻟﺼَّﺪَﻗَﺎﺕِ

তথাঃ ফিতরা হচ্ছে ছিয়াম পালনকারীর জন্য তার ভুল-ত্রুটি থেকে পবিত্রতা স্বরুপ এবং মিসকীনদের জন্য খাদ্য স্বরুপ। যে ব্যক্তি (ঈদের) ছালাত আদায়ের পূর্বে তা আদায় করল তার ফিতরা কবুল যোগ্য। আর যে ছালাতের পরে আদায় করল তার ফিতরা এক প্রকার সাধারণ দান। (আবু দাঊদ, হা/১৩৭১)

আমি জানিনা তারা কি নিশ্চিত যে, তাদের সিয়াম একশ ভাগ সঠিক। যদি তারা নিশ্চিত না হয় তাহলে কেন শুধু ফকীর-মিসকিনের ফায়দা দেখা নিয়ে তারা ব্যস্ত। অামাদের সকলের উচিৎ ছিল, সবার আগে নিজের চিন্তাটা করা। আমাদের সিয়ামের মধ্যে হয়ে যাওয়া ভুল ত্রুটি, গুণাহ-খাতা মাফ করিয়ে নিয়ে সকল ছিয়ামকে মহান আল্লাহর দরবারে পূর্ণাঙ্গ করা। এই দৃষ্টিতে দেখলে আমরা আগে দেখব কোনটাতে আমরা সন্দেহ মুক্ত থাকব? কোন ভাবে ফিতরা দিলে আমার ছিয়ামের কাফফারা হবে? তখন অটোমেটিক টাকার চেয়ে খাদ্য দ্রব্য দিয়ে ফিতরা আদায়ের কথা মাথায় আসবে। কেননা খাদ্য দ্রব্য দিয়ে ফিতরা দিলে নিঃসন্দেহে তা গ্রহণযোগ্য হবে কিন্তু টাকা দিয়ে ফিতরা দিলে অধিকাংশ ওলামায়ে কেরামের নিকট তা গ্রহণযোগ্য হবেনা। মহান আল্লাহ আমাদের হেদায়াত করুন!

আরও দেখুন:  যাকাত ও ট্যাক্সের মধ্যে পার্থক্য কি? বর্তমানে মোটা অংকের অর্থ সরকার আরোপিত ট্যাক্সের পিছনে ব্যয় হয়। যা যাকাতের চেয়ে অনেক বেশী হয়ে যায়। এক্ষণে ট্যাক্স দিলে যাকাতের ফরযিয়াত আদায় হবে কি?

২. সিয়াম ছিলাম খাবার থেকে বিরত থাকার মাধ্যমে তার কাফফারা দিব খাবার দিয়ে। যেমন ছালাতে ভুল হলে ছালাতের প্রধান অংশ সিজদা দিয়ে কাফফারা দেয়া হয়।

৩. মহান আল্লাহ বৃদ্ধ ব্যক্তির জন্য সিয়ামের যে ফিদয়ার কথা বলেছেন তা খাবার সংশ্লিষ্ট। প্রতিদিন একজন মিসকিনকে খাওয়ানো। পূর্ণ সিয়ামের কাফফারা যদি খাবার হয় স্বাভাবিক ভাবে সিয়ামের মধ্যে হওয়া ভুল ত্রুটির কাফফারাও খাবার হবে।

৪. এরপরেও যদি ফকীর-মিসকিনের টাকার দরকার বলে আপনার মন কাঁদে তাহলে বলব, টাকার জন্য তো আলাদা বিধান আছেই। যাকাত আছে। সাধারণ দান আছে। টাকার জন্য এগুলো থাকার পরেও টাকার অজুহাত দেখানো উদ্ভট অজুহাত বৈ কিছুই নয়।

৫. রাসূল (ছাঃ) হাদীছে এখানে তুমাতুল লিল মাসাকিন বলেছেন সাদাকাতুল লিল মাসাকিন বলেন নি। তথা মিসকিনের জন্য খাদ্য বলেছেন সাদাকা বলেননি।

৬. টাকা-পয়সা, দিনার দিরহাম রাসূলের যুগেও ছিল কিন্তু তিনি খাদ্যের কথা বলেছেন। সর্বোপরি সেই যুগের মানুষের টাকার দরকার আরো বেশী ছিল। আজকে তো রাস্তায় দাড়ালেও টাকা পাওয়া যায়।

৭. ফকীর নিতে চায়না, ওজন হয়, কষ্ট হয়। এই সমস্যা তখনি হয়েছে যখন আমরা ভেবেছি ফিতরা তারা নিতে আসবে। অথচ এটা কাফফারা আমাদের পৌঁছে দিতে হবে। আমরা যদি তাদের বাড়ীতে চাউল পৌঁছে দিয়ে আসি তারা কি নিবেনা? নিজেরা সমস্যা তৈরী করব আবার সেই সমস্যার অজুহাতে সুন্নাতকে বাতিল করব কি সেলুকাস!

৮. আদায়ের জন্য যে পরিমাপ আল্লাহর রাসূল বলেছেন তা ‘ছা’। আর টাকার ছা হয়না। খাদ্যদ্রব্যের ছা হয়। সুতরাং শরীয়তের উদ্দেশ্য টাকা নয় খাদ্যদ্রব্য। তেমনি “কার উপর ফিতরা আদায় করা ফর ” এই বিষয়েও ওলামায়ে কিরাম টাকার নিসাব বলেননি। বরং বলেছেন যার বাড়ীতে একদিনের অতিরিক্ত খাবার আছে তার উপর ফরয।

৯. কেউ বলেছেন, সেই যুগে টাকার চেয়ে খাদ্য দ্রব্য দিয়েই বেচাকেনা বেশী হত। রাসূলের এক ‘ছা’ দ্বারা খাবার নয় বরং সমপরিমাণ মূল্য উদ্দেশ্য। এবং দলীল হিসেবে মুয়াবিয়া (রাঃ)-এর ইজতিহাদকে পেশ করেন। তিনি মূল্য দেখে ‘অর্ধ ছা’ গম নির্ধারণ করেছিলেন। মুয়াবিয়া (রাঃ)-এর এই ইজতিহাদ নিয়ে সেই যুগ থেকে সমালোচনা পর্যালোচনা চলে আসছে। আমি সেই দিকে না গিয়ে জাস্ট একটা দিকে ইংগিত করব। সেটা হচ্ছে যদি রাসূলের উদ্দেশ্য ‘ছা’ দ্বরা সমপরিমাণ মূল্য হত তাহলে তিনি যতগুলো খাদ্য দ্রব্যের নাম বলেছেন সবগুলোর ক্ষেত্রে এক ‘ছা’ বলতেন না। বরং মূল্য হিসাব করে যেটাতে যত পরিমাণ হয় তত বলতেন। কেউ যদি বলেন রাসূলের মাথায় যে মূল্য ছিল তখন হয়তো সবগুলোর সেই মূ্ল্যে এক ‘ছা ‘ ছিল। এটা সত্যি বিবেকবিরোধী । সবগুলোই একই মূল্যের ছিল এটা কল্পনা করা অসম্ভব। কিছু না কিছু হলেও কম বেশী হত। সুতরাং সবগুলো এক ‘ছা’ বলা প্রমাণ করে রাসূলের উদ্দেশ্য সমপরিমাণ মূল্য নয় বরং এক ‘ছা’ পরিমাণ খাদ্য দ্রব্য।

আরও দেখুন:  সূদ আদান-প্রদানকারী ব্যাংক বা বীমা প্রতিষ্ঠানকে বাসা ভাড়া দেওয়ায় শরী‘আতে কোন বাধা আছে কি?

৯. তাও যদি বলেন টাকার মধ্যেই দরিদ্র ব্যক্তির উপকার রয়েছে। তাহলে মাইন্ড না করলে একটু কড়া কথা বলি। মহান আল্লাহ এবং তার রাসূল (ছাঃ) এবং খোলাফায়ে রাশেদীন ও তিন ইমাম বুঝলেন না কিসের মধ্যে দরিদ্র ব্যক্তির কল্যাণ রয়েছে আপনি এসেছেন বড়ই কল্যাণকামী! আস্তাগফিরুল্লাহ! আপনি নরমালী জায়েয বলেন ভাল কথা। কিন্তু এই জাতীয় অপযুক্তি দিয়ে মহান আল্লাহ ও তার রাসূলকে নিজের অজান্তেই অপমান করছেন কিনা ভেবে দেখবেন।

ছালাফে-সালেহীনের কিছু মন্তব্যঃ

বর্তমান যুগের তিনজন বিজ্ঞ আলেম আলবানী, উসাইমীন ও ইবনে বায (রাহিমাহুমুল্লাহ আজমাঈন) বলেছেন টাকা দিয়ে ফিতরা আদায় জায়েয হবেনা। ইমাম শাফেয়ী (রহঃ) তার নিজস্ব বই কিতাবুল উম্মে স্পষ্টভাবে বলেছেন,
ﻭَﻟَﺎ ﻳُﺆَﺩِّﻱ ﻗِﻴﻤَﺘَﻪُ
তথাঃ যাকাতুল ফিতরা এগুলোর মূল্যমান দিয়ে আদায় হবেনা। (কিতাবুল উম্ম,২/৭২)

এছাড়া ইমাম মালেক, ইমাম আহমাদ, ইমাম ইবুন আব্দিল বার ও ইমাম নাবাবী (রহিমাহুমুল্লাহ আজমাঈন) সহ জমহুর ওলামায়ে কেরাম বলেছেন টাকা দিয়ে ফিতরা আদায় হবেনা। (মুদাওয়ানা কুবরা,২/৩৮৫; মাজমুয়া, নাবাবী,৬/১১০; মুগনী, ২/৩৫২; মিনহাজ (শারহু মুসলিম) ৭/৬০)

আমার অল্প বুঝে মনে হয়েছে টাকা দিয়ে ফিতরা আদায় করলে তা সাধারণ দান হিসেবে গণ্য হবে ফিতরা হিসেবে নয়। মহান আল্লাহই সর্বাধিক অবগত।

আব্দুল্লাহ বিন আব্দুর রাযযাক
ছাত্র, হাদীছ বিভাগ, মদীনা বিশ্ববিদ্যালয়।

এ সম্পর্কিত আরও পোস্ট

মন্তব্য করুন

Back to top button