বিষয়ভিত্তিক হাদীছ

‘সৎকর্মপরায়ণতা’ সম্পর্কিত হাদীছ

1- عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنَ عَمْرِو بْنِ الْعَاصِ قَالَ أَقْبَلَ رَجُلٌ إِلَى نَبِىِّ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ أُبَايِعُكَ عَلَى الْهِجْرَةِ وَالْجِهَادِ أَبْتَغِى الأَجْرَ مِنَ اللَّهِ. قَالَ فَهَلْ مِنْ وَالِدَيْكَ أَحَدٌ حَىٌّ قَالَ نَعَمْ بَلْ كِلاَهُمَا قَالَ فَتَبْتَغِى الأَجْرَ مِنَ اللَّهِ قَالَ نَعَمْ قَالَ فَارْجِعْ إِلَى وَالِدَيْكَ فَأَحْسِنْ صُحْبَتَهُمَا.

আব্দুল্লাহ ইবনু ‘আমর ইবনু ‘আছ (রাঃ) বলেন, জনৈক ব্যক্তি নবী করীম (ছাঃ)-এর নিকটে হিজরত ও জিহাদের বায়‘আত করার জন্য আগমন করল, যার বিনিময়ে সে আল্লাহর সাহায্য কামনা করে। নবী করীম (ছাঃ) তাকে বললেন, তোমার পিতা-মাতার একজন বা উভয়জন কি জীবিত আছেন? লোকটি বলল, হ্যাঁ, দু’জনই আছেন।  তিনি আবার বললেন, তুমি আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন করতে চাও? লোকটি বলল, হ্যাঁ। নবী করীম (ছাঃ) বললেন, তুমি ফিরে যাও এবং তোমারা পিতা-মাতার সাথে সদ্ব্যবহার কর’ (মুসলিম হা/৬৬৭১; মিশকাত হা/৩৮১৭)।

2 عَنِ أَبِيْ سَعِيدٍ الْخُدْرِىِّ قَالَ إِنَّ سَمِعَ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ إِذَا أَسْلَمَ الْعَبْدُ فَحَسُنَ إِسْلاَمُهُ يُكَفِّرُ اللَّهُ عَنْهُ كُلَّ سَيِّئَةٍ كَانَ زَلَفَهَا وَكَانَ بَعْدَ ذَلِكَ الْقِصَاصُ الْحَسَنَةُ بِعَشْرِ أَمْثَالِهَا إِلَى سَبْعِمِائَةِ ضِعْفٍ وَالسَّيِّئَةُ بِمِثْلِهَا إِلاَّ أَنْ يَتَجَاوَزَ اللَّهُ عَنْهَا.

আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ) বলেন, রাসূল (ছাঃ) বলেন, বান্দা যখন ইসলাম গ্রহণ করে এবং তার ইসলামকে উত্তম করে, আল্লাহ তা‘আলা তার পূর্বের পাপ সমূহ ক্ষমা করে দেন। অতঃপর শুরু হয় প্রতিফল; একটি পুণ্যের বিনিময়ে দশ হতে সাতশ গুণ পর্যন্ত দেয়া হয়; আর একটি পাপ কাজের বিনিময়ে ঠিক ততটুকু মন্দ ফল রয়েছে। অবশ্যই আল্লাহ যদি ক্ষমা করে দেন তবে তা অন্য ব্যাপার (বুখারী হা/৪১; মিশকাত হা/২৩৭৩)

3- عَنْ عَائِشَةَ زَوْجَ النَّبِىِّ صلى الله عليه وسلم حَدَّثَتْهُ قَالَتْ جَاءَتْنِى امْرَأَةٌ مَعَهَا ابْنَتَانِ تَسْأَلُنِى فَلَمْ تَجِدْ عِنْدِى غَيْرَ تَمْرَةٍ وَاحِدَةٍ فَأَعْطَيْتُهَا فَقَسَمَتْهَا بَيْنَ ابْنَتَيْهَا ثُمَّ قَامَتْ فَخَرَجَتْ فَدَخَلَ النَّبِىُّ صلى الله عليه وسلم فَحَدَّثْتُهُ فَقَالَ مَنْ يَلِى مِنْ هَذِهِ الْبَنَاتِ شَيْئًا فَأَحْسَنَ إِلَيْهِنَّ كُنَّ لَهُ سِتْرًا مِنَ النَّارِ.

নবী করীম (ছাঃ)-এর স্ত্রী আয়েশা (রাঃ) বলেন, একটি স্ত্রীলোক দু’টি মেয়ে সাথে নিয়ে আমার কাছে এসে কিছু চাইল। আমার কাছে একটি খুরমা ব্যতীত আর কিছু্ই সে পেল না। আমি তাকে ওটা দিলাম। স্ত্রীলোকটি দু’মেয়েকে খুরমাটি ভাগ করে দিল। তারপর সে উঠে বের হয়ে গেল। এ সময় নবী (ছাঃ) এলেন। আমি তাকে ব্যাপারটি জানালাম। তখন তিনি বললেন, যাকে এ সব কন্যা সন্তান দিয়ে কোন পরীক্ষা করা হয়, অতঃপর সে তাদের সাথে ভাল ব্যবহার করে এ কন্যারা তার জন্য জাহান্নামের পর্দা হবে  (বুখারী হা/৫৯৯৫)

4- عَنِ ابْنِ مَسْعُودٍ قَالَ قَالَ رَجُلٌ يَا رَسُولَ اللَّهِ أَنُؤَاخَذُ بِمَا عَمِلْنَا فِى الْجَاهِلِيَّةِ قَالَ مَنْ أَحْسَنَ فِى الإِسْلاَمِ لَمْ يُؤَاخَذْ بِمَا عَمِلَ فِى الْجَاهِلِيَّةِ وَمَنْ أَسَاءَ فِى الإِسْلاَمِ أُخِذَ بِالأَوَّلِ وَالآخِرِ .

আব্দুল্লাহ ইবনু মাসঊদ (রাঃ) বলেন, জনৈক ব্যক্তি বলল, হে আল্লাহর রাসূল (ছাঃ)! জাহেলী যুগের কাজকর্মের জন্য আমাদের কি পাকড়াও করা হবে? তিনি বললেন, যে ব্যক্তি ইসলামী যুগে ভাল কাজ করবে তাকে জাহেলী যুগের কাজ কর্মের জন্য পাকড়াও হবে না। আর যে ব্যক্তি ইসলাম কবুলের পর অসৎ কাজ করবে, তাকে প্রথম ও পরবর্তীর জন্য পাকড়াও করা হবে (বুখারী হা/৬৯২১; মুসলিম হা/৩৩৪)

5- عَنْ عَبْدِ اللَّهِ قَالَ قَالَ رَجُلٌ لِرَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم كَيْفَ لِى أَنْ أَعْلَمَ إِذَا أَحْسَنْتُ وَإِذَا أَسَأْتُ قَالَ النَّبِىُّ صلى الله عليه وسلم إِذَا سَمِعْتَ جِيرَانَكَ يَقُولُونَ قَدْ أَحْسَنْتَ فَقَدْ أَحْسَنْتَ وَإِذَا سَمِعْتَهُمْ يَقُولُونَ قَدْ أَسَأْتَ فَقَدْ أَسَأْتَ.

আব্দুল্লাহ ইবনু মাসঊদ (রাঃ) বলেন, জনৈক ব্যক্তি রাসূল (ছাঃ)-কে বললেন, যখন আমি ভাল ও মন্দ সম্পর্কে জেনে যাব তখন আমি কী করব? নবী করীম (ছাঃ) বললেন, যদি তুমি তোমার প্রতিবেশীর নিকট থেকে ভাল কিছু শুনে থাক তবে তা ভাল করলে। আর যদি তার নিকট থেকে খারাপ কিছু শুনে থাক, তবে তুমি খারাপ করলে (ইবনু মাজাহ হা/৪২২৩; মিশকাত হা/৪৯৮৮, সনদ ছহীহ)

6- عَنْ أَبِى هُرَيْرَةَ قَالَ جَاءَ رَجُلٌ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ مَنْ أَحَقُّ النَّاسِ بِحُسْنِ صَحَابَتِى قَالَ أُمُّكَ قَالَ ثُمَّ مَنْ قَالَ ثُمَّ أُمُّكَ قَالَ ثُمَّ مَنْ قَالَ ثُمَّ أُمُّكَ قَالَ ثُمَّ مَنْ قَالَ ثُمَّ أَبُوكَ

আবু হুরায়রা (রাঃ) বলেন, জনৈক ব্যক্তি রাসূল (ছাঃ)-এর নিকট এসে জিজ্ঞেস করল, মানুষের মধ্যে আমার উত্তম ব্যবহার পাওয়ার সর্বাধিক হক্বদার কে? তিনি বললেন, তোমার মাতা। সে বলল, তারপর কে? তিনি আবার বললেন, তোমার মাতা। অতঃপর লোকটি বলল, তারপর কে? রাসূল (ছাঃ) বলেন, তোমার মাতা। লোকটি আবার বলল, তারপর কে? রাসূল (ছাঃ) বললেন, তোমার পিতা (মুসলিম হা/৬৬৬৪)

7- عَنْ أَبِى هُرَيْرَةَ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَا أَبَا هُرَيْرَةَ كُنْ وَرِعًا تَكُنْ أَعْبَدَ النَّاسِ وَكُنْ قَنِعًا تَكُنْ أَشْكَرَ النَّاسِ وَأَحِبَّ لِلنَّاسِ مَا تُحِبُّ لِنَفْسِكَ تَكُنْ مُؤْمِنًا وَأَحَسِنْ جِوَارَ مَنْ جَاوَرَكَ تَكُنْ مُسْلِمًا وَأَقِلَّ الضَّحِكَ فَإِنَّ كَثْرَةَ الضَّحِكِ تُمِيتُ الْقَلْبَ.

আবু হুরায়রা (রাঃ) বলেন, একদা রাসূল (ছাঃ) বলেন, হে আবু হুরায়রা! আল্লাহভীরুতা অর্জন কর, তাহলে তুমি মানুষদের মধ্যে থেকে সর্বাধিক ইবাদতগুযার হবে। অল্পে তুষ্ট থাক, তাহলে তুমি মানুষদের মধ্যে সর্বাধিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশকারী হবে। তুমি তোমার নিজের জন্য যা পসন্দ কর, অন্যের জন্য তাই পসন্দ কর, তাহলে তুমি মুমিন হবে। তুমি তোমার প্রতিবেশীর নিকট উত্তম প্রতিবেশী হও, তাহলে তুমি প্রকৃত মুসলিম হতে পারবে। আর কম হসো, কেননা অধিক হাসিতে অন্তর মরে যায়’  (ইবনু মাজাহ হা/৪২১৭; সিলসিলা ছহীহাহ হা/৫০৬)

8 عَنْ أَبِى هُرَيْرَةَ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ بَيْنَمَا رَجُلٌ يَمْشِى بِطَرِيقٍ وَجَدَ غُصْنَ شَوْكٍ عَلَى الطَّرِيقِ فَأَخَّرَهُ ، فَشَكَرَ اللَّهُ لَهُ ، فَغَفَرَ لَهُ.

আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, রাসূল (ছাঃ) বলেছেন, এক ব্যক্তি রাস্তা দিয়ে চলার সময় রাস্তায় পড়ে থাকা একটা কাঁটাযুক্ত ডাল দেখে তা সরিয়ে ফেলল। আল্লাহ তা‘আলা তার এ কাজ সাদরে কবুল করলেন অতঃপর তার গুনাহ মাফ করে দিলেন (বুখারী হা/৬৫২; ৫০৪৯)

9 عَنْ أَبِى ذَرٍّ قَالَ قَالَ لِىَ النَّبِىُّ صلى الله عليه وسلم لاَ تَحْقِرَنَّ مِنَ الْمَعْرُوفِ شَيْئًا وَلَوْ أَنْ تَلْقَى أَخَاكَ بِوَجْهٍ طَلْقٍ.

আবু যার (রাঃ) বলেন, নবী করীম (ছাঃ) আমাকে বলেছেন, ‘তুমি কোন সৎ কাজকে ছোট মনে কর না, যদি তুমি তোমার অপর ভাইয়ের সাথে সহাস্য বদনে সাক্ষাৎও কর’ (মুসলিম হা/৬৮৫৭; মিশকাত হা/১৮৯৪)

10عَنْ أُسَامَةَ بْنِ زَيْدٍ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مَنْ صُنِعَ إِلَيْهِ مَعْرُوفٌ فَقَالَ لِفَاعِلِهِ جَزَاكَ اللَّهُ خَيْرًا فَقَدْ أَبْلَغَ فِى الثَّنَاءِ.

উসামা বিন যায়েদ (রাঃ) বলেন, রাসূল (ছাঃ) বলেছেন, কাউকে অনুগ্রহ করা হলে সে যদি অনুগ্রহকারীকে বলে, আল্লাহ তোমাকে উত্তম প্রতিদান প্রদান করুন, তবে সে উপযুক্ত ও পরিপূর্ণ প্রশংসা করল (তিরমিযী হা/২০৩৫; মিশকাত হা/৩০২৪, সনদ ছহীহ)

এ সম্পর্কিত আরও পোস্ট

মন্তব্য করুন

Back to top button