আদব ও আমল

মসজিদের কতিপয় গুরুত্বপূর্ণ আদব

মসজিদ আল্লাহর নিকটে সর্বাধিক প্রিয় স্থান।[1] সেখানে কেবল তাঁরই ইবাদত করতে হবে। আল্লাহ্ তা‘আলা বলেন,وَأَنَّ الْمَسَاجِدَ لِلَّهِ فَلاَ تَدْعُوا مَعَ اللهِ أَحَدًا- ‘আর মসজিদগুলো কেবলমাত্র আল্লাহরই জন্য, কাজেই তোমরা আল্লাহর সঙ্গে অন্য কাউকে ডেক না’ (জিন ৭২/১৮)। এ মসজিদ মুসলমানদের ইবাদতের স্থান। এখানে আগতদের উদ্দেশ্য থাকে কেবল ইবাদত করা। সুতরাং এখানে প্রবেশের জন্য বিশেষ কিছু আদব বা শিষ্টাচার রয়েছে। তন্মধ্যে কয়েকটি নিম্নে উল্লেখ করা হ’ল।-

১. মসজিদে গমনের পথে দো‘আ :

মসজিদে গমনের পথে রাসূল (ছাঃ) দো‘আ পড়তেন। আব্দুল্লাহ ইবনে আববাস (রাঃ) বলেন,

فَخَرَجَ إِلَى الصَّلاَةِ وَهُوَ يَقُوْلُ اللَّهُمَّ اجْعَلْ فِىْ قَلْبِىْ نُوْرًا وَفِىْ لِسَانِىْ نُوْرًا وَاجْعَلْ فِىْ سَمْعِىْ نُوْرًا وَاجْعَلْ فِىْ بَصَرِىْ نُوْرًا وَاجْعَلْ مِنْ خَلْفِىْ نُوْرًا وَمِنْ أَمَامِى نُوْرًا وَاجْعَلْ مِنْ فَوْقِىْ نُوْرًا وَمِنْ تَحْتِى نُوْرًا، اللَّهُمَّ أَعْطِنِىْ نُوْرًا-

‘অতঃপর তিনি ছালাতের জন্য বের হ’লেন। তখন তিনি এ দো‘আ করছিলেন, ‘হে আল্লাহ! আমার হৃদয়ে আলো (নূর) সৃষ্টি করে দাও, আমার দৃষ্টিশক্তিতে আলো সৃষ্টি করে দাও, আমার পিছন দিকে আলো সৃষ্টি করে দাও, আমার সামনের দিকে আলো সৃষ্টি করে দাও, আমার উপর দিক থেকে আলো সৃষ্টি করে দাও এবং আমার নীচের দিক থেকেও আলো সৃষ্টি করে দাও। হে আল্লাহ! আমাকে নূর বা আলো দান করো’।[2]

২. ওযূ করে মসজিদ অভিমুখে গমন করা :

সুন্দররূপে ওযূ করে মসজিদে যাওয়া উত্তম স্বভাব। রাসূলুল্লাহ্ (ছাঃ) বলেন,

مَنْ تَطَهَّرَ فِى بَيْتِهِ ثُمَّ مَشَى إِلَى بَيْتٍ مِنْ بُيُوْتِ اللهِ لِيَقْضِىَ فَرِيضَةً مِنْ فَرَائِضِ اللهِ كَانَتْ خَطْوَتَاهُ إِحْدَاهُمَا تَحُطُّ خَطِيئَةً وَالأُخْرَى تَرْفَعُ دَرَجَةً.

‘যে ব্যক্তি বাড়ী থেকে পাক-পবিত্র হয়ে অর্থাৎ ওযূ করে কোন ফরয ছালাত আদায় করার জন্য হেঁটে আল্লাহর কোন ঘরে অর্থাৎ কোন মসজিদে যায় তার প্রতিটি পদক্ষেপে একটি পাপ ঝরে পড়ে এবং একটি করে মর্যাদা বৃদ্ধিপ্রাপ্ত হয়’।[3]

৩. মসজিদে গমনকালে ধীর-স্থিরভাবে চলা :

ছালাতের জন্য মসজিদে গমনকালে তাড়াহুড়া না করে ধীরে-সুস্থে যাওয়া উত্তম। নবী করীম (ছাঃ) বলেছেন,إِذَا سَمِعْتُمْ الْإِقَامَةَ فَامْشُوْا إِلَى الصَّلَاةِ وَعَلَيْكُمْ بِالسَّكِيْنَةِ وَالْوَقَارِ وَلاَ تُسْرِعُوْا فَمَا أَدْرَكْتُمْ فَصَلُّوْا وَمَا فَاتَكُمْ فَأَتِمُّوْا-  ‘যখন তোমরা এক্বামত শুনতে পাবে, তখন ছালাতের দিকে চলে আসবে, তোমাদের উচিত স্থিরতা ও গাম্ভীর্য অবলম্বন করা। তাড়াহুড়া করবে না। ইমামের সাথে যতটুকু পাও তা আদায় করবে, আর যা ছুটে যায় তা পূর্ণ করবে’।[4] তিনি আরো বলেন,إِذَا أُقِيْمَتْ الصَّلَاةُ فَلاَ تَقُوْمُوْا حَتَّى تَرَوْنِي وَعَلَيْكُمْ بِالسَّكِينَةِ ‘ছালাতের এক্বামত হ’লে আমাকে না দেখা পর্যন্ত তোমরা দাঁড়াবে না। তোমাদের জন্য আবশ্যক হ’ল স্থিরতা অবলম্বন করা’।[5] হাসান (রহঃ) হ’তে বর্ণিত, আবু বকর (রাঃ) বর্ণনা করেন যে,أَنَّهُ دَخَلَ الْمَسْجِدَ وَنَبِىُّ اللهِ صلى الله عليه وسلم رَاكِعٌ  قَالَ فَرَكَعْتُ دُوْنَ الصَّفِّ فَقَالَ النَّبِىُّ صلى الله عليه وسلم زَادَكَ اللهُ حِرْصًا وَلاَ تَعُدْ. ‘একদা আল্লাহর নবী রুকূতে থাকাবস্থায় তিনি মসজিদে প্রবেশ করলেন। বর্ণনাকারী বলেন, আমি কাতারে না পৌঁছেই রুকূ‘ করে নিলাম। নবী করীম (ছাঃ) (আমাকে) বললেন, আল্লাহ তোমার আগ্রহ আরো বাড়িয়ে দিন, তবে পুনরায় এরূপ করো না’।[6]

৪. মসজিদে প্রবেশ ও বের হওয়ার দো‘আ পাঠ করা :

মসজিদে প্রবেশ ও বের হওয়ার সময় দো‘আ পড়া সুন্নাত। রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেন,إِذَا دَخَلَ أَحَدُكُمُ الْمَسْجِدَ فَلْيَقُلِ اللَّهُمَّ افْتَحْ لِى أَبْوَابَ رَحْمَتِكَ. وَإِذَا خَرَجَ فَلْيَقُلِ اللَّهُمَّ إِنِّى أَسْأَلُكَ مِنْ فَضْلِكَ.  ‘তোমাদের কেউ যখন মসজিদে প্রবেশ করে সে যেন এই দো‘আ পড়ে ‘আল্লা-হুম্মাফ্তাহলী আবওয়া-বা রাহমাতিকা’। অর্থ- হে আল্লাহ্! তুমি আমার উপর তোমার রহমতের দরজাগুলো খুলে দাও’। আর যখন বের হয় তখন বলবে, আল্লা-হুম্মা ইন্নী আসআলুকা মিন ফাযলিকা। অর্থ- ‘হে আল্লাহ! আমি তোমার কাছে তোমার অনুগ্রহ কামনা করছি’।[7]

৫. তাহিইয়াতুল মসজিদ ছালাত আদায় করা :

মসজিদে প্রবেশ করে বসার পূর্বে দু’রাক‘আত ছালাত আদায় করা সুন্নাত, যাকে তাহিইয়াতুল মসজিদ বলে। রাসূল (ছাঃ) বলেন,إِذَا دَخَلَ أَحَدُكُمُ الْمَسْجِدَ فَلاَ يَجْلِسْ حَتَّى يُصَلِّيَ رَكْعَتَيْنِ. وفي رواية فَلْيَرْكَعْ رَكْعَتَيْنِ قَبْلَ أَنْ يَجْلِسَ.  ‘তোমাদের কেউ মসজিদে প্রবেশ করলে দু’রাক‘আত ছালাত আদায় করার পূর্বে বসবে না। অন্য বর্ণনায় রয়েছে ‘সে যেন বসার পূর্বে দু’রাক‘আত ছালাত আদায় করে নেয়’।[8]

৬. মসজিদে ক্রয়-বিক্রয় না করা ও হারানো জিনিস না খোঁজা :

মসজিদে বেচাকেনা করা ও হারানো জিনিস খোঁজা নিষেধ। রাসূলুল্লাহ্ (ছাঃ) বলেছেন,إِذَا رَأَيْتُمْ مَنْ يَبِيْعُ أَوْ يَبْتَاعُ فِى الْمَسْجِدِ فَقُوْلُوْا : لاَ أَرْبَحَ اللهُ تِجَارَتَكَ، وَإِذَا رَأَيْتُمْ مَنْ يَنْشُدُ فِيْهِ ضَالَّةً فَقُوْلُوْا : لاَ رَدَّهَا اللهُ عَلَيْكَ. ‘তোমরা মসজিদের ভিতরে কোন লোককে ক্রয়-বিক্রয় করতে দেখলে বলবে, আল্লাহ তা‘আলা যেন তোমার ব্যবসায় কোন লাভ প্রদান না করেন। আর মসজিদের মধ্যে কোন লোককে হারানো জিনিসের ঘোষণা দিতে দেখলে বলবে, তোমার হারানো জিনিসকে যেন আল্লাহ তা‘আলা ফিরিয়ে না দেন’।[9]

৭. পোষাক ও সাজসজ্জা :

মসজিদে সাধ্যপক্ষে সুন্দর পোষাক পরিধান করে গমন করবে। আল্লাহ তা‘আলা বলেন,يَا بَنِيْ آدَمَ خُذُوْا زِيْنَتَكُمْ عِنْدَ كُلِّ مَسْجِدٍ وَكُلُوْا وَاشْرَبُوْا وَلاَ تُسْرِفُوْا إِنَّهُ لاَ يُحِبُّ الْمُسْرِفِيْنَ- ‘হে আদম সন্তান! প্রত্যেক ছালাতের সময় তোমরা সাজসজ্জা গ্রহণ কর। আর খাও, পান কর কিন্তু অপচয় করো না, অবশ্যই তিনি অপচয়কারীদের পসন্দ করেন না’ (আ‘রাফ ৭/৩১)। রাসূলুল্লাহ্ (ছাঃ) বলেন,إِذَا صَلَّى أَحَدُكُمْ فَلْيَلْبَسْ ثَوْبَيْهِ، فَإِنَّ اللهَ عَزَّ وَجَلَّ أَحَقُّ مَنْ يُزَّيَّنُ لَهُ. ‘তোমাদের কেউ যখন ছালাতে দাঁড়াবে সে যেন (সুন্দর) পোষাক পরিধান করে। নিশ্চয়ই আল্লাহ ‘আয্যা ওয়া জাল্লাহ্ তাঁর থেকে সজ্জিত করার হকদার’।[10]

আরও দেখুন:  জিলহজ মাসের প্রথম ১০ দিনের ফযীলত

৮. রসুন-পিঁয়াজ বা অনুরূপ দুর্গন্ধযুক্ত কোন কিছু খেয়ে মসজিদে না যাওয়া :

কাঁচা পিঁয়াজ-রসুন বা এ জাতীয় দুর্গন্ধযুক্ত কোন জিনিস খেয়ে মসজিদে যাওয়া নিষেধ। নবী করীম (ছাঃ) বলেছেন, مَنْ أَكَلَ الْبَصَلَ وَالثُّومَ وَالْكُرَّاثَ، فَلاَ يَقْرَبَنَّ مَسْجِدَنَا فَإِنَّ الْمَلاَئِكَةَ تَتَأَذَّى مِمَّا يَتَأَذَّى مِنْهُ بَنُو آدَمَ. ‘যে ব্যক্তি পিঁয়াজ, রসুন বা পিঁয়াজ জাতীয় সবজি খাবে সে যেন আমার মসজিদের কাছেও না আসে। কেননা মানুষ যেসব জিনিস দ্বারা কষ্ট পায় ফেরেশতাগণও সেসব জিনিস দ্বারা কষ্ট পায়’।[11] অন্যত্র নবী করীম (ছাঃ) বলেন,مَنْ أَكَلَ مِنْ هَذِهِ الشَّجَرَةِ يُرِيْدُ الثُّومَ فَلاَ يَغْشَانَا فِيْ مَسَاجِدِنَا ‘যে ব্যক্তি এই জাতীয় বৃক্ষ হ’তে অর্থাৎ কাঁচা রসুন খায় সে যেন অবশ্যই আমাদের মসজিদে না আসে’।[12]

৯. আযানের পরে মসজিদ থেকে বের না হওয়া :

বিনা ওযরে আযানের পরে মসজিদ থেকে বের হওয়া ঠিক নয়। রাসূল (ছাঃ) বলেন, إِذَا أَذَّنَ الْمُؤَذِّنُ فَلاَ يَخْرُجْ أَحَدٌ حَتَّى يُصَلِّيَ ‘যখন মুওয়াযযিন আযান দেয়, তখন কেউ যেন ছালাত আদায় না করে মসজিদ থেকে বের না হয়’।[13]

১০. মুছল্লীর সম্মুখ দিয়ে অতিক্রম না করা :

নবী করীম (ছাঃ) বলেন,لَوْ يَعْلَمُ الْمَارُّ بَيْنَ يَدَيْ الْمُصَلِّي مَاذَا عَلَيْهِ لَكَانَ أَنْ يَقِفَ أَرْبَعِيْنَ خَيْرًا لَهُ مِنْ أَنْ يَمُرَّ بَيْنَ يَدَيْهِ قَالَ أَبُو النَّضْرِ لَا أَدْرِي أَقَالَ أَرْبَعِيْنَ يَوْمًا أَوْ شَهْرًا أَوْ سَنَةً ‘যদি মুছল্লীর সম্মুখ দিয়ে গমনকারী ব্যক্তির জানা থাকত যে, তার উপর কি পাপের বোঝা চেপেছে, তবে চল্লিশ পর্যন্ত দাঁড়িয়ে থাকাকেও সে প্রাধান্য দিত। আবু নাছর বলেন, আমি জানি না তিনি চল্লিশ দিন, মাস নাকি বছর বলেছেন’।[14] অন্যত্র রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেন,إِذَا صَلَّى أَحَدُكُمْ فَلْيُصَلِّ إِلَى سُتْرَةٍ وَلْيَدْنُ مِنْهَا وَلاَ يَدَعْ أَحَدًا يَمُرُّ بَيْنَ يَدَيْهِ فَإِنْ جَاءَ أَحَدٌ يَمُرَّ فَلْيُقَاتِلْهُ فَإِنَّهُ شَيْطَانٌ ‘তোমাদের কেউ ছালাত আদায় করতে চাইলে যেন সুৎরা সামনে রেখে ছালাত আদায় করে এবং এর নিকটবর্তী হয়। সে যেন তার সামনে দিয়ে কাউকে অতিক্রম করতে না দেয়। অতএব যদি কেউ সামনে দিয়ে অতিক্রম করে, তাহ’লে সে যেন তার সাথে লড়াই করে। কারণ সে একটা শয়তান’।[15]

১১. মসজিদকে রাস্তা হিসাবে গ্রহণ না করা :

তাসবীহ-তাহলীল, যিকর-আযকার ও ইবাদত ব্যতীত কেবল চলাচলের জন্য মসজিদকে রাস্তা হিসাবে গ্রহণ করতে রাসূল (ছাঃ) নিষেধ করেছেন। তিনি বলেন,لاَ تَتَّخَذُوْا الْمَسَاجِدَ طُرُقًا إِلاَّ لِذِكْرٍ أَوْ صَلاَةٍ- ‘তোমরা মসজিদকে রাস্তা হিসাবে গ্রহণ কর না। সেটা কেবল যিকর ও ছালাতের জন্য’।[16]

১২. মসজিদে কণ্ঠস্বর উচ্চ না করা বা শোর-গোল না করা :

মসজিদ ইবাদতের স্থান। সেখানে উচ্চকণ্ঠে কথা বলা ঠিক নয়, যাতে অন্যের ইবাদতে বিঘ্ন ঘটে। আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ) হ’তে বর্ণিত, তিনি বলেন,

اعْتَكَفَ رَسُوْلُ اللهِ صلى الله عليه وسلم فِى الْمَسْجِدِ فَسَمِعَهُمْ يَجْهَرُوْنَ بِالْقِرَاءَةِ فَكَشَفَ السِّتْرَ وَقَالَ أَلاَ إِنَّ كُلَّكُمْ مُنَاجٍ رَبَّهُ فَلاَ يُؤْذِيَنَّ بَعْضُكُمْ بَعْضًا وَلاَ يَرْفَعْ بَعْضُكُمْ عَلَى بَعْضٍ فِى الْقِرَاءَةِ. أَوْ قَالَ فِى الصَّلاَةِ.

‘রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) মসজিদে ই‘তিকাফকালে ছাহাবীদেরকে উচ্চৈঃস্বরে ক্বিরাআত পড়তে শুনে পর্দা সরিয়ে বললেন, জেনে রেখ! তোমাদের প্রত্যেকেই স্বীয় রবের সাথে গোপনে মুনাজাতে রত আছো। কাজেই তোমরা পরস্পরকে কষ্ট দিও না এবং পরস্পরের সামনে ক্বিরাআতে অথবা ছালাতে আওয়ায উঁচু করো না’।[17] ইবনু ওমর ও আব্দুল্লাহ ইবনু আনাস (রাঃ) হ’তে বর্ণিত,

خَرَجَ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَلَى النَّاسِ وَهُمْ يُصَلُّونَ وَقَدْ عَلَتْ أَصْوَاتُهُمْ بِالْقِرَاءَةِ فَقَالَ إِنَّ الْمُصَلِّيَ يُنَاجِي رَبَّهُ فَلْيَنْظُرْ بِمَا يُنَاجِيهِ بِهِ وَلَا يَجْهَرْ بَعْضُكُمْ عَلَى بَعْضٍ بِالْقُرْآنِ-

‘রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) একদল লোকের নিকট আগমন করলেন, সে সময় তারা ছালাত আদায় করছিল এবং উচ্চকন্ঠে কুরআন তেলাওয়াত করছিল। তা দেখে তিনি বললেন, ছালাত আদায়কারী ছালাতরত অবস্থায় তার প্রতিপালকের সাথে মুনাজাত করে। তাই তার উচিত সে কিরূপে মুনাজাত করে তার প্রতি লক্ষ্য রাখা। অতএব একজনের কুরআন তেলাওয়াতের শব্দ অন্যজনের কানে যেন না পৌঁছে’।[18]

অনুরূপভাবে অপ্রয়োজনীয় কথাবার্তা, গল্প-গুজব, হৈচৈ থেকে বিরত থাকা যরূরী। সায়িব ইবনু ইয়াযীদ (রাঃ) হ’তে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি মসজিদে নববীতে দাঁড়িয়েছিলাম। এমন সময় একজন লোক আমার দিকে একটা কাঁকর নিক্ষেপ করল। আমি তাঁর দিকে তাকিয়ে দেখলাম যে, তিনি ওমর ইবনুল খাত্ত্বাব (রাঃ)। তিনি বললেন, যাও, এ দু’জনকে আমার নিকট নিয়ে এসো। আমি তাদেরকে নিয়ে তাঁর নিকটে আসলাম। তিনি বললেন, তোমরা কারা? অথবা তিনি বললেন, তোমরা কোথাকার লোক? তারা বলল, আমরা তায়েফের অধিবাসী। তিনি বললেন, তোমরা যদি মদীনার লোক হ’তে, তাহ’লে আমি অবশ্যই তোমাদের কঠোর শাস্তি দিতাম। কারণ তোমরা দু’জনে আল্লাহর রাসূল (ছাঃ)-এর মসজিদে উচ্চৈঃস্বরে কথা বলছ।[19]

১৩. জুনুবী, হায়েয ও নেফাসওয়ালীদের মসজিদে অবস্থান না করা :

গোসল ফরয হওয়ার পর জুনুবী অবস্থায় এবং হায়েয-নেফাস অবস্থায় মসজিদে অবস্থান করা সমীচীন নয়। এমর্মে হাদীছে এসেছে, আয়েশা (রাঃ) হ’তে বর্ণিত তিনি বলেন,قَالَ لِى رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم نَاوِلِينِى الْخُمْرَةَ مِنَ الْمَسْجِدِ قَالَتْ فَقُلْتُ إِنِّى حَائِضٌ فَقَالَ إِنَّ حَيْضَتَكِ لَيْسَتْ فِى يَدِكِ. ‘একদা নবী করীম (ছাঃ) আমাকে বললেন, মসজিদ থেকে আমাকে মাদুরটি এনে দাও। আমি বললাম, আমি হায়েযা বা ঋতুবতী। তিনি বললেন, তোমার হায়েয তোমার হাতে নেই’।[20]

আরও দেখুন:  যে চৌদ্দটি আমলে রিজিক বাড়ে

১৪. ময়লা-আবর্জনা দ্বারা মসজিদকে অপরিচ্ছন্ন করা থেকে বিরত থাকা :

ময়লা-আবর্জনা ফেলে মসজিদ নোংরা বা অপরিচ্ছন্ন করা নিষেধ। রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেন,إِنَّ هَذِهِ الْمَسَاجِدَ لاَ تَصْلُحُ لِشَىْءٍ مِنْ هَذَا الْبَوْلِ وَلاَ الْقَذَرِ إِنَّمَا هِىَ لِذِكْرِ اللهِ عَزَّ وَجَلَّ وَالصَّلاَةِ وَقِرَاءَةِ الْقُرْآنِ. ‘এ মসজিদ সমূহে পেশাব ও ময়লা দ্বারা অপবিত্রকরণের কোন কাজ করা জায়েয নয়। বরং এটা শুধু আল্লাহর যিকির, ছালাত ও কুরআন পাঠের জন্য’।[21] অনুরূপভাবে থুথু ও কফ মসজিদে ফেলা নিষেধ। রাসূল (ছাঃ) বলেন, الْبُزَاقُ فِى الْمَسْجِدِ خَطِيئَةٌ، وَكَفَّارَتُهَا دَفْنُهَا ‘মসজিদে থুথু ফেলা পাপ, তার প্রতিকার হ’ল তা মিটিয়ে ফেলা’।[22] অন্য বর্ণনায় এসেছে, আয়েশা (রাঃ) বলেন,أَنَّ رَسُوْلَ اللهِ صلى الله عليه وسلم رَأَى فِىْ جِدَارِ الْقِبْلَةِ مُخَاطًا أَوْ بُصَاقًا أَوْ نُخَامَةً فَحَكَّهُ ‘রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) মসজিদের কিবলার দিকের দেওয়ালে শিকনী বা থুথু অথবা কফ লেগে থাকতে দেখে তা খুচিয়ে উঠালেন’।[23] অন্য হাদীছে এসেছে, আয়েশা (রাঃ) হ’তে বর্ণিত, তিনি বলেন,أَمَرَ رَسُوْلُ اللهِ صلى الله عليه وسلم بِبِنَاءِ الْمَسَاجِدِ فِى الدُّورِ وَأَنْ تُنَظَّفَ وَتُطَيَّبَ،  ‘রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) মহল্লায় বা জনবসতিপূর্ণ স্থানে মসজিদ নির্মাণ করার এবং তা পরিচ্ছন্ন ও সুগন্ধিময় রাখার নির্দেশ দিয়েছেন’।[24]

১৫. মহিলাদের জন্য মসজিদে গমন ও কাতারবদ্ধ হওয়ার বিধান :

মহিলারা মসজিদে গিয়ে ছালাত আদায় করতে পারে। তবে তাদের জন্য কিছু বিধি-নিষেধ রয়েছে। যেমন (ক) সুগন্ধি না মাখা। রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেন,إِذَا شَهِدَتْ إِحْدَاكُنَّ الْمَسْجِدَ فَلاَ تَمَسَّ طِيْبًا. ‘তোমাদের মধ্যে কোন নারী মসজিদে গেলে সে যেন সুগন্ধি ব্যবহার না করে’।[25] (খ) বেপর্দা হয়ে না আসা এবং সৌন্দর্য প্রকাশ না করা (নূর ২৪/৩০; আহযাব ৩৩/৩৩)। (গ) পিছনের কাতারে দাঁড়ানো। রাসূলুল্লাহ্ (ছাঃ) বলেন,خَيْرُ صُفُوْفِ الرِّجَالِ أَوَّلُهَا وَشَرُّهَا آخِرُهَا وَخَيْرُ صُفُوْفِ النِّسَاءِ آخِرُهَا وَشَرُّهَا أَوَّلُهَا. ‘ছালাতে পুরুষদের জন্যে সবচেয়ে উত্তম কাতার হ’ল প্রথম কাতার এবং নিকৃষ্টতম কাতার হ’ল পিছনের কাতার। আর মহিলাদের জন্য সবচেয়ে উত্তম কাতার হ’ল পিছনের কাতার এবং সবচেয়ে নিকৃষ্ট কাতার হ’ল প্রথম কাতার’।[26]

জুম‘আর দিনের আদব বা শিষ্টাচার

জুম‘আর দিনের জন্য বিশেষ কিছু আদব রয়েছে। প্রত্যেক মুমিনের জন্য তা পালন করা যরূরী। এসব আদবের মধ্যে কিছু নিম্নে উল্লেখ করা হ’ল।-

ক. গোসল করা : নবী করীম (ছাঃ) বলেন,حَقٌّ عَلَى كُلِّ مُسْلِمٍ أَنْ يَغْتَسِلَ فِيْ كُلِّ سَبْعَةِ أَيَّامٍ يَوْمًا يَغْسِلُ فِيْهِ رَأْسَهُ وَجَسَدَهُ- ‘প্রত্যেক মুসলিমের উপর হক রয়েছে যে, প্রতি সাত দিনের একদিন সে গোসল করবে, তার মাথা ও শরীর ধৌত করবে’।[27] রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেছেন,مَنْ جَاءَ مِنْكُمْ الْجُمُعَةَ فَلْيَغْتَسِلْ ‘যে ব্যক্তি জুম‘আর ছালাতে আসবে সে যেন গোসল করে’।[28] রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেছেন,غُسْلُ يَوْمِ الْجُمُعَةِ وَاجِبٌ عَلَى كُلِّ مُحْتَلِمٍ ‘জুম‘আর দিনে প্রত্যেক সাবালকের জন্য গোসল করা ওয়াজিব’।[29]

খ. ওযূ করে মসজিদ অভিমুখে গমন করা : নবী করীম (ছাঃ) বলেন,مَنْ تَوَضَّأَ فَأَحْسَنَ الْوُضُوْءَ ثُمَّ أَتَى الْجُمُعَةَ فَاسْتَمَعَ وَأَنْصَتَ غُفِرَ لَهُ مَا بَيْنَهُ وَبَيْنَ الْجُمُعَةِ وَزِيَادَةُ ثَلاَثَةِ أَيَّامٍ وَمَنْ مَسَّ الْحَصَى فَقَدْ لَغَا. ‘যে ব্যক্তি ওযূ করবে এবং তা উত্তমরূপে করবে, অতঃপর জুম‘আর ছালাতে যাবে ও চুপচাপ খুৎবা শুনবে, তাহ’লে তার এ জুম‘আ হ’তে ঐ জুম‘আ পর্যন্ত সমস্ত গুনাহ ক্ষমা করা হবে, অধিকন্তু আরো তিন দিনের। আর যে ব্যক্তি খুৎবার সময় কঙ্কর নাড়ল সে অনর্থক কাজ করল’।[30]

গ. নফল ছালাত আদায় করা ও চুপ করে বসে খুৎবা শ্রবণ করা : নবী করীম (ছাঃ) বলেন, مَنِ اغْتَسَلَ ثُمَّ أَتَى الْجُمُعَةَ فَصَلَّى مَا قُدِّرَ لَهُ ثُمَّ أَنْصَتَ حَتَّى يَفْرُغَ مِنْ خُطْبَتِهِ ثُمَّ يُصَلِّىَ مَعَهُ غُفِرَ لَهُ مَا بَيْنَهُ وَبَيْنَ الْجُمُعَةِ الأُخْرَى وَفَضْلَ ثَلاَثَةِ أَيَّامٍ. ‘যে ব্যক্তি গোসল করে জুম‘আর ছালাতে আসবে অতঃপর তার সাধ্যানুযায়ী ছালাত আদায় করবে, তারপর ইমাম খুৎবা শেষ করা পর্যন্ত চুপ করে থাকবে; অতঃপর ইমামের সাথে ছালাত আদায় করবে, তার এই জুম‘আ ও পরবর্তী জুম‘আর মাঝের পাপ সমূহ ক্ষমা করা হবে। এমনকি অতিরিক্ত আরো তিন দিনের পাপ ক্ষমা করা হবে’।[31]

ঘ. সুন্দর কাপড় পরা ও সুগন্ধি মাখা : রাসূলুল্লাহ্ (ছাঃ) বলেন,

مَنِ اغْتَسَلَ يَوْمَ الْجُمُعَةِ وَمَسَّ مِنْ طِيْبٍ إِنْ كَانَ لَهُ، وَلَبِسَ مِنْ أَحْسَنِ ثِيَابِهِ، ثُمَّ خَرَجَ وَعَلَيْهِ السَّكِيْنَةُ حَتىَّ يَأْتِيَ الْمَسْجِدَ، ثُمَّ يَرْكُعُ مَا بَدَا لَهُ، وَلَمْ يُؤْذِ أَحَدًا، ثُمَّ أَنْصَتَ إِذَا خَرَجَ إِمَامُهُ حَتىَّ يُصَلِّيَ كَانَتْ لَهُ كَفَّارَةٌ لِمَا بَيْنَهُمَا.

‘যে ব্যক্তি জুম‘আর দিন গোসল করে, তার কাছে সুগন্ধি থাকলে ব্যবহার করবে এবং উত্তম পোশাক পরিধান করবে অতঃপর সেখানে ধীরস্থিরভাবে গমন করবে, মহান আল্লাহর নির্ধারিত ছালাত আদায় করবে, কাউকে কষ্ট দিবে না এবং ইমামের খুৎবা থেকে ছালাত শেষ করা পর্যন্ত নীরবতা অবলম্বন করবে তাহ’লে এটা তার জন্য (দুই জুম‘আর মধ্যবর্তী গোনাহের) কাফফারা হবে’।[32]

ঙ. মেসওয়াক করা : রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেন,غُسْلُ يَوْمِ الْجُمُعَة وَاجِبٌ عَلَى كُلّ مُحْتَلِمٍ، وَالسِّوَاكُ، وَأَنْ يَمَسَّ مِنْ الطِّيْبِ مَا يَقْدِرُ عَلَيْهِ. ‘জুম‘আর দিন প্রত্যেক প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তির গোসল ও মিসওয়াক করা কর্তব্য। সামর্থ্য থাকলে সে যেন সুগন্ধি ব্যবহার করে’।[33]

আরও দেখুন:  ঈছালে ছওয়াব : একটি তাত্ত্বিক বিশ্লেষণ (১)

চ. সকাল সকাল মসজিদে গমন করা : রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেন,

مَنْ غَسَّلَ يَوْمَ الْجُمُعَةِ وَاغْتَسَلَ ثُمَّ بَكَّرَ وَابْتَكَرَ وَمَشَى وَلَمْ يَرْكَبْ وَدَنَا مِنَ الإِمَامِ فَاسْتَمَعَ وَلَمْ يَلْغُ كَانَ لَهُ بِكُلِّ خُطْوَةٍ عَمَلُ سَنَةٍ أَجْرُ صِيَامِهَا وَقِيَامِهَا.

‘যে ব্যক্তি জুম‘আর দিন ভালভাবে গোসল করে। অতঃপর সকাল সকাল পায়ে হেঁটে মসজিদে যায়, বাহনে নয় এবং ইমামের কাছাকাছি বসে ও মনোযোগ দিয়ে খুৎবা শোনে, আর অনর্থক কিছু না করে, তার প্রতি পদক্ষেপে এক বছরের ছিয়াম ও ক্বিয়ামের অর্থাৎ দিনে ছিয়াম ও রাতের বেলায় নফল ছালাতের সমান নেকী হয়’।[34] অন্যত্র তিনি বলেন,

مَنِ اغْتَسَلَ يَوْمَ الْجُمُعَةِ غُسْلَ الْجَنَابَةِ ثُمَّ رَاحَ فَكَأَنَّمَا قَرَّبَ بَدَنَةً، وَمَنْ رَاحَ فِي السَّاعَةِ الثَّانِيَةِ فَكَأَنَّمَا قَرَّبَ بَقَرَةً، وَمَنْ رَاحَ فِي السَّاعَةِ الثَّالِثَةِ فَكَأَنَّمَا قَرَّبَ كَبْشًا أَقْرَنَ، وَمَنْ رَاحَ فِي السَّاعَةِ الرَّابِعَةِ فَكَأَنَّمَا قَرَّبَ دَجَاجَةً، وَمَنْ رَاحَ فِي السَّاعَةِ الْخَامِسَةِ فَكَأَنَّمَا قَرَّبَ بَيْضَةً، فَإِذَا خَرَجَ الْإِمَامُ حَضَرَتْ الْمَلَائِكَةُ يَسْتَمِعُونَ الذِّكْرَ وفي رواية لمسلم فَإِذَا جَلَسَ الإِمَامُ طَوَوُا الصُّحُفَ وَجَاءُوْا يَسْتَمِعُونَ الذِّكْرَ.

‘যে ব্যক্তি জুম‘আর দিন জানাবাতের (অপবিত্রতার) গোসলের ন্যায় গোসল করে এবং ছালাতের জন্য আগমন করে সে যেন একটি উট কুরবানী করল। যে ব্যক্তি দ্বিতীয় পর্যায়ে আগমন করে সে যেন একটি গাভী কুরবানী করল। তৃতীয় পর্যায়ে যে আগমন করে সে যেন একটি শিং বিশিষ্ট দুম্বা কুরবানী করল। চতুর্থ পর্যায়ে যে আগমন করল সে যেন একটি মুরগী কুরবানী করল। পঞ্চম পর্যায়ে যে আগমন করল সে যেন একটি ডিম কুরবানী করল। পরে ইমাম যখন খুৎবা দেয়ার জন্য বের হন তখন ফেরেশতাগণ যিকির শ্রবণের জন্য উপস্থিত হয়ে থাকে। মুসলিমের অন্য বর্ণনায় রয়েছে, ইমাম যখন বসে পড়েন তখন তারা এসব লেখা পুস্তিকা বন্ধ করে দেন এবং তাঁরা মসজিদে এসে যিকির শুনতে থাকেন’।[35]

ছ. কারো ঘাড় ডিঙিয়ে সামনে না যাওয়া : আবু যাহিরিয়্যাহ (রাঃ) হ’তে বর্ণিত, তিনি বলেন,

كُنَّا مَعَ عَبْدِ اللهِ بْنِ بُسْرٍ صَاحِبِ النَّبِىِّ صلى الله عليه وسلم يَوْمَ الْجُمُعَةِ فَجَاءَ رَجُلٌ يَتَخَطَّى رِقَابَ النَّاسِ فَقَالَ عَبْدُ اللهِ بْنُ بُسْرٍ جَاءَ رَجُلٌ يَتَخَطَّى رِقَابَ النَّاسِ يَوْمَ الْجُمُعَةِ وَالنَّبِىُّ صلى الله عليه وسلم يَخْطُبُ فَقَالَ لَهُ النَّبِىُّ صلى الله عليه وسلم اجْلِسْ فَقَدْ آذَيْتَ. وفي رواية: اجْلِسْ فَقَدْ آذَيْتَ وَآنَيْتَ-

‘একদা জুম‘আর দিন এক ব্যক্তি লোকদের ঘাড় ডিঙ্গিয়ে সামনে অগ্রসর হচ্ছিল। নবী করীম (ছাঃ) তখন খুৎবা দিচ্ছিলেন। নবী করীম (ছাঃ) বললেন, তুমি বস, তুমি অন্যকে কষ্ট দিচ্ছ’।[36] অন্য বর্ণনায় রয়েছে, অনর্থক কাজ করছ’।[37] অর্থাৎ তুমি বিলম্বিত করেছ ও শেষে এসেছ।

উপসংহার : পরিশেষে বলব, মসজিদে গমনের জন্য উপরোক্ত আদবগুলো পালন করা মুমিনের জন্য আবশ্যক। এর মাধ্যমে ইহকালীন কল্যাণ ও পরকালীন মুক্তি হাছিল হবে ইনশাআল্লাহ। আল্লাহ আমাদের সকলকে উক্ত কাজগুলো পালন করার তাওফীক দান করুন-আমীন!

[1]. মুসলিম হা/১৫৬০; মিশকাত হা/৬৯৬

[2]. মুসলিম হা/৭৬৩

[3]. মুসলিম হা/৬৬৬ [১৫৫৩]

[4]. বুখারী হা/৬৩৬; মুসলিম হা/৬০৪

[5]. বুখারী হা/৬৩৮

[6]. আবু দাউদ হা/৬৮৩-৬৮৪ সনদ ছহীহ

[7]. মুসলিম হা/৭১৩ [১৬৮৫]; মিশকাত হা/৭০৩

[8]. বুখারী হা/১১৬৩; মুসলিম হা/১৬৮৭

[9]. তিরমিযী হা/১৩২১; মিশকাত হা/৭৩৩; ইরওয়া হা/১৪৯৫, হাদীছ ছহীহ

[10]. ত্বাবারাণী, মু‘জামুল আওসাত হা/৯৩৬৮; সিলসিলা ছহীহাহ হা/১৩৬

[11]. বুখারী হা/৮৫৪; মুসলিম হা/৫৬১ [১২৮২]

[12]. বুখারী হা/৮৫৪

[13]. ছহীহুল জামে‘ হা/২৯৭; মিশকাত হা/১০৭৪, সনদ হাসান

[14]. বুখারী হা/৫১০; মুসলিম হা/৫০৭; মিশকাত হা/৭৭৬

[15]. আবু দাউদ হা/৬৯৪-৯৫; ইবনু মাজাহ হা/৯৫৪; ছহীহুল জামে‘ হা/৬৪১, ৬৫৩, সনদ ছহীহ

[16]. হাকেম, ছহীহাহ হা/১০০১; ছহীহুল জামে‘ হা/৭২১৫

[17]. আহমাদ হা/১১৯১৫; আবু দাউদ হা/১৩৩২; ছহীহাহ হা/১৫৯৭

[18]. মুওয়াত্ত্বা হা/২৬৪; মিশকাত হা/৮৫৬; ছহীহুল জামে‘ হা/৩৭১৪; ছহীহাহ হা/১৬০৩।।

[19]. বুখারী হা/৪৭০

[20]. মুসলিম হা/২৯৮; আবু দাউদ হা/২৬১; মিশকাত হা/৫৪৯ ‘হায়েয’ অনুচ্ছেদ

[21]. বুখারী হা/১২২১; মুসলিম হা/২৮৫; মিশকাত হা/৪৯২

[22]. বুখারী হা/৪১৫; মুসলিম হা/৫৫২; মিশকাত হা/৭০৮

[23]. বুখারী হা/৪০৭; মুসলিম হা/৫৪৯; নাসাঈ হা/৭২৪

[24]. আবু দাউদ হা/৪৫৫; তিরমিযী হা/৫৯৪, সনদ ছহীহ

[25]. মুসলিম হা/৪৪৩ [১০২৫]; মিশকাত হা/১০৬০

[26]. মুসলিম হা/৪৪০ [১০১৩]; মিশকাত হা/১০৯২

[27]. বুখারী হা/৮৯৭; মুসলিম হা/৮৪৯ [২০০০]; মিশকাত হা/৫৩৯

[28]. বুখারী হা/৮৯৪; মুসলিম হা/৮৪৪ [১৯৮৯]

[29]. বুখারী হা/৮৭৯; মুসলিম হা/৮৪৬ [২৬৬৫]

[30]. মুসলিম হা/৮৫৭ [২০২৫]; মিশকাত হা/ ১৩৮৩

[31]. মুসলিম হা/৮৫৬ [২০২৪]; মিশকাত হা/১৩৮২

[32]. আহমাদ হা/২৩৬১৮; ছহীহ আত-তারগীব হা/৬৮৮[১০৩৫]

[33]. মুসলিম হা/৮৪৬ [১৯৯৭]

[34]. তিরমিযী হা/৪৯৬; আবু দাউদ হা/৩৪৫; নাসাঈ হা/১৩৮১, ১৩৮৪; ইবনু মাজাহ হা/১০৮৭; মিশকাত হা/১৩৮৮, হাদীছ ছহীহ

[35]. বুখারী হা/৮৮১,৩২১১; মুসলিম হা/৮৫০

[36]. আহমাদ, আবু দাউদ হা/১১১৮; নাসাঈ হা/১৩৯৯, সনদ ছহীহ।

[37]. ইবনু মাজাহ হা/১১১৫, সনদ ছহীহ।

এ সম্পর্কিত আরও পোস্ট

মন্তব্য করুন

Back to top button