স্বাস্থ্য তথ্য

অ্যালার্জি হ’লে করণীয়

প্রতিটি জীবদেহে বিপাকক্রিয়া স্বতন্ত্র ধরনের। কোন কারণে দেহের বিপাকক্রিয়ায় কোন সমস্যা হ’লে স্বাভাবিক নিয়মেই পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হিসাবে নানারকম অ্যালার্জির লক্ষণ দেখা যায়। দুর্ভাগ্যক্রমে অনেকেই নির্দিষ্ট কিছু লক্ষণকে উপেক্ষা করেন এবং অ্যালার্জিকে গুরুত্বের সঙ্গে নেন না। অনেকের ক্ষেত্রে এটি বিশেষ সমস্যা তৈরি না করলেও কারো কারো ক্ষেত্রে অ্যালার্জি অত্যন্ত গুরুতর ও স্পর্শকাতর হয়ে দাঁড়ায় ।

সাধারণ কিছু অ্যালার্জি সম্পর্কে নিম্নে আলোচনা করা হ’ল-

অ্যালার্জির কারণ : অ্যালার্জির অন্যতম কারণ হ’ল পরিবেশগত উপাদান। তবে অনেক সময় জেনেটিক গঠন, পরিবারের কারো অ্যালার্জি থাকলে, বিশেষ করে পিতা-মাতা, ভাই-বোনের মধ্যে অ্যালার্জি থাকলে তা বংশানুক্রমিকভাবে অন্যদের মধ্যেও দেখা যেতে পারে।

এছাড়া ফুলের রেণু বা পরাগ, ধুলা, নানারকম খাবার, পোষা প্রাণী, ঔষধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া, পোকামাকড়ের কামড় ইত্যাদি থেকে অ্যালার্জি হ’তে পারে।

লক্ষণ : চুলকানি, সর্দি, হাঁচি ও শ্বাসকষ্টের প্রবণতা, ত্বক ফুলে ওঠা, লাল রঙের ছোট ছোট ফুসকুড়িতে হাত-পা ভরে যাওয়া ইত্যাদি।

কেন হয় : অ্যালার্জির জন্য দায়ী অন্যতম একটি উপাদান হ’ল ইম্যুনোগ্লোবুলিন বা সংক্ষেপে আইজিই হিসাবে পরিচিত অ্যালার্জিক অ্যান্টিবডি। দেহের জন্য ক্ষতিকর কিছু দেহে প্রবেশ করলে এর প্রতিক্রিয়ায় সেটিকে ধক্ষংস করতে তাৎক্ষণিক ও স্বয়ংক্রিয়ভাবে সৃষ্টি হয় এক ধরনের আমিষ জাতীয় উপাদান, যা অ্যান্টিবডি হিসাবে পরিচিত।

অ্যালার্জি রয়েছে এমন কোন কিছু দেহে প্রবেশ করলে বিপাকক্রিয়ার সাধারণ নিয়মে আইজিই অ্যান্টিবডি সৃষ্টি হয় এবং সেগুলো অ্যালার্জেনের বিরুদ্ধে লড়তে শুরু করে। এসময় অ্যান্টিবডিগুলো দেহের কোষগুলোতে ছড়িয়ে পড়ে এবং অ্যালার্জেন-বিরোধী রাসায়নিক উপাদান কোষে কোষে পৌঁছে দেয়। আর তখনই পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হিসাবে আমাদের দেহ স্পর্শকাতর হয়ে ওঠে এবং অ্যালার্জি দেখা দেয়।

বেশিরভাগ ক্ষেত্রে ধীরে ধীরে অ্যালার্জিক প্রতিক্রিয়া বাড়তে থাকে। একসময়ে তা তীব্র আকার ধারণ করলে দেহে অ্যালার্জেন প্রবেশ করে এবং তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া শুরু হয়।

স্বাস্থ্যবিদ মিহাইল বোগোমোলোভ অ্যালার্জেন প্রতিরোধে সহজ একটি ঘরোয়া পথ্যের সন্ধান দিয়েছেন, যা অ্যালার্জি নিয়ন্ত্রণে কাজ করবে। বিশেষ করে শিশুদের ক্ষেত্রে এই পথ্যটি দারুণ কার্যকর।

প্রয়োজনীয় উপকরণ : ছাগলের দুধ দুই কাপ, তাজা মিষ্টি কুমড়ার রস এক কাপ।

প্রস্ত্তত প্রণালী : ছাগলের দুধ ও মিষ্টি কুমড়ার রস একসঙ্গে মিশিয়ে এতে এক কাপ ফুটানো পানি ঢেলে ভালো করে নাড়তে হবে।

স্বাস্থ্যকর এই তরলটি দিনে তিন থেকে চারবার পান করতে হবে প্রতিবার মূল খাবারের আধা ঘণ্টা আগে। তরলটি হালকা গরম অবস্থায় পান করতে হবে। এক্ষেত্রে পান করার সময় পানীয়টির তাপমাত্রা ৩৪ থেকে ৪৫ ডিগ্রি হওয়া ভালো।

অ্যালার্জি তৈরি করা বিশেষ ধরনের আমিষ জাতীয় উপাদানটি ছাগলের দুধে থাকে না। এটি যকৃত (লিভার) ও পিত্তকোষ (গলব্লাডার) পরিষ্কার রাখে এবং এ দুই প্রত্যঙ্গের স্বাভাবিক কাজকর্মে সাহায্য করে। আর বিভিন্ন রোগের চিকিৎসায় কার্যকরী ও দেহের জন্য প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদান রয়েছে মিষ্টি কুমড়ায়।


Discover more from ইসলামিক অনলাইন মিডিয়া

Subscribe to get the latest posts sent to your email.

মন্তব্য করুন

আরও দেখুন
Close
Back to top button