লেখক পরিচিতি

আরিফ আজাদ

চট্রগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র। লেখক, সমালোচক এবং ধর্ম বিষয়ক গবেষণা নিয়ে আছেন।

আরো দেখুন...

One Comment

  1. 1

    Rashed Anjum

    —–“আচ্ছা “কুন-হও” অর্থাৎ এটা হলো স্রষ্টার শ্রেষ্ঠ সৃষ্টি শক্তি। স্রষ্টা বলেন হও আর হয়ে যায়। এখন কেউ যদি স্রষ্টার শ্রেষ্ঠত্ত্বের প্রমাণ দিতে গিয়ে বলে, সে পূর্বানুমান অনুযায়ী কাজ করে তাহলে বুঝতে হবে স্রষ্ঠা তার ক্ষেত্রে যে কুন শব্দটির গুরুত্ব বুঝিয়েছেন সেটা নিতান্ত কথার কথা, সেটা কোনো শক্তি নয়।

    ইতিমধ্যে বাজারে একটি বই খুব সাড়া ফেলেছে “প্যারাডক্সিক্যাল সাজিদ” যা আরিফ আজাদ নামের এক লেখকের লেখা। আমি জানিনা কোরআন ও হাদীসের জ্ঞানে তিনি কতদূর? তবে আল্লাহ পূর্বানুমান অনুযায়ী কাজ করে, যেরকম আমরা অনুমান করে চিন্তা করি, কথা বলি, কাজ করি, যার ফলাফল ভবিষ্যৎকালে ভালো খারাপ যেকোনো একটি হতে পারে। (নাউজুবিল্লা) আল্লাহ আনুমান, আন্দাজ, চিন্তাভাবনা থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত। কারণ আল্লাহ শ্রেষ্ঠ জ্ঞানী, যার মানেই হচ্ছে তিনি সব জানেন, বুঝেন, করেন। যার জন্য আল্লাহ কে অনুমান আন্দাজ করার মধ্যে শামিল করা কুফরি ও শেরেকি।

    প্যারাডক্সিক্যাল সাজিদ বইটায় এরকম একটি যুক্তি ব্যাখ্যা করেছেন। যার মূল বিষয় ছিলো তকদির বা ভাগ্য। সেই ভাগ্য বিষয়টির যুক্তি দিতে গিয়ে বলেছেন আল্লাহ পূর্বানুমান অনুযায়ী কাজ করেন।

    যদি কেউ কোরআন সম্পূর্ণ পড়ে থাকেন তাহলে সেখানে পাবেন যে, অনুমান দ্বারা কাজ হয় মানুষের, অর্থাৎ কাফির মুশরিক অনেকেই অনুমান করে কাজ করে। মানুষ যে অনুমান ভিত্তি দ্বারা কাজ করে এই কথা আল্লাহ কোরআনে দশের অধিক বার উল্লেখ করেছেন। কিন্তু আল্লাহ যে তার বিপরীত সেটার উল্লেখ ও সমপরিমাণ।

    ভাই, কোরআন পড়ুন আল্লাহ সম্পর্কীয় সম্যক জ্ঞান লাভ করুণ। ইসলাম যুক্তিতর্ক সমর্থন করেন। কিন্তু গায়েব বিষয়ে অতিরিক্ত যুক্তি আল্লাহ অপছন্দ করেন না, বরং সে বিষয়ে শুধু বিশ্বাস রাখার গুরুত্ব দিয়েছেন। যেমন, ভাগ্যটাও গায়েবের অধিভুক্ত। এটা নিয়ে যদি কেউ যুক্তি দিতে যায় তাতে বরং শেরেকি ও কুফুরি যুক্তি চলে আসতে পারে।সুতরাং,

    (ইউনুস – ২০)
    বস্তুতঃ তারা বলে, তাঁর কাছে তাঁর পরওয়ারদেগারের পক্ষ থেকে কোন নির্দেশ এল না কেন? বলে দাও গায়েবের কথা আল্লাহই জানেন। আমি ও তোমাদের সাথে অপেক্ষায় রইলাম।

    তাকদির বিষয়ে করণীয়,
    হে আল্লাহ! যাদের আপনি হিদায়াত করে তাদের সাথে আমাকেও হিদায়াত করুন, যাদের আপনি অকল্যাণ থেকে দূরে রেখেছেন তাদের সাথে আমাকেও অকল্যাণ থেকে দূরে রাখুন, যাদের আপনি আপনার অভিভাবকত্বে রেখেছেন তাদের সাথে আমাকেও আপনসার অভিভাবকত্বে রাখুন। আপনি যা দিয়েছেন তাতে আপনি বরকত দিন। আপনি আমার তাকদিরে যা রেখেছেন এর অসুবিধা থেকে আমাকে রক্ষা করুন, আপনই তো ফয়সালা দেন, আপনার বিপরীত তো ফয়সালা দিতে পারে না কেউ। আপনি যার বন্ধু তাকে তো লাঞ্ছিত করতে পারবে না কেউ। হে আমার রব! আপনি তো বরকতময় এবং সুমহান।’’ – ইরওয়া ৪২৯, মিশকাত ১২৭৩, তা’লীক আলা ইবনু খুজাইমাহ ১০৯৫, সহিহ আবু দাউদ ১২৮১, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ [আল মাদানী প্রকাশনী]

    আদম (রহঃ) … আলী (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক জানাজায় নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অংশ নিয়েছিলেন। এসময় তিনি কিছু একটা কাঠি হাতে নিয়ে তা দিয়ে মাটি খুঁড়তে খুঁড়তে বললেন, তোমাদের মধ্যে এমন কোন ব্যাক্তি নেই যার স্থান জান্নাত বা জাহান্নামে নির্ধারিত হয়নি। একথা শুনে সবাই বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! তাহলে কি আমরা আমল করা বাদ দিয়ে আমাদের লিখিত তাকদিরের উপর নির্ভর করে বসে থাকব? উত্তরে তিনি বললেন, তোমরা আমল করতে থাক। কেননা যাকে যে আমলের জন্য সৃষ্টি করা হয়েছে, তার জন্য সে আমলকে সহজ করে দেয়া হবে। সৌভাগ্যের অধিকারী লোকদের জন্য সৌভাগ্য লাভ করার মত আমল সহজ করে দেয়া হবে। এবং দুর্ভাগ্যের অধিকারী লোকদের জন্য দুর্ভাগ্য লাভ করার আমল সহজ করে দেয়া হবে। এরপর তিনি পাঠ করলেন, “সুতরাং কেউ দান করলে, মুত্তাকী হলে এবং যা উত্তম তা গ্রহণ করলে, আমি তার জন্য সুগম করে দেব সহজ পথ এবং কেউ কার্পণ্য করলে ও নিজেকে স্বয়ংসম্পূর্ণ মনে করলে, এবং যা উত্তম তা বর্জন করলে, তার জন্য আমি সুগম করে দেব কঠোর পরিণামের পথ” ।
    [সহীহ বুখারী (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ৫২/ তাফসীর (كتاب تفسير), হাদিস নম্বরঃ ৪৫৮৬]

    Reply

মন্তব্য করুন

অনুগ্রহপূর্বক ইসলামিক অনলাইন মিডিয়া‘র মন্তব্যের নীতিমালা মেনে মন্তব্য করুন। আপনার ই-মেইল ঠিকানা গোপন থাকবে। নামই-মেইল আবশ্যক।

© ২০১১ ইসলামিক অনলাইন মিডিয়া
A Service of xhostbd.com. Designed by M.A. IMRAN