আদব ও আমল

ছালাতের আদব সমূহ

ছালাত একটি গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত। এর উপরেই অন্যান্য ইবাদত কবুল হওয়া বা না হওয়া নির্ভর করে। ছালাত সঠিক হ’লে অন্যান্য সব ইবাদত সঠিক হবে। আর ছালাত বাতিল হ’লে অন্যান্য সব ইবাদত বাতিল হবে। তাই ছালাতকে মানদন্ড বলা যায়। ছালাত সম্পাদনের কতিপয় আদব কুরআন ও হাদীছে উল্লিখিত হয়েছে। যেগুলি প্রতিপালন করলে ছালাত সঠিক হবে এবং কাঙ্ক্ষিত ছওয়াব অর্জিত হবে। পক্ষান্তরে এগুলি প্রতিপালন না করলে ছালাত যেমন সঠিক হবে না, তেমনি কাঙ্ক্ষিত ছওয়াবও অর্জিত হবে না। নিম্নে ছালাত আদায়ের আদবসমূহ উল্লেখ করা হ’ল।-

১. ইখলাছ বা একনিষ্ঠতা :

ইখলাছ সব আমলের ক্ষেত্রে যরূরী। ইখলাছ বিহিন কোন আমল কবুল হয় না। তেমনি ছালাতের ক্ষেত্রেও ইখলাছ আবশ্যক। আল্লাহ তা‘আলা বলেন,وَمَا أُمِرُوْا إِلَّا لِيَعْبُدُوْا اللهَ مُخْلِصِيْنَ لَهُ الدِّيْنَ حُنَفَاءَ وَيُقِيْمُوْا الصَّلَاةَ وَيُؤْتُوْا الزَّكَاةَ وَذَلِكَ دِيْنُ الْقَيِّمَةِ- ‘অথচ তাদেরকে এছাড়া কোন নির্দেশ দেয়া হয়নি যে, তারা খালেছ অন্তরে একনিষ্ঠভাবে কেবলমাত্র আল্লাহর ইবাদত করবে এবং ছালাত কায়েম করবে ও যাকাত আদায় করবে। আর এটাই হ’ল সরল দ্বীন’ (বাইয়েনাহ ৯৮/৫)

রাসূল (ছাঃ) বলেন,إِنَّ اللهَ لاَ يَقْبَلُ مِنَ الْعَمَلِ إِلاَّ مَا كَانَ لَهُ خَالِصًا وَابْتُغِىَ بِهِ وَجْهُهُ، ‘নিশ্চয়ই আল্লাহ সে আমল গ্রহণ করবেন না, যাতে ইখলাছ ও আল্লাহর সন্তুষ্টির প্রত্যাশা করা হয়নি’।[1] সুতরাং আল্লাহ ইখলাছপূর্ণ আমল কবুল করেন, যাতে কোন রিয়া বা লৌকিকতা ও শ্রবণ করানোর চিন্তা নেই। আর যাতে কোন প্রকার শিরক নেই।

২. বিনয়ের সাথে ছালাত আদায় করা :

বিনীতভাবে ছালাত আদায়কারী মুমিনদেরকে আল্লাহ সফলকাম বলে উল্লেখ করেছেন। আল্লাহ তা‘আলা বলেন,قَدْ أَفْلَحَ الْمُؤْمِنُوْنَ، الَّذِيْنَ هُمْ فِيْ صَلاَتِهِمْ خَاشِعُوْنَ- ‘ঐ সকল মুমিন সফলকাম, যারা ছালাতে বিনয়াবনত’ (মুমিনূন ২৩/১-২)। তিনি আরো বলেন, وَاسْتَعِيْنُوْا بِالصَّبْرِ وَالصَّلاَةِ وَإِنَّهَا لَكَبِيْرَةٌ إِلاَّ عَلَى الْخَاشِعِيْنَ ‘তোমরা ধৈর্য ও ছালাতের মাধ্যমে সাহায্য চাও। নিশ্চয়ই তা বিনয়ী-একনিষ্ঠ ব্যতীত অন্যদের উপর অতীব কষ্টকর’ (বাক্বারাহ ২/৪৫)।

৩. একাগ্রতা সহকারে ছালাত আদায় করা :

নিবিষ্ট মনে একাগ্রতা সহকারে ছালাত আদায় করা যরূরী। কারণ ছালাতে একাগ্রতা ও যথাযথ মনোযোগ না থাকলে তা পরিপূর্ণরূপে আল্লাহর দরবারে কবূল হয় না। তাই রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) একাগ্রতা সহকারে ছালাত আদায়ের নির্দেশ দিয়েছেন। রাসূল (ছাঃ) বলেন,أَنْ تَعْبُدَ اللهَ كَأَنَّكَ تَرَاهُ، فَإِنْ لَّمْ تَكُنْ تَرَاهُ فَإِنَّهُ يَرَاكَ ‘আল্লাহর ইবাদত কর এমনভাবে, যেন তাঁকে তুমি দেখতে পাচ্ছ। আর যদি দেখতে না পাও, তবে তিনি যেন তোমাকে দেখছেন’।[2]

একাগ্রতা সহকারে ছালাত আদায় করতে পারলে জান্নাত অবধারিত হয়ে যায়। রাসূল (ছাঃ) বলেন,مَنْ تَوَضَّأَ فَأَحْسَنَ الْوُضُوْءَ ثُمَّ صَلَّى رَكْعَتَيْنِ يُقْبِلُ عَلَيْهِمَا بِقَلْبِهِ وَوَجْهِهِ وَجَبَتْ لَهُ الْجَنَّةُ ‘যে সুন্দরভাবে ওযূ করে, অতঃপর মন ও শরীর একত্র করে (একাগ্রতার সাথে) দু’রাক‘আত ছালাত আদায় করে, তার জন্য জান্নাত ওয়াজিব হয়ে যায়’।[3]

৪. দাঁড়িয়ে ছালাত আদায় করা :

সুস্থ ও স্বাভাবিক অবস্থায় দাঁড়িয়ে ছালাত আদায় করতে হবে। দাঁড়িয়ে ছালাত আদায়ে অপারগ হ’লে বসে এবং তাও সম্ভব না হ’লে শুয়ে ছালাত আদায় করতে হবে। রাসূল (ছাঃ) বলেন,صَلِّ قَائِمًا، فَإِنْ لَمْ تَسْتَطِعْ فَقَاعِدًا، فَإِنْ لَمْ تَسْتَطِعْ فَعَلَى جَنْبٍ، ‘দাঁড়িয়ে ছালাত আদায় করবে, তা না পারলে বসে; যদি তাও না পার তাহ’লে শুয়ে’।[4]

৫. ছালাতের আহকাম-আরকান যথাযথভাবে আদায় করা :

ছালাত সম্পাদনের যাবতীয় বিধিবিধান যথাযথভাবে আদায় করা ছালাত কবুল হওয়ার জন্য যরূরী। যথাযথ পবিত্রতা অর্জনের পর রুকূ‘-সিজদা, কিয়াম-কুঊদ সঠিকভাবে করতে হবে। অন্যথা ছালাত কবুল হবে না। রাসূল (ছাঃ) বলেন,

الصَّلاةُ ثَلاثَةُ أَثْلاثٍ: الطَّهُوْرُ ثُلُثٌ، والرُّكُوْعُ ثُلُثٌ، وَالسُّجُوْدُ ثُلُثٌ فَمَنْ أَدَّاهَا بِحَقِّهَا قُبِلَتْ مِنْهُ وَقُبِلَ مِنْهُ سَائِرُ عَمَلِهِ وَمَنْ رُدَّتْ عَلَيْهِ صَلاتهُ رُدَّ عَلَيْهِ سَائِرُ عَمَلِهِ-

‘ছালাত তিন ভাগে বিভক্ত। পবিত্রতা এক-তৃতীয়াংশ। রুকূ‘ এক-তৃতীয়াংশ এবং সিজদা এক-তৃতীয়াংশ। সুতরাং যে ব্যক্তি তার হক আদায় করবে, তার থেকে তার ছালাত ও সমস্ত আমল কবুল করা হবে। আর যার ছালাত প্রত্যাখ্যান করা হবে, তার সমস্ত আমল প্রত্যাখ্যান করা হবে’।[5]

৬. ধীর-স্থিরভাবে ছালাত আদায় করা :

ছালাতের আরকান ধীর-স্থিরভাবে আদায় করতে হবে। আবু হুরায়রাহ (রাঃ) হ’তে বর্ণিত, তিনি বলেন, এক ব্যক্তি মসজিদে প্রবেশ করে ছলাত আদায় করল। রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) তখন মসজিদের এক কোণে বসা ছিলেন। এরপর লোকটি রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)-এর নিকট এসে তাঁকে সালাম জানাল। তিনি তাকে বললেন, ওয়া আলায়কাস সালাম; যাও, আবার ছালাত আদায় কর। কেননা তোমার ছালাত হয়নি। সে আবার গেল ও ছালাত আদায় করল। আবার এসে রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)-কে সালাম করল। তিনি উত্তরে বললেন, ওয়া আলায়কাস সালাম। আবার যাও, পুনরায় ছালাত আদায় কর। কেননা তোমার ছালাত হয়নি। এরপর তৃতীয়বার কিংবা এর পরের বার লোকটি বলল, হে আল্লাহর রাসূল! আমাকে শিখিয়ে দিন। তখন তিনি বললেন, তুমি যখন ছালাত আদায় করতে ইচ্ছা করবে (প্রথম) ভালভাবে ওযূ করবে। এরপর ক্বিবলার দিকে দাঁড়িয়ে তাকবীর তাহরীমা বলবে। তারপর কুরআন থেকে যা পড়া তোমার পক্ষে সহজ হয় তা পড়বে। তারপর রুকূ‘ করবে। রুকূ‘তে প্রশান্তির সাথে থাকবে। এরপর মাথা উঠাবে। সোজা হয়ে দাঁড়াবে। অতঃপর সিজদা করবে। সিজদাতে স্থির থাকবে। তারপর মাথা উঠিয়ে স্থির হয়ে থাকবে। এরপর দ্বিতীয় সিজদা করবে। সিজদায় স্থির থাকবে। আবার মাথা উঠিয়ে সোজা হয়ে দাঁড়াবে। এভাবে তুমি তোমার সব ছালাত আদায় করবে।[6]

৭. ছালাতে সুন্নাতে নববীর অনুসরণ :

ছালাত হচ্ছে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত। যাতে রাসূল (ছাঃ)-এর অনুসরণ করা আবশ্যিক। সুতরাং রাসূল করেননি বা বলেননি এমন কোন কিছু ছালাতের মধ্যে করা যাবে না। রাসূল (ছাঃ) বলেন, وَصَلُّوا كَمَا رَأَيْتُمُونِى أُصَلِّى ‘তোমরা ঐভাবে ছালাত আদায় কর, যেভাবে আমাকে আদায় করতে দেখেছ’।[7]

আরও দেখুন:  ইসলামে শিষ্টাচারের গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা

আর রাসূল (ছাঃ)-এর সুন্নাত মুতাবেক সম্পাদিত না হ’লে ছালাত কবুল হবে না। রাসূল (ছাঃ) বলেন,مَنْ عَمِلَ عَمَلاً لَيْسَ عَلَيْهِ أَمْرُنَا فَهْوَ رَدٌّ، ‘যে ব্যক্তি এমন কোন কাজ করল যাতে আমার কোন নির্দেশনা নেই, তা পরিত্যাজ্য’।[8]

৮. ছালাতে সর্বদা আল্লাহর স্মরণে মশগূল থাকা :

মসজিদে আল্লাহর যিকর, দো‘আ, কুরআন তেলাওয়াত প্রভৃতি কাজে মশগূল থাকা যরূরী। সেই সাথে অন্য মুছল্লী যাতে বিরক্ত না হয় সেদিকে বিশেষভাবে লক্ষ্য রাখতে হবে। আর ছালাতের মধ্যে এদিক-সেদিক তাকানো থেকে বিরত থাকতে হবে। কেননা এতে মনোযোগ বিনষ্ট হয়। আয়েশা (রাঃ) হ’তে বর্ণিত, তিনি বলেন,

سَأَلْتُ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم عَنْ الاِلْتِفَاتِ فِى الصَّلاَةِ فَقَالَ هُوَ اخْتِلاَسٌ يَخْتَلِسُهُ الشَّيْطَانُ مِنْ صَلاَةِ الْعَبْدِ.

‘আমি আল্লাহর রাসূল (ছাঃ)-কে ছালাতে এদিক-ওদিক তাকানো সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলাম। তিনি বললেন, এটা এক ধরনের ছিনতাই, যার মাধ্যমে শয়তান বান্দার ছালাত হ’তে অংশ বিশেষ ছিনিয়ে নেয়’।[9]

ছালাতের মধ্যে উপরের দিকে বা আকাশের দিকে তাকানোও নিষেধ। রাসূল (ছাঃ) বলেন,لَيَنْتَهِيَنَّ أَقْوَامٌ عَنْ رَفْعِ أَبْصَارِهِمْ عِنْدَ الدُّعَاءِ فِى الصَّلاَةِ إِلَى السَّمَاءِ أَوْ لَتُخْطَفَنَّ أَبْصَارُهُمْ، ‘লোকেরা ছালাতে দো‘আ করার সময় আসমানের দিকে দৃষ্টিপাত করা থেকে যেন বিরত থাকে। অন্যথা তাদের দৃষ্টিকে ছিনিয়ে নেয়া হবে’।[10] অন্যত্র তিনি বলেন,لَيَنْتَهِيَنَّ أَقْوَامٌ يَرْفَعُوْنَ أَبْصَارَهُمْ إِلَى السَّمَاءِ فِى الصَّلاَةِ أَوْ لاَ تَرْجِعُ إِلَيْهِمْ ‘লোকেরা ছালাতে আকাশের দিকে দৃষ্টিপাত করা থেকে যেন বিরত থাকে। অন্যথা তাদের চক্ষু কখনই তাদের দিকে ফিরে আসবে না’।[11]

৯. উত্তমরূপে ওযূ করা :

ওযূ হচ্ছে ছালাতের চাবি। আর উত্তমরূপে ওযূ করা ছালাত সম্পন্ন হওয়ার জন্য শর্ত। রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেন,

أَلاَ أَدُلُّكُمْ عَلَى مَا يَمْحُو اللهُ بِهِ الْخَطَايَا وَيَرْفَعُ بِهِ الدَّرَجَاتِ. قَالُوْا بَلَى يَا رَسُولَ اللهِ. قَالَ إِسْبَاغُ الْوُضُوْءِ عَلَى الْمَكَارِهِ وَكَثْرَةُ الْخُطَا إِلَى الْمَسَاجِدِ وَانْتِظَارُ الصَّلاَةِ بَعْدَ الصَّلاَةِ فَذَلِكُمُ الرِّبَاطُ-

‘আমি কি তোমাদেরকে বলব না, আল্লাহ তা‘আলা কি দিয়ে গুনাহ মুছে দেন এবং মর্যাদা বাড়িয়ে দেন? ছাহাবীগণ বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! হ্যাঁ (বলে দিন)। তিনি বললেন, কষ্ট সত্ত্বেও ভালভাবে ওযূ করা, মসজিদের দিকে বেশী বেশী যাতায়াত করা এবং এক ছালাত শেষ করে পরবর্তী ছালাতের জন্য অপেক্ষায় থাকা। আর এটাই হ’ল রিবাত (প্রস্ত্ততি)’।[12]

১০. ছালাতে তাকবীরে তাহরীমা :

ছালাতের জন্য তাকবীরে তাহরীমা বলে বুকে হাত বাঁধা ফরয। রাসূল (ছাঃ) বলেন,مِفْتَاحُ الصَّلاَةِ الطُّهُورُ وَتَحْرِيْمُهَا التَّكْبِيْرُ وَتَحْلِيلُهَا التَّسْلِيْمُ، ‘ছালাতের চাবি হচ্ছে পবিত্রতা। তাকবীরে তাহরীমা বা আল্লাহু আকবার বলে ছালাত শুরু করার দ্বারা পার্থিব সকল কাজ হারাম হয়ে যায়। আর সালাম ফিরানোর দ্বারা পার্থিব সকল কাজ হালাল হয়’।[13]

রাসূল (ছাঃ) আরো বলেন,إِذَا قُمْتَ إِلَى الصَّلاَةِ فَكَبِّرْ، ثُمَّ اقْرَأْ مَا تَيَسَّرَ مَعَكَ مِنَ الْقُرْآنِ، ثُمَّ ارْكَعْ حَتَّى تَطْمَئِنَّ رَاكِعًا، ثُمَّ ارْفَعْ حَتَّى تَعْتَدِلَ قَائِمًا، ثُمَّ اسْجُدْ حَتَّى تَطْمَئِنَّ سَاجِدًا، ثُمَّ ارْفَعْ حَتَّى تَطْمَئِنَّ جَالِسًا، وَافْعَلْ ذَلِكَ فِى صَلاَتِكَ كُلِّهَا- ‘যখন তুমি ছালাতের জন্য দাঁড়াবে, তখন তাকবীর বলবে। অতঃপর কুরআন হ’তে যা তোমার পক্ষে সহজ তা পড়বে। অতঃপর রুকূ‘ করবে এবং ধীরস্থিরভাবে রুকূ‘ করবে। এরপর সিজদা করবে এবং ধীরস্থিরভাবে সিজদা করবে। অতঃপর সিজদা হ’তে উঠে স্থির হয়ে বসবে। আর তোমার পুরো ছালাতে এভাবেই করবে’।[14]

১১. নিয়মিত ছালাত আদায় করা :

ছালাত নিয়মিতভাবে আদায় করা। বিশেষ বিশেষ দিনে, শুধু দুই ঈদে কিংবা কেবল শুক্রবারে ছালাত আদায়ের কোন বিধান ইসলামে নেই। মহান আল্লাহ বলেন,الَّذِيْنَ هُمْ عَلَى صَلَاتِهِمْ دَائِمُوْنَ، ‘যারা নিয়মিত ছালাত আদায় করে’ (মাআরিজ ৭০/২৩)

নবী করীম (ছাঃ) বলেন,أَحَبُّ الأَعْمَالِ إِلَى اللهِ تَعَالَى أَدْوَمُهَا وَإِنْ قَلَّ ‘আল্লাহর নিকটে প্রিয় আমল হচ্ছে যা নিয়মিতভাবে করা হয়। যদিও তা অল্প হয়’।[15] তিনি আরো বলেন,وَكَانَ أَحَبَّ الدِّينِ إِلَيْهِ مَا دَاوَمَ عَلَيْهِ صَاحِبُهُ ‘কোন ব্যক্তির নিয়মিত আমলই তাঁর নিকট সর্বাধিক প্রিয় দ্বীন ছিল’।[16]

১২. সময়মত ছালাত আদায় করা :

পাঁচ ওয়াক্ত ছালাতের জন্য নির্ধারিত সময় রয়েছে। সে সময়ে ছালাত আদায় করা আবশ্যক। আল্লাহ তা‘আলা বলেন,إِنَّ الصَّلَاةَ كَانَتْ عَلَى الْمُؤْمِنِينَ كِتَابًا مَوْقُوتًا ‘নিশ্চয় ছালাত মুমিনদের উপর নির্দিষ্ট সময়ের জন্য নির্ধারিত’ (নিসা ৪/১০৩)। যেমন অন্যত্র আল্লাহ বলেন,أَقِمِ الصَّلَاةَ لِدُلُوكِ الشَّمْسِ إِلَى غَسَقِ اللَّيْلِ وَقُرْآنَ الْفَجْرِ إِنَّ قُرْآنَ الْفَجْرِ كَانَ مَشْهُودًا ‘সূর্য অপরাহ্নে ঢলে পড়ার পর থেকে রাত্রির অন্ধকার পর্যন্ত তুমি ছালাত কায়েম কর এবং ফজরের ছালাত আদায় কর। নিশ্চয়ই ফজরের ছালাত (রাত্রি ও দিবসের ফেরেশতাগণের মাধ্যমে) সাক্ষ্যপ্রাপ্ত হয়’ (ইসরা ১৭/৭৮)

রাসূল (ছাঃ) বলেন,أَفْضَلُ الأَعْمَالِ أَوِ الْعَمَلِ الصَّلاَةُ لِوَقْتِهَا وَبِرُّ الْوَالِدَيْنِ. ‘ছালাত সঠিক সময়ে আদায় করা এবং পিতামাতার প্রতি সদ্ব্যবহার করা আমল সমূহের মধ্যে বা আমলের মধ্যে সর্বোত্তম আমল’।[17] অন্য হাদীছে এসেছে,

عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: أَمَّنِي جِبْرِيلُ عَلَيْهِ السَّلَام عِنْدَ الْبَيْتِ مَرَّتَيْنِ، فَصَلَّى بِيَ الظُّهْرَ حِينَ زَالَتِ الشَّمْسُ وَكَانَتْ قَدْرَ الشِّرَاكِ، وَصَلَّى بِيَ الْعَصْرَ حِينَ كَانَ ظِلُّهُ مِثْلَهُ، وَصَلَّى بِيَ يَعْنِي الْمَغْرِبَ حِينَ أَفْطَرَ الصَّائِمُ، وَصَلَّى بِيَ الْعِشَاءَ حِينَ غَابَ الشَّفَقُ، وَصَلَّى بِيَ الْفَجْرَ حِينَ حَرُمَ الطَّعَامُ وَالشَّرَابُ عَلَى الصَّائِمِ، فَلَمَّا كَانَ الْغَدُ صَلَّى بِيَ الظُّهْرَ حِينَ كَانَ ظِلُّهُ مِثْلَهُ، وَصَلَّى بِي الْعَصْرَ حِينَ كَانَ ظِلُّهُ مِثْلَيْهِ، وَصَلَّى بِيَ الْمَغْرِبَ حِينَ أَفْطَرَ الصَّائِمُ، وَصَلَّى بِيَ الْعِشَاءَ إِلَى ثُلُثِ اللَّيْلِ، وَصَلَّى بِيَ الْفَجْرَ فَأَسْفَرَ ثُمَّ الْتَفَتَ إِلَيَّ فَقَالَ: يَا مُحَمَّدُ، هَذَا وَقْتُ الْأَنْبِيَاءِ مِنْ قَبْلِكَ، وَالْوَقْتُ مَا بَيْنَ هَذَيْنِ الْوَقْتَيْنِ-

ইবনু আববাস (রাঃ) হ’তে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেছেন, বায়তুল্লাহর নিকট জিবরীল (আঃ) দু’বার আমার ছালাতে ইমামতি করেছেন। (প্রথমবার) সূর্য (পশ্চিমাকাশে) ঢলে যাওয়ার পর আমাকে নিয়ে তিনি যোহর ছালাত আদায় করলেন। তখন (পূর্ব দিকে) জুতার ফিতার সমান ছায়া দেখা দিয়েছিল। অতঃপর তিনি আমাকে নিয়ে আছরের ছালাত আদায় করলেন, যখন (প্রত্যেক বস্ত্তর) ছায়া তার সমান হয়। এরপর আমাকে নিয়ে তিনি মাগরিবের ছালাত আদায় করলেন, যখন ছিয়াম পালনকারী ইফতার করে থাকে। এরপর তিনি আমাকে নিয়ে এশার ছালাত আদায় করলেন, যখন শাফাক্ব (লাল শুভ্র রং) অন্তর্হিত হয় এবং ফজরের ছালাত আদায় করলেন, যখন ছিয়াম পালনকারীর জন্য পানাহার হারাম হয়ে যায়।

আরও দেখুন:  যে চৌদ্দটি আমলে রিজিক বাড়ে

পরের দিন তিনি আমাকে নিয়ে যোহরের ছালাত আদায় করলেন, (প্রত্যেক বস্ত্তর) ছায়া যখন সমান হ’ল। তিনি আমাকে নিয়ে আছর ছালাত আদায় করলেন, যখন ছায়া তার দ্বিগুণ হ’ল। তিনি আমাকে নিয়ে মাগরিবের ছালাত আদায় করলেন, যখন ছিয়াম পালনকারীর ইফতারের সময় হয়। তিনি আমাকে নিয়ে এশা ছালাত আদায় করলেন রাতের তৃতীয়াংশে এবং ফজর ছালাত আদায় করলেন ভোরের আলো ছড়িয়ে যাওয়ার পর। অতঃপর জিবরীল (আঃ) আমার দিকে ফিরে বললেন, হে মুহাম্মাদ! এটাই হচ্ছে আপনার পূর্ববর্তী নবীগণের ছালাতের ওয়াক্ত। আর ছালাতের ওয়াক্তসমূহ এই দু’সময়ের মাঝখানেই নিহিত’।[18]

১৩. আউয়াল ওয়াক্তে ছালাত আদায় করা :

আউয়াল ওয়াক্তে ছালাত আদায় করা উত্তম আমলের অন্তর্ভুক্ত। হাদীছে এসেছে,

عَنِ الْقَاسِمِ بْنِ غَنَّامٍ عَنْ عَمَّتِهِ أُمِّ فَرْوَةَ وَكَانَتْ مِمَّنْ بَايَعَتِ النَّبِىَّ صلى الله عليه وسلم قَالَتْ سُئِلَ النَّبِىُّ صلى الله عليه وسلم أَىُّ الأَعْمَالِ أَفْضَلُ قَالَ الصَّلاَةُ لأَوَّلِ وَقْتِهَا.

কাসিম ইবনু গান্নাম (রহঃ) হ’তে তার ফুফু ফারওয়া (রাঃ)-এর সূত্রে বর্ণিত আছে, তিনি নবী করীম (ছাঃ)-এর নিকটে বায়‘আত গ্রহণকারিণীদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)-কে প্রশ্ন করা হ’ল, কোন আমলটি সর্বোত্তম? তিনি বললেন, আওয়াল (প্রথম) ওয়াক্তে ছালাত আদায় করা’।[19]

১৪. ক্ষুধার্ত অবস্থায় খাবার সামনে আসলে ছালাত আদায় না করা :

ক্ষুধার্ত থাকলে এবং খানা সামনে উপস্থিত থাকলে আগে খাবার খেয়ে তারপর ছালাত আদায় করতে হবে। রাসূল (ছাঃ) বলেন, لاَ صَلاَةَ بِحَضْرَةِ الطَّعَامِ- ‘খাদ্য উপস্থিত হ’লে ছালাত নেই’।[20]

১৫. পেশাব-পায়খানার চাপ নিয়ে ছালাত আদায় না করা :

পেশাব-পায়খানার বেগ অনুভূত হ’লে তা দ্রুত সম্পন্ন করা উচিত। কেননা রাসূল (ছাঃ) এ অবস্থায় ছালাত আদায় করতে নিষেধ করেছেন। তিনি বলেন,لاَ صَلاَةَ بِحَضْرَةِ الطَّعَامِ وَلاَ وَهُوَ يُدَافِعُهُ الأَخْبَثَانِ- ‘খাদ্য উপস্থিত হ’লে ছালাত নেই এবং পেশাব-পায়খানার চাপ থাকলে কোন ছালাত নেই’।[21] তবে এমতাবস্থায় ছালাত আদায় করলে তা বাতিল হবে না।

১৬. ছালাতের জন্য মসজিদে গমনের পথে আল্লাহর যিকর করা :

বাড়ী থেকে বের হওয়ার সময় ও প্রবেশকালে আল্লাহর যিকর করা তথা ‘বিসমিল্লাহ’ বলা। নবী করীম (ছাঃ) বলেন,

إِذَا دَخَلَ الرَّجُلُ بَيْتَهُ فَذَكَرَ اللهَ عِنْدَ دُخُوْلِهِ وَعِنْدَ طَعَامِهِ قَالَ الشَّيْطَانُ لاَ مَبِيْتَ لَكُمْ وَلاَ عَشَاءَ وَإِذَا دَخَلَ فَلَمْ يَذْكُرِ اللهَ عِنْدَ دُخُوْلِهِ قَالَ الشَّيْطَانُ أَدْرَكْتُمُ الْمَبِيْتَ وَإِذَا لَمْ يَذْكُرِ اللهَ عِنْدَ طَعَامِهِ قَالَ أَدْرَكْتُمُ الْمَبِيْتَ وَالْعَشَاءَ-

‘কোন ব্যক্তি তার ঘরে প্রবেশকালে এবং খাবার গ্রহণকালে আল্লাহর নাম স্মরণ করলে (বিসমিল্লাহ বললে) শয়তান (তার সঙ্গীদেরকে) বলে, তোমাদের রাত্রিযাপন এবং রাতের আহারের কোন ব্যবস্থা হ’ল না। কিন্তু কোন ব্যক্তি তার ঘরে প্রবেশকালে আল্লাহকে স্মরণ না করলে (বিসমিল্লাহ না বললে) শয়তান বলে, তোমরা রাত্রিযাপনের জায়গা পেয়ে গেলে। সে আহারের সময় আল্লাহকে স্মরণ না করলে (বিসমিল্লাহ না বললে) শয়তান বলে, তোমাদের রাতের আহার ও শয্যা গ্রহণের ব্যবস্থা হয়ে গেল’।[22]

বাড়ী থেকে বের হওয়ার সময় রাসূল (ছাঃ) এ দো‘আ পড়তেন,اللَّهُمَّ إِنِّى أَعُوذُ بِكَ أَنْ أَضِلَّ أَوْ أُضَلَّ أَوْ أَزِلَّ أَوْ أُزَلَّ أَوْ أَظْلِمَ أَوْ أُظْلَمَ أَوْ أَجْهَلَ أَوْ يُجْهَلَ عَلَىَّ، ‘হে আল্লাহ! আমি আপনার নিকট পথভ্রষ্ট হওয়া বা পথভ্রষ্ট করা, গুনাহ করা বা গুনাহের দিকে ধাবিত করা, উৎপীড়ন করা বা উৎপীড়িত হওয়া, অজ্ঞতা প্রকাশ করা বা অজ্ঞতা প্রকাশের পাত্র হওয়া থেকে আশ্রয় চাইছি’।[23]

মসজিদে গমনের সময়ও নির্দিষ্ট দো‘আ রয়েছে। আব্দুল্লাহ ইবনে আববাস (রাঃ) বলেন,

فَخَرَجَ إِلَى الصَّلاَةِ وَهُوَ يَقُوْلُ اللَّهُمَّ اجْعَلْ فِىْ قَلْبِىْ نُوْرًا وَفِىْ لِسَانِىْ نُوْرًا وَاجْعَلْ فِىْ سَمْعِىْ نُوْرًا وَاجْعَلْ فِىْ بَصَرِىْ نُوْرًا وَاجْعَلْ مِنْ خَلْفِىْ نُوْرًا وَمِنْ أَمَامِى نُوْرًا وَاجْعَلْ مِنْ فَوْقِىْ نُوْرًا وَمِنْ تَحْتِى نُوْرًا، اللَّهُمَّ أَعْطِنِىْ نُوْرًا-

‘অতঃপর তিনি ছালাতের জন্য বের হ’লেন। তখন তিনি এ দো‘আ করছিলেন, ‘হে আল্লাহ! আমার হৃদয়ে আলো (নূর) সৃষ্টি করে দাও, আমার যবানে আলো সৃষ্টি করে দাও, আমার শ্রবণশক্তিতে আলো সৃষ্টি করে দাও, আমার দৃষ্টিশক্তিতে আলো সৃষ্টি করে দাও, আমার পিছন দিকে আলো সৃষ্টি করে দাও, আমার সামনের দিকে আলো সৃষ্টি করে দাও, আমার উপর দিক থেকে আলো সৃষ্টি করে দাও এবং আমার নীচের দিক থেকেও আলো সৃষ্টি করে দাও। হে আল্লাহ! আমাকে নূর বা আলো দান করো’।[24]

১৭. ধীরস্থির ও শান্তভাবে ছালাতের দিকে গমন করা :

ছালাতের ইক্বামত হ’লেও শান্তভাবে ছালাতে গমন করতে হবে। দৌঁড়ে ছালাতে যাওয়া যাবে না। রাসূল (ছাঃ) বলেন, إِذَا سَمِعْتُمُ الإِقَامَةَ فَامْشُوْا إِلَى الصَّلاَةِ، وَعَلَيْكُمْ بِالسَّكِينَةِ وَالْوَقَارِ وَلاَ تُسْرِعُوْا، فَمَا أَدْرَكْتُمْ فَصَلُّوْا وَمَا فَاتَكُمْ فَأَتِمُّوْا- ‘যখন তোমরা ইক্বামত শুনতে পাবে, তখন ছালাতের দিকে চলে আসবে, তোমাদের উচিত স্থিরতা ও গাম্ভীর্য অবলম্বন করা। তাড়াহুড়া করবে না। অতঃপর ইমামের সাথে যতটুকু পাও তা আদায় করবে, আর যা ছুটে যায় তা পূর্ণ করবে’।[25]

১৮. মসজিদে প্রবেশ ও বের হওয়ার সময় দোআ ও যিকর :

মসজিদে প্রবেশকালে দো‘আ পড়া সুন্নাত। মসজিদে প্রবেশের ক্ষেত্রে প্রথমে ডান পা রেখে বলবে,اَللَّهُمَّ افْتَحْ لِيْ أَبْوَابَ رَحْمَتِكَ- (আল্লা হুম্মাফ্তাহ্লী আবওয়া-বা রহ্মাতিকা) ‘হে আল্লাহ! তুমি আমার জন্য তোমার রহমতের দরজাসমূহ খুলে দাও’।[26] অন্য বর্ণনায় শুরুতে দরূদ পাঠের কথা বলা হয়েছে। যেমন, اَللَّهُمَّ صَلِّ عَلَى مُحَمَّدٍ وَّسَلِّمْ (আল্লা-হুম্মা ছাল্লি আলা মুহাম্মাদিঁউ ওয়া সাল্লিম) ‘হে আল্লাহ! তুমি মুহাম্মাদ (ছাঃ)-এর উপর অনুগ্রহ ও শান্তি বর্ষণ কর’।[27]

আরও দেখুন:  কথাবার্তা বলার আদব বা শিষ্টাচার

মসজিদ থেকে বের হওয়ার সময় প্রথমে বাম পা রেখে বলবে, اَللَّهُمَّ إِنِّيْ أَسْأَلُكَ مِنْ فَضْلِكَ- (আল্লা-হুম্মা ইন্নী আস্আলুকা মিন ফাযলিকা) ‘হে আল্লাহ! আমি তোমার অনুগ্রহ প্রার্থনা করছি’।[28] অন্য বর্ণনায় শুরুতে দরূদ পাঠের কথা বলা হয়েছে। যেমন, اَللَّهُمَّ صَلِّ عَلَى مُحَمَّدٍ وَّسَلِّمْ (আল্লা-হুম্মা ছাল্লি আলা মুহাম্মাদিঁউ ওয়া সাল্লিম) ‘হে আল্লাহ! তুমি মুহাম্মাদ-এর উপর অনুগ্রহ ও শান্তি বর্ষণ কর’।[29]

রাসূল (ছাঃ) মসজিদে প্রবেশকালে নিম্নের দো‘আও পাঠ করতেন,أَعُوْذُ بِاللهِ الْعَظِيْمِ وَبِوَجْهِهِ الْكَرِيْمِ وَسُلْطَانِهِ الْقَدِيْمِ مِنَ الشَّيْطَانِ الرَّجِيْمِ- ‘আমি আশ্রয় প্রার্থনা করছি, অতীব মর্যাদা ও চিরন্তন পরাক্রমশালীর অধিকারী মহান আল্লাহর নিকট বিতাড়িত শয়তান হ’তে’।[30]

১৯. মসজিদ প্রবেশ করে দুরাকআত ছালাত আদায় করা :

মসজিদে প্রবেশ করে বসার পূর্বে দু’রাক‘আত ছালাত আদায় করা সুন্নাত, যাকে তাহিইয়াতুল মাসজিদ বলে। রাসূল (ছাঃ) বলেন,إِذَا دَخَلَ أَحَدُكُمُ الْمَسْجِدَ فَلاَ يَجْلِسْ حَتَّى يُصَلِّيَ رَكْعَتَيْنِ. وفي رواية فَلْيَرْكَعْ رَكْعَتَيْنِ قَبْلَ أَنْ يَجْلِسَ. ‘তোমাদের কেউ মসজিদে প্রবেশ করলে দু’রাক‘আত ছালাত আদায় করার পূর্বে বসবে না। অন্য বর্ণনায় রয়েছে, ‘সে যেন বসার পূর্বে দু’রাক‘আত ছালাত আদায় করে নেয়’।[31]

এমনকি জুম‘আর দিন ইমামের খুৎবা প্রদানকালেও কেউ মসজিদে প্রবেশ করলে ‘তাহিইয়াতুল মসজিদ’ দু’রাকা‘আত ছালাত আদায় করে বসার নির্দেশ এসেছে। জাবের বিন আব্দুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন,

جَاءَ سُلَيْكٌ الْغَطَفَانِىُّ يَوْمَ الْجُمُعَةِ وَرَسُوْلُ اللهِ صلى الله عليه وسلم يَخْطُبُ فَجَلَسَ فَقَالَ لَهُ يَا سُلَيْكُ قُمْ فَارْكَعْ رَكْعَتَيْنِ وَتَجَوَّزْ فِيْهِمَا، ثُمَّ قَالَ إِذَا جَاءَ أَحَدُكُمْ يَوْمَ الْجُمُعَةِ وَالإِمَامُ يَخْطُبُ فَلْيَرْكَعْ رَكْعَتَيْنِ وَلْيَتَجَوَّزْ فِيْهِمَا.

‘সুলাইক গাত্বাফানী (রাঃ) জুম‘আর দিন মসজিদে ঢুকে বসে পড়লেন যখন রাসূল (ছাঃ) খুৎবা দিচ্ছিলেন। তখন রাসূল (ছাঃ) তাকে উদ্দেশ্য করে বললেন, হে সুলাইক! দাঁড়াও। সংক্ষিপ্তাকারে দু’রাক‘আত ছালাত আদায় করে নাও। অতঃপর রাসূল (ছাঃ) বললেন, তোমাদের কেউ খুৎবা চলাকালে মসজিদে প্রবেশ করলে সে যেন সংক্ষিপ্তাকারে দু’রাক‘আত ছালাত আদায় করে নেয়’।[32]

২০. মসজিদে গমনকালে আঙ্গুলের মধ্যে আঙ্গুল না ঢুকানো : মসজিদে গমনের পথে এবং ছালাতের মধ্যে আঙ্গুলের মধ্যে আঙ্গুল ঢুকানো নিষেধ। কা‘ব ইবনু উযরা (রাঃ) হ’তে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেন,إِذَا تَوَضَّأَ أَحَدُكُمْ فَأَحْسَنَ وُضُوءَهُ ثُمَّ خَرَجَ عَامِدًا إِلَى الْمَسْجِدِ فَلاَ يُشَبِّكَنَّ بَيْنَ أَصَابِعِهِ فَإِنَّهُ فِى صَلاَةٍ، ‘যখন তোমাদের কেউ ভালভাবে ওযূ করে ছালাত আদায়ের নিয়তে মসজিদের দিকে যেতে থাকে তখন সে যেন নিজের হাতের আঙ্গুলগুলো পরস্পরের মধ্যে প্রবেশ না করায়। কেননা সে তখন ছালাতের মধ্যেই আছে’।[33]

২১. অহংকার মুক্তভাবে ছালাত আদায় করা :

ছালাত এমনভাবে আদায় করতে হবে যাতে কোনরূপ অহংকার প্রকাশ না পায়। বরং বিনয়ীভাবে ছালাত আদায় করতে হবে। মহান আল্লাহ বলেন,وَقَالَ رَبُّكُمُ ادْعُوْنِيْ أَسْتَجِبْ لَكُمْ إِنَّ الَّذِيْنَ يَسْتَكْبِرُوْنَ عَنْ عِبَادَتِيْ سَيَدْخُلُوْنَ جَهَنَّمَ دَاخِرِيْنَ، ‘তোমাদের প্রতিপালক বলেন, তোমরা আমার কাছে প্রার্থনা কর, আমি তোমাদের প্রার্থনা কবুল করব। যারা অহংকারবশত আমার ইবাদত হ’তে বিমুখ হয় তারা অবশ্যই জাহান্নামে প্রবেশ করবে লাঞ্ছিত হয়ে’ (মুমিন ৪০/৬০)

অতএব ইসলামের গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত ছালাত আদায়ের ক্ষেত্রে উপরোক্ত আদব সমূহ মেনে চলা যরূরী। ফলে ছালাত আল্লাহর নিকটে কবুল হবে এবং অশেষ ছওয়াব হাছিল হবে। আল্লাহ আমাদের সবাইকে জীবনের সকল ক্ষেত্রে ইসলামী শিষ্টাচার মেনে চলার তাওফীক্ব দান করুন-আমীন!

ড. মুহাম্মাদ কাবীরুল ইসলাম


[1]. নাসাঈ হা/৩১৪০; ছহীহাহ হা/৫২; ছহীহুল জামে‘ হা/১৮৫৬।

[2]. বুখারী হা/৫০; মুসলিম হা/৮; মিশকাত হা/২।

[3]. নাসাঈ হা/১৫১; বুখারী হা/১৯৩৪; মিশকাত হা/২৮৭।

[4]. বুখারী হা/১১১৭; আবূদাঊদ হা/৯৫২; ইবনু মাজাহ হা/১২২৩।

[5]. মুসনাদ বায্যার ১/১৭৭; ছহীহাহ হা/২৫৩৭; ছহীহ আত-তারগীব হা/৫৩৯।

[6]. বুখারী হা/৬২৫১, ৬৬৬৭; মুসলিম হা/৩৯৭; আবূদাঊদ হা/৮৫৬; নাসাঈ হা/৮৮৪; তিরমিযী হা/৩০৩; মিশকাত হা/৭৯০।

[7]. বুখারী হা/৬৩১; মিশকাত হা/৬৮৩।

[8]. মুসলিম হা/১৭১৮; মিশকাত হা/৫৩১৫।

[9]. বুখারী হা/৭৫১, ৩২৯১; আবূদাঊদ হা/৯১০; মিশকাত হা/৯৮২।

[10]. মুসলিম হা/৪২৯; নাসাঈ হা/১২৭৬; মিশকাত হা/৯৮৩।

[11]. মুসলিম হা/৪২৮; ছহীহুল জামে‘ হা/৫৪৮১; ছহীহ আত-তারগীব হা/৫৫১।

[12]. মুসলিম হা/২৫১; তিরমিযী হা/৫১; ইবনু মাজাহ হা/৪২৮।

[13]. আবূদাঊদ হা/৬১; ইবনু মাজাহ হা/২৭৫; হাসান ছহীহ।

[14]. বুখারী হা/৭৯৩, ৬২৫১, ৬২৫২, ৬৬৬৭ মুসলিম হা/৩৯৭।

[15]. বুখারী হা/৬৪৬৫; মুসলিম হা/৭৮৩; মিশকাত হা/১২৮২।

[16]. মুসলিম হা/৭৮৫; নাসাঈ হা/১৬৪২; ইবনু মাজাহ হা/৪২৩৮।

[17]. মুসলিম হা/৮৫; ছহীহুল জামে‘ হা/১০৯৩।

[18]. তিরমিযী হা/১৪৯ ‘ছালাত’ অধ্যায়, ‘ছালাতের ওয়াক্তসমূহ’ অনুচ্ছেদ; আবূদাঊদ হা/৩৯৩; মিশকাত হা/৫৮৩; ছহীহুল জামে‘ হা/১৪০২।

[19]. ছহীহ আবূদাউদ হা/৪৫২; তিরমিযী হা/১৭০; মিশকাত হা/৬০৭; ছহীহ আত-তারগীব হা/৩৯৯।

[20]. বুখারী, মুসলিম হা/১২৭৪; আবূদাউদ হা/৮৯; মিশকাত হা/১০৫৭।

[21]. বুখারী, মুসলিম হা/১২৭৪; আবূদাউদ হা/৮৯; মিশকাত হা/১০৫৭।

[22]. মুসলিম হা/২০১৮; আবূদাঊদ হা/৩৭৬৫; মিশকাত হা/৪১৬১।

[23]. আবূদাঊদ হা/৫০৯৪; মিশকাত হা/২৪৪২, সনদ ছহীহ।

[24]. মুসলিম হা/৭৬৩।

[25]. বুখারী হা/৬৩৬, ৯০৮; মুসলিম হা/৬০৪।

[26]. মুসলিম হা/৭১৩; আবূদাঊদ হা/৪৬৫; মিশকাত হা/৭০৩, ‘মসজিদ ও ছালাতের স্থান সমূহ’ অনুচ্ছেদ।

[27]. আবূদাঊদ হা/৪৬৫; ইবনু মাজাহ হা/৭৭২-৭৩; ছহীহাহ হা/২৪৭৮।

[28]. মুসলিম হা/৭১৩; মিশকাত হা/৭০৩ ‘মসজিদ ও ছালাতের স্থান সমূহ’ অনুচ্ছেদ।

[29]. আবূদাঊদ হা/৪৬৫; ইবনু মাজাহ হা/৭৭৩; ছহীহাহ হা/২৪৭৮।

[30]. আবূদাঊদ হা/৪৬৬; মিশকাত হা/৭৪৯; ছহীহ আত-তারগীব হা/১৬০৬।

[31]. বুখারী হা/১১৬৩; মুসলিম হা/১৬৮৭।

[32]. মুসলিম হা/৮৭৫; আবূদাঊদ হা/১১১৬।

[33]. তিরমিযী হা/৩৮৬; ইবনু মাজাহ হা/৯৭৬; মিশকাত হা/৯৯৪, সনদ ছহীহ।

এ সম্পর্কিত আরও পোস্ট

মন্তব্য করুন

Back to top button